advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গণমাধ্যমের প্রতি ডমিঙ্গোর আহ্বান

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৮:৪১ | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৮:৪১
অনুশীলনের ফাঁকে স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরির সঙ্গে আলাপচারিতায় রাসেল ডমিঙ্গো। ছবি : বিসিবি
advertisement

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট মাঠে গড়াবে আগামীকাল শনিবার থেকে। কিন্তু দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুবই হতাশজনক। এই টেস্ট জিতে জয়ের ধারাফ ফিরতে মরিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এ জন্য ক্রিকেটারদের দরকার সময়। তাই, টাইগারদের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাদের সময় দেওয়ার জন্য।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন ডমিঙ্গো। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তার আলাপন আমাদের সময় অনলাইনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ম্যাচের আগের দিন গেমপ্ল্যান জানাতে। এটা কতটুকু কঠিন সিদ্ধান্ত?

ডমিঙ্গো : দল নিয়ে সভাপতির সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত দৃড়। সে সবসময় চায় দল ভালো করুক। এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি এই বিষয়ে। আমরা গত সপ্তাহে ভালো অনুশীলনের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছি। অফিসিয়ালি আমি এখনো জানতে পারিনি। দল নিয়ে আমাকে আগে থেকে কিছু জানানো প্রয়োজন কি না। এখন পর্যন্ত এটা করার জন্য আমার ওপর কোনো প্রভাব নেই। সভাপতির সঙ্গে আমিও দল নিয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমি বেতন পাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এবং কাজ করার জন্য।

কাল কী পেস আক্রমণ দিয়ে একাদশ সাজানো হবে?

আমরা সম্ভবত দুইজন পেসার নিয়ে খেলব। মাত্র একজন পেসার নিয়ে খেলা আমাদের জন্য ভালো হবে বলে আমি মনে করি না। তিনজন পেসার আমাদের জন্য ভালো হবে যদি না সাত নম্বরে ব্যাটিং করার জন্য আমাদের একজন ব্যাটসম্যান থাকে। সাত নম্বরে সাইফউদ্দিন ফিট না হওয়া পর্যন্ত অথবা অন্য একজন না আসা পর্যন্ত আমাদের দুইজন পেসার নিয়েই খেলতে হতে পারে।

উইকেট কেমন দেখেছেন? 

সকাল ১০টা পর্যন্ত হালকা আদ্রতা দেখা গিয়েছে। এখনো হালকা শীত আছে, তাই প্রথম ১০-১২ ওভার একটূ কঠিনই হবে। আমরা যদি প্রথমে বোলিং করি তাহলে পেসারদের উইকেট নিতে হবে। উইকেটে যাই থাকুক এটা বের করার জন্য আমাদের দুইজন পেসার প্রয়োজন।

টেস্টের জন্য কেমন উইকেট চান?

আমি ভালো মানের ক্রিকেটের উইকেট চাই। আমরা চাই আমাদের পেসাররা প্রথম দিন ভালো করুক এবং স্পিনাররা তৃতীয় দিনের পর থেকে আসুক। ব্যাটসম্যানদের জন্য প্রথম সেশন অনেক কঠিন হবে, কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। অবশ্য স্পিন সহায়ক উইকেট হলে বাংলাদেশ ভালো করবে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে, এটাও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের দলের উন্নয়নের জন্য সবকিছুই মাথায় রাখতে হবে।

মোস্তাফিজকে স্কোয়াডে রাখার কারণ কী?

আমি মনে করি না মোস্তাফিজ এখনো টেস্ট খেলার জন্য প্রস্তুত। তাকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে আমাদের নতুন বোলিং কোচের সাথে যেন টেকনিকেল বিষয়ে কাজ করার জন্য সময় ব্যয় করতে পারে। তাকে খেলানোর জন্য স্কোয়াডে ফেরানো হয়নি। তাকে ট্রেইন করা, একটা শেপে আনার জন্যই দলের সাথে রাখা। আমি মিডিয়াকে নিশ্চিত করে দিচ্ছি মোস্তাফিজ খেলছে না। আগামী ৫ দিন সে দলের সাথে থেকে বোলিং নিয়ে কাজ করবে। কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটে আবারও ফিরে আসা যায় এ নিয়ে। এই মুহূর্তে আমি বলছি, সে টেস্ট খেলার অবস্থায় নেই, তাকে টেকনিকেলি কিছু কাজ করতে হবে। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, সে খেলবে না।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টেস্ট ক্যারিয়ার কী শেষ?

সে এখন দলের বাইরে। তাকে ভবিষ্যতের জন্য বিবেচনায় রেখেছি। সাদা বলে আমি তাকে খুব ভালোভাবেই পরখ করেছি। সে টেস্টে ফেরার জন্য এখন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে এখন পর্যন্ত ৪৯টি টেস্ট খেলেছে এবং বাংলাদেশের একজন দুর্দান্ত পারফর্মার। তবে এখন টেস্ট দলে তার জায়গা নেই। সাদা বলে সে আমাদের প্রধান খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। তাকে টেস্ট খেলা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বলা আমার সাজে না। একজন খেলয়াড় যখন দীর্ঘ সময় ধরে খেলে, পারফর্ম করে এবং সাফল্য নিয়ে এসে দেয় তার অবশ্যই অধিকার আছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সে তার দেশের জন্য কখন খেলা ছাড়বে সিদ্ধান্ত নিজেই নিবে।

টেস্ট দল নিয়ে আপনার মন্তব্য...

বাংলাদেশে ক্রিকেটের উন্মাদনা অনেক বেশি। একইসঙ্গে (ক্রিকেটের জন্য) মিডিয়ার চিন্তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। দলও এসব ছাড়া ঠিকভাবে এগুতে পারবে না। তাই বিষয়গুলো স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন; কিন্তু মানুষকে বুঝতে হবে...আপনি যদি বর্তমান টেস্ট দলের দিকে তাকান, (নাজমুল হোসেন) শান্ত মাত্র ৩টি টেস্ট খেলেছে। সাইফ (হাসান) তার দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে। (আবু জায়েদ) রাহী..., দেখে মনে হবে যেন ৪০ ম্যাচ খেলে ফেলেছে, অথচ তার টেস্টের সংখ্যা মাত্র ৭টি। এবাদত মাত্র ৪ ম্যাচ খেলেছে। এরা খুবই অনভিজ্ঞ। এই দল নিয়ে মাত্র একদিনের প্রস্তুতিতে ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলা সত্যিই কঠিন। তাই দয়া করে ছেলেদের সময় দিন, ধৈর্য ধরুন- এটাই বলতে চাচ্ছি আমি। সমর্থক এবং সংবাদ মাধ্যম থেকে যে সমর্থনটা আসে, সেটা দলের জন্য সত্যিই অনেক বড় বিষয়। আমাদের ভালো খেলতে হবে, এটা ছেলেরাও জানে। ওরা চেষ্টা করছে। তবে বড় বড় দেশগুলোর বিপক্ষে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত হতে, আমাদের মত অনভিজ্ঞ দলের সময়ের প্রয়োজন। তাই ধৈর্য ধরুন। এরাই আপনাদের গর্বিত করবে। কিন্তু সেটুকু সময় দিতে হবে।

advertisement