advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাপিয়ার বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ বিপুল অর্থের সন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২:৪৬
advertisement

আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউর (২৮) নামে-বেনামে ঢাকায় ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়িসহ বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব। পাপিয়া ছিলেন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠজন। এ ঘনিষ্ঠতার সূত্রে অন্যায়ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তিনি। পুলিশের এসআই পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থও হাতিয়ে নিয়েছেন পাপিয়া।

এ ছাড়া অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মাসোহারা আদায়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে তিনি বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল।

গত শনিবার সকালে দেশত্যাগের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া ছাড়াও তার স্বামী ও অপরাধকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবাকে (২২) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার টাকা মূল্যের জালনোট এবং বিপুল পরিমাণ ভারতীয়, শ্রীলংকান ও মার্কিন অর্থসহ ৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, নারীঘটিত অসামাজিক কর্মকা-, জালনোট সরবরাহ, রাজস্ব ফাঁকি, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেট ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক বই, বেশকিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড জব্দ করেছে র‌্যাব।

লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ফার্মগেটে পাপিয়ার ২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নরসিংদী শহরে ২টি ফ্ল্যাট, ২ কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট, চারটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং গাড়ির ব্যবসায় প্রায় দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে নামে-বেনামে অনেক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত আছে বলে জানা গেছে। কোনো সুনির্দিষ্ট পেশা না থাকা সত্ত্বেও বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন পাপিয়া ও তার সঙ্গীরা।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী মতি সুমন রেলওয়ে ও পুলিশের এসআই পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১১ লাখ টাকা, একটি কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা, একটি সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এর বাইরে নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তারা উপার্জন করেছেন। পাপিয়া ও তার সঙ্গীরা বেশিরভাগ সময় রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে থাকতেন।

তিনি আরও বলেন, পাপিয়ার আয়ের অন্যতম আরেক উৎস নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো। ঢাকার বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে কম বয়সী মেয়েদের এনে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো। অন্যথা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এসব মেয়ের অধিকাংশকেই নরসিংদী থেকে চাকরির প্রলোভনে ঢাকায় আনা হয়েছিল।

লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, পাপিয়ার স্বামী সুমন চৌধুরীর ‘কিউ অ্যান্ড সি’ নামে একটি ক্যাডার বাহিনী রয়েছে নরসিংদীতে। তাদের মাধ্যমে অস্ত্র, মাদক কারবার, মাসোহারা আদায়সহ নানা অপকর্ম করতেন তিনি। ওই ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যেকের হাতে ‘কিউ এ্যান্ড সি’ ট্যাটু অঙ্কিত আছে। তাদের আটক করতে নরসিংদীতে র‌্যাবের অভিযান চালানো হয়। তবে তারা অভিযানের আগেই পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ছবি থাকা মানেই সখ্য নয়

পাপিয়ার সঙ্গে বেশকিছু বিশিষ্টজনের ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক বলেন, বর্তমান যুগে কেউ যদি কারও সঙ্গে ছবি তুলতে চান, তা হলে সৌজন্যতার খাতিরে হলেও তা সাধারণত এড়ানো যায় না। তাই কারও সঙ্গে ছবি থাকা মানেই সেই ব্যক্তির সঙ্গে পাপিয়ার সখ্য রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় না। এ বিষয়ে এখনই আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না।

অনলাইন ক্যাসিনো বাণিজ্যের হোতা সেলিম প্রধানের সঙ্গে সরকারের এক পদস্থ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক বলেন, আজকের সংবাদ সম্মেলনটি সুনির্দিষ্ট এ চক্রটির বিষয়ে। তদুপরি যে সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে, সেটি আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়।

গতকাল রবিবার র‌্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পাপিয়াসহ গ্রেপ্তারকৃত চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর বিমানবন্দর থানাপুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলানগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এদিকে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পাপিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল গতকাল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন- ‘এসব সমাজের কীটদের অপকর্মের দায় সংগঠন কখনই নেবে না। এদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কার

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে শামিমা নূর পাপিয়াকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ। গতকাল যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়াকে গঠনতন্ত্রের ২২ (ক) উপধারা অনুযায়ী দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

advertisement