advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডেঙ্গুঝুঁকি বেশি রাজধানীর ১০ শতাংশ এলাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৯:০৮
প্রতীকী ছবি
advertisement

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১২ শতাংশ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১০ শতাংশ এলাকায় ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব এলাকায় অতিরিক্ত মাত্রায় ডেঙ্গুজ্বরের বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। গেল ডিসেম্বরে পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক কর্মশালায় জরিপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. আফসানা আলমগীর খান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে গত ১৮-২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ৯৮টি ওয়ার্ডের এক হাজার বাড়িতে জরিপ পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ডিএনসিসির ৪১ এবং ডিএসসিসির ৫৯টি ওয়ার্ডে এ জরিপ চালানো হয়েছে। মশার লার্ভার ঘনত্ব হিসাব করা হয় ব্রুটো ইনডেক্স (বিআই) সূচকের মাধ্যমে। জরিপে প্রতি ১০০ প্রজনন উৎসের মধ্যে ২০টি বা তার বেশিতে যদি এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায়, তা হলে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বলা যায়। ডিএনসিসি ১২ শতাংশ ও ডিএসসিসি ১০ শতাংশ ওয়ার্ডে এডিসের লার্ভার ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএনসিসির ১২ নম্বর ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পাওয়া গেছে বিআই ৩০। এ ছাড়া ১, ১২, ১৬, ২৮, ৩১ নম্বর বিআই ২০ পাওয়া গেছে। ডিএসসিসির

৫, ৬, ১১, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে এডিসের বিআই ২০ পাওয়া গেছে। ডিএসসিসির ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব বিআই ৫০ এবং ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিআই ৭০ পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহলীনা ফেরদৌসী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোমিনুর রহমান মামুন, ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগের চেয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০১৮ সালে বর্ষাপরবর্তী জরিপ হয়নি। তবে সব ইনডেক্সেই ২০১৭ সালের চেয়ে উপস্থিতি কম। মশার উপস্থিতি, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা আগের বছরের তুলনায় কম পেয়েছি। ঢাকা জুরাইন এলাকায় নির্মিত ফ্লাইওভারের নিচে জমে থাকা পানি হয়ে উঠছে মশার আবাস। মশা নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজনন উৎসে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যদি পানি জমতে দেওয়া না হয় তা হলে মশার লার্ভাই হতে পারবে না। মশার যদি উৎস ধ্বংস না করা হয়, তা হলে শুধু লার্ভিসাইডিং করে মশা কমানো যাবে না। নাগরিকদের এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

জরিপ তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন নির্মাণ এলাকায় মশার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে নজর দিলে মশক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। পানির ড্রামগুলোয় বেশি দিন পানি জমে না থাকে এবং সেদিকে নজর দেওয়া হয় তা হলে মশা নিধনের মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

এ বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে থাকবে জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা অনেক বেশি সচেতনতামূলক কাজ চালিয়েছি। এ জরিপ মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে।

 

advertisement