advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের তিন তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০৩
advertisement

দুর্নীতির মামলায় দ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী বুধবার বিকাল ৫টার মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিকালে গতকাল রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিএসএমএমইউর প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনটি বিষয় জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এগুলো হচ্ছেÑ আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী মেডিক্যাল বোর্ডকে খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের অনুমতি দিয়েছেন কিনা। অনুমতি দিলে সে অনুযায়ী বোর্ড চিকিৎসা শুরু করেছে কিনা এবং চিকিৎসা শুরু করলে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কীÑ এ বিষয়ে সবশেষ তথ্য জানাতে হবে।

আদেশে হাইকোর্ট বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আগে নাকচ করে দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল বিভাগে যান। আপিল বিভাগও কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর আবেদন খারিজ করে দেন। ওই খারিজ আদেশে উল্লেখ রয়েছেÑ বিএসএমএমইউ কর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ওপর বিস্তারিত প্রতিবেদন দিয়েছিল। আপিল বিভাগ ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে প্রদত্ত আদেশে উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া সম্মতি দিলে তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট ‘বায়োলজিক্যাল অ্যাজেন্ট’ শুরু করবেন চিকিৎসকরা। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা প্রতিবেদনে তা জানতে চান হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পরবর্তী আদেশের জন্য জামিন আবেদনটি কার্যতালিকায় থাকবে বলেও আদেশে উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট।

গত মঙ্গলবার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় দফায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে জানিয়ে এতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের মতো দেশে তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। এ জন্য মানবিক কারণে জামিন প্রয়োজন।

গতকাল শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, উনার শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এর আগেও করা জামিন আবেদনে খালেদা জিয়ার যেসব শারীরিক সমস্যা উল্লেখ করা হয়েছিল বর্তমান আবেদনেও সেটিই আবার তুলে ধরা হয়েছে। দুটি আবেদনে মধ্যে বাক্য বা শব্দের কোনো পরিবর্তন নেই। একই যুক্তিতে আবার জামিন চাওয়া বিব্রতকর। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, নতুন গ্রাউন্ডে (যুক্তি) জামিন চাইতে পারেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সেটি চাইতে পারেন। কিন্তু আপিল বিভাগের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করার সুযোগ ছিল। আপিল বিভাগের সবশেষ আদেশ তুলে ধরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সম্মতিসাপেক্ষে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের কথা বলা হয়েছে এতে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউর সুনাম রয়েছে। সেটি জামিন আবেদনে উনারা স্বীকার করে নিয়েছেন। ফলে উন্নত চিকিৎসা শুরু করতে এখন খালেদা জিয়ার সম্মতি দরকার। কিন্তু উনি সম্মতি দিচ্ছেন না। সম্মতি না দিয়ে নতুন করে আবার জামিন চেয়েছেন।

জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, আপিল বিভাগের আদেশ হয়েছে দুই মাস হলো। এতদিন পর তার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম হাসপাতালে তার সঙ্গে দেখা করে শারীরিক অবনতির বিষয়টি জানিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার মুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন। আদালত বলেন, আপিল বিভাগের আদেশ কি বাস্তবায়ন করেছেন? উনি কি সম্মতি দিয়েছেন উন্নত চিকিৎসা শুরু করতে? জয়নুল আবেদীন বলেন, উনি উন্নত চিকিৎসা করাতে চান। অনেকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান।

এ সময় দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, কায়সার কামাল, সগীর হোসেন লিয়ন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে এ মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদ ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। মামলার অন্য আসামিদেরও একই সাজা এবং ট্রাস্টের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘোষণা করেন আদালত। একই বছরের ১৮ নভেম্বর সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতের দেওয়া জরিমানার আদেশ স্থগিত করে মামলার নথি তলব করেন। পরে ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। এতে ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে জামিন চান খালেদা জিয়া। ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগও আবেদন খারিজ করেন।

advertisement
Evall
advertisement