advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে

আদালত প্রতিবেদক
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৮:৪০ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৯:২৫
ফাইল ছবি
advertisement

নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে হত্যা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ মঙ্গলবার পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ঢাকা সিএমএম আদালতের ডেসপাস শাখায় এ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার ৬০০ পৃষ্ঠার ওই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি ডেসপাস শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হেলাল উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, প্রতিবেদনটি আজ আদালতে সিএমএম আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সনাক্তের জন্য উপস্থাপিত হবে। এরপর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ধার্য তারিখ আগামী ৩০ মার্চ প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে মামলার বাদী সালমান শাহের মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হলেও তারা হতে পাননি। হাতে পেলে প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এর আগে গতকাল সোমবার ধানমন্ডির পিবিআই দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। সেখানে বলা হয়, সালমান শাহকে কেউ হত্যা করেনি বা অত্মসহত্যার প্ররোচনাও দেয়নি। সে মূলত চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সালমানের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী বা আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমানে রূপ নেওয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতার কারণেই আত্মহত্যা করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের ১১/বি নিউস্কাটন রোর্ডের স্কাটন প্লাজার বাসান নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামেলি পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিংসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। উক্ত মামলা প্রথমে রমনা থানা পুলিশ পরে ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির তদন্ত করেন। তদন্তকালে সালমান শাহর লাশের প্রথম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ময়নাতদন্ত করে মৃত্যু আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেন। পরিবারের আপত্তি দিলে লাশ কবর থেকে তুলে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পচে যাওয়ার কারণে মৃত্যুর কারণ নির্নয় কারা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন। সে অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তা অপমৃত বলেই প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর বাদী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে নারাজী দিলে ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মজিবুর রহমান তদন্ত করেন। তিনি তদন্তকালে ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই সালমানের বাবার ডিওএইচএস’র (জোয়ার সাহারা) বাসায় রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ নামের যুবকের আগমন ঘটে। মিথ্যা পরিচয়ে ওই যুবকের বাসায় প্রবেশের অভিযোগে তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের কাছে সোপার্দ করে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় রেজভীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে সালমান শাহ হত্যার কথা স্বীকার করে তার সহযোগী হিসেবে ডন, ডেভিড, ফারুক, আজিজ মোহাম্মাদ ভাই, সাত্তার, সাজু, সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা, সামিরার মা লতিফা হক লুসি ও জনৈক রুবির নাম প্রকাশ করে। পরে ১৯৯৭ সালের ২২ জুলাই আদালতের তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়।

এরপর বাদী কমর উদ্দিন অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরের আবেদন করলে ১৯৯৭ সালের ২৭ জুলাই অপমৃত্যুর মামলা এবং কেন্টনমেন্ট থানার ওই মামলা একত্রে তদন্তের জন্য সিআইডিকে দেওয়া হয়। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান প্রায় সাড়ে ৩ মাস তদন্তের পর ১৯৯৭ সালের ২ নভেম্বর প্রতিবেদনে বলেন, ‘রেজভী হত্যাকাণ্ডে নিজে জড়িত এবং অন্যানদের জড়িত থাকার বিষয় নাম প্রকাশ করলেও পরে জেলখানায় সে জানিয়েছে সালমান শাহ হত্যার বিষয়ে সে কিছুই জানে না। এতে প্রমাণিত হয় যে তার স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছা প্রদত্ত ছিল না। মূলত সালমান শাহর সঙ্গে নায়িকা শাবনূরের অতিরিক্ত ঘনিষ্টতার কারণে তার স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্ত কলহের কারণেই সে আত্মহত্যা করেন। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজী দিলে ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে যায়। প্রায় ১৫ বছর ধরে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন ও মা নিলুফার চৌধুরী ওরফে নিলা চৌধুরীসহ ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে প্রতিবেদন দাখিল হয়। এরপর ওই বছর গত ২১ ডিসেম্বর মা নিলুফার চৌধুরী নারাজী দিলে ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে র‌্যাবকে তদন্তে দেওয়া আদেশ উচ্চ আদালত তর্কৃক বেআইনি ঘোষিত হলে ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। এ সংস্থা ৩ বছর ২ মাস তদন্তের পর প্রতিবেদন দাখিল করল।

advertisement
Evall
advertisement