advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস কম্বোডিয়ার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২০:৪৩ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২০:৪৪
সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম (বাঁয়ে) এবং কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াত সোফিয়া। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে কম্বোডিয়া। অন্যদিকে মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) প্লাটফর্ম থেকে সিভিল সোসাইটি গ্রুপ (সুশীল সমাজ) এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মিলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কম্বোডিয়াকে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ।

আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া যৌথ কমিশনের প্রথম বৈঠকে এ আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।

আসিয়ান সদস্য দেশ হিসেবে কম্বোডিয়া বাংলাদেশের প্রস্তাবনাটি সক্রিয়ভাবে আমলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং কম্বোডিয়ার পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াত সোফিয়া। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কম্বোডিয়া মিয়ানমারকে বোঝাতে পারে। মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) প্লাটফর্ম থেকে সিভিল সোসাইটি গ্রুপ (সুশীল সমাজ) এবং রাজনৈতিক লিডারশীপ মিলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কম্বোডিয়াকে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে আমরা।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের আত্মবিশ্বাসের যে অভাব সেই জায়গায় বিল্ডিং হিসেবে আমাদের প্রস্তাবনায় তারা (কম্বোডিয়া) বলেছে, বিষয়টি তারা সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবেন। কম্বোডিয়ান প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তিনি দেশে গিয়ে এটা নিয়ে আলোচনা করবেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট আসিয়ান। ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমার ও কম্বোডিয়াও।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আসিয়ানের প্লাটফর্ম ব্যবহার করে কম্বোডিয়া মিয়ানমারের সঙ্গে সামনের দিনে আলোচনা আরও বাড়াবেন বলে আশ্বস্ত করেছিল। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের বন্ধু হিসেবে তারা এই দায়িত্বটি পালন করবে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াত সোফিয়া বলেন, ‘আসিয়ানের সদস্য দেশ হিসেবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কম্বোডিয়া বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কম্বোডিয়া দুই দেশের বন্ধু হিসেবে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) সই হয়।’

প্রতি দুই বছর পরপর বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে জানান প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে প্রথম জয়েন্ট কমিশন বৈঠক হয়েছে। আমরা এখন থেকে দুই বছর পরপর বৈঠক করব। এরপর ২০২২ সালে আবার বৈঠক করব। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের সার্বিক বিষয়গুলো আলোচনা করব।’

বৈঠকে আলোচনার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিক্ষেত্রে বিশেষ করে পাট এবং চাল উৎপাদনে আমাদের কৃষকরা কীভাবে তাদের (কম্বোডিয়ার) দেশের জমিগুলো ব্যবহার করতে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের কৃষিমন্ত্রী পর্যায়ে কথা হবে। চলতি বছরেই দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বৈঠক হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।’

সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আগামী তিন বছর যৌথ প্রোগ্রাম করবে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া। এ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা কালচারাল বিনিময়ে আগামী তিন বছরব্যাপী যৌথ গ্রোগ্রাম করব। এটার একটা গ্রাফ তাদের কাছে হ্যান্ডওভার করেছি।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী কম্বোডিয়াতেও পালন করা হবে বলে জানান তিনি।

কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াত সোফিয়া বলেন, ‘আমরা দুই দেশ একযোগে মুজিববর্ষ পালন করতে একমত হয়েছি।’ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

advertisement
Evall
advertisement