advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা উদ্বেগে ওমরাহ ভিসা স্থগিত করল সৌদি

গোলাম সাত্তার রনি ও ইউসুফ আরেফিন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:২৩
advertisement

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে পবিত্র নগরী মক্কায় ওমরাহ হজযাত্রী এবং মদিনায় মসজিদে নববীতে ভ্রমণকারীদের সৌদি আরবে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটি। তবে এমপ্লয়মেন্ট ভিসাধারীরা নির্ধারিত ফ্লাইটে সৌদি আরব যেতে পারবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। তবে ইতোমধ্যে যারা ওমরাহ ও ভ্রমণ ভিসায় সৌদি আরব অবস্থান করছেন, তারা নিয়মিত ফ্লাইটে দেশে ফিরতে পারবেন।

সৌদি আরবের আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওমরাহ হজযাত্রী ও হজ এজেন্সিগুলো। দেশের ট্রাভেল এজেন্সি মালিকদের দাবিÑ হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে তাদের ৪০-৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ওমরাহ যাত্রীরাও।

সৌদি সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যারা ওমরাহ করতে চাচ্ছেন বা মদিনায় মসজিদে নববীতে যেতে চাচ্ছেন, করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তাদের প্রবেশাধিকার অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির ইংরেজি দৈনিক আরব নিউজ এবং সৌদি গেজেট এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

হঠাৎ সৌদি গমন বন্ধ হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের ওমরাহ হজযাত্রীরা। গতকাল প্রায় এক হাজার ওমরাহ গমনেচ্ছুক বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন, তারা সৌদি আরব যেতে পারবেন না। বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-জেদ্দা রুট, চট্টগ্রাম-মদিনা রুট, এমিরেটস এয়ারলাইনস এবং সৌদি এয়ারলাইনসে এসব যাত্রীর সৌদি আরব

যাওয়ার কথা ছিল। ওমরাহ যাত্রী মোজাম্মেল হক ও মাসুদ মিয়া ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল বিকালে

আমাদের সময়কে বলেন, সৌদি সরকার সকালে সিদ্ধান্ত জানালেও আমাদের তা জানানো হয়নি। আমরা বিমানবন্দরে এসে জানতে পেরেছি। আমরা বিড়ম্বনায় পড়েছি। এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার জানান, ওমরাহ ও ভিজিট ভিসায় সৌদি আরব যেতে যারা টিকিট কিনেছেন, তারা চাইলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। অথবা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আসন খালি থাকলে সেসব ফ্লাইটে ফের তাদের জন্য আসন বরাদ্দ করা হবে।

আল নাফি ট্রাভেলস এজেন্সির মালিক নাজিম উদ্দিন বলেন, ওমরাহর জন্য ভিসা ফি সৌদি সরকারের তহবিলে চলে যায়। এ টাকা ফেরত আসবে না। হোটেল বুকিংয়ের জন্য সামান্য অর্থ পরিশোধ করা হয়। সেগুলোও ফেরত পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া যেসব ওমরাহ যাত্রী গ্রুপে বিমানের টিকিট কিনেছেন, তারাও ভাড়ার টাকা ফেরত পাবেন না। ফলে এজেন্সিগুলোর ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি ওমরাহ যাত্রীরাও ক্ষতির মুখে পড়লেন। তবে আমাদের ধারণাÑ সৌদি সরকার দ্রুতই এ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করবে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তে আমাদের ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। যাদের ভিসা আছে, তারা যেতে পারবেন কিনা বিষয়টি অস্পষ্ট।

তিনি বলেন, এজেন্সিগুলোর প্রায় ১০ হাজার ওমরাহ ভিসা করা আছে। এর বিপরীতে প্রায় পাঁচ হাজার টিকিট কাটা আছে। এর মধ্যে দুই হাজার টিকিট কম খরচের এয়ারলাইনসের, এগুলোর টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। সেখানে প্রায় ৯ কোটি টাকার টিকিট কাটা আছে। ভিসাগুলোর জন্য সৌদি সরকারকে ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সাধারণ ক্যারিয়ারে যে তিন হাজার টিকিট কাটা আছে, সেগুলোর জন্যও আর্থিক ক্ষতি হবে। হোটেল বিল ও ভিসা মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ কোটি টাকা। এতে এজেন্সি ও ওমরাহ যাত্রী উভয়পক্ষের ক্ষতি হবে।

advertisement
Evall
advertisement