advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি
মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল, আবেদন শুধু অনলাইনে

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:৩২
আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০১:৩২
advertisement

একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে ৯৫ শতাংশ আসন উন্মুক্ত থাকবে। ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান/সন্তানের সন্তানদের জন্য। এটি ছাড়া বাকি সব কোটা বাতিল করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালা-২০২০ খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে ভর্তির জন্য এসএমএস পদ্ধতিতে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়নি। আবেদন করতে হবে অনলাইনে।
গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও রাজধানীর কয়েকটি কলেজের অধ্যক্ষ।
বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, আগের নীতিমালায় ১০০ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে মেধা কোটায় ভর্তির পর শূন্য আসনে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/সন্তানের সন্তানদের জন্য, ৩ শতাংশ বিভাগীয় এবং জেলা সদরের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য, ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধস্তন দপ্তরগুলো এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী ও স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যদের সন্তানদের জন্য, ০.০৫ শতাংশ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) জন্য, ০.০৫ শতাংশ প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। কোটার অপব্যবহার রোধ করতে নতুন নীতিমালায় মেধা তালিকায় ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়।
২০২০ সালের নীতিমালায় ভর্তির জন্য এসএমএস পদ্ধতিতে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়নি। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। ১৫০ টাকা ফি জমাসাপেক্ষে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগের নীতিমালায় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক থেকে এসএমএসের মাধ্যমে
আবেদনের সুযোগ ছিল। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ সুযোগের অপব্যবহার করছে। এতে শিক্ষার্থীদের অজান্তে তাদের নামে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পছন্দ দেখিয়ে আবেদন করা হতো। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধ করতে এবার আর এসএমএসে আবেদন করার সুযোগ রাখতে চায় না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া এসএমএসে আবেদনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ব্যয় বেশি ছিল। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদনের জন্য ১২০ টাকা করে দিতে হতো।
এ বছর শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রাথমিক নিশ্চায়ন করতে ফি বাড়িয়েছে ৫ টাকা। গত বছর ছিল ১৯৫ (রেজিস্ট্রেশন ফি ১৩০ টাকা, ক্রীড়া ফি ৩০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ৮ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা, বিএনসিসি ফি ৫ টাকা) টাকা। এবার রেজিস্ট্রেশন ফিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি করে নেওয়া হবে ২০০ টাকা।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা জারি করার পর আগামী ১০ মে থেকে অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা শুরু হবে। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছেÑ মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেশনচার্জসহ সর্বসাকল্যে ১ হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি ফি নেওয়া যাবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিওবহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য ভর্তির সময় ওই প্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি বাবদ বাংলা মাধ্যমে ৯ হাজার টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। এ ছাড়া সরকারি কলেজগুলো পরিপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি সংগ্রহ করবে। দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে ফি যথাসম্ভব মওকুফ করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সব ফি রসিদের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে এই নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটানো হলে বেসরকারি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলসহ কলেজটির এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement
Evall
advertisement