advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভালোবাসার মোড়কের নাম ‘তুমি রবে নীরবে’

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৫৫
আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৫৫
advertisement

রাজনীতি, সমাজ, সংসার ও ব্যক্তি জীবনে সুপ্ত থাকা ভালোবাসা এবং যন্ত্রণার এক মোড়কের নাম ‘তুমি রবে নীরবে’।  যেখানে লেখক হেঁয়ালির ছলে তুলে ধরেছেন বহু বলতে না পারা কথা। উপন্যাসটি মূলত প্রেমের। তবে এই প্রেমের মাঝেও শত বৈচিত্রের দেখা মেলে। পাগলের সংলাপে যেমন খুঁজে পাওয়া যায় সত্যের ঝাঝালো স্বাদ, তেমন প্রেমিকের নীরবতাতেও মেলে তৃপ্ততা। আবার প্রেমিকার চোখের জল বলে দেয় ওই হাতটি আরেকবার ধরতে না পারার আকুতি।

উপন্যাস যদি হয় জীবনের বাস্তব নির্মমতা বলার ক্যানভাস। তবে ‘তুমি রবে নীরবে’কে সার্থক উপন্যাস না বলার কোনো অবকাশ নেই। কেননা, এই স্পষ্ট ভাবেই চোখে পরে শ্রেণি-বৈষম্যের ছাপ। লেখক এখানে খুব সুন্দর করেই তুলে ধরেছেন সংসারের ওই প্রেমগুলোর কথা, যা অনেক সময় খালি চোখে ধরা পরে না।

বাবা-ছেলে। বন্ধুতে বন্ধুতে। দূর থেকে দেখা সুন্দরী তরুণী। আবার অন্য কোনো তরুণীর লাজুক মুচকি হাসির মাঝে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার মায়াগুলো নিয়েই সাজানো হয়েছে ‘তুমি রবে নীরবে’ উপন্যাসটি। এখানে প্রেমের আড়ালে ফুটে উঠে শহর ও গ্রামের পার্থক্য। গ্রামের ছেলেটার কাছে প্রেম মানে কাদামাটির গন্ধে মিশে থাকা মেঠো পথে হাঁটা। পুকুর ধারে বসা। হাতটা ছুঁয়ে দুটো কথা বলা। সূর্যের মাঝে মুগ্ধতা খুঁজে বেড়ানো। আর পূর্ণিমার চাঁদে প্রিয়তমার মুখকে খুঁজে পাওয়া। অন্যদিকটা কেমন যেন উল্টো। এখানে কাদামাটি তেমন ভালো কিছু না। বরং মন্দ। বার্গার, জুস, রেস্টুরেন্ট, লং ড্রাইভ; এই শব্দগুলো যেন প্রেমের প্রথম শর্ত। তবে এই চিত্রও পাল্টায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। গল্পে ঘুরে দাঁড়ানোর ছবিও নিপুণ হাতে এঁকেছেন লেখক সাকিব রায়হান।

‘এই হলো শালা আমাদের সমস্যা। কি বুঝে কি চাই সেটাই বুঝি নে। ওই এক চাল-ডালের দামের হিসাব করেই উন্নয়নের দর কষাকষি করে যাচ্ছি। আমরা সব শালার বোকা চোদা হয়ে গেছি।’ চায়ের দোকানে বসে গপ্প করাদের মধ্যে এক বয়স্ক লোকের এমন উক্তিই পাঠককে ভাবনায় ফেলে দেয়; এ শুধু দুই কপতকপতির প্রেম আলাপ নিয়ে রচিত পটভূমি নয়। এখানে লুকায়িত আরও নানান সংলাপে ছবিটা আস্তে আস্তে পরিষ্কার হতে থাকে। ‘বৃষ্টি কেমন যেন মন খারাপ করা ভালো লাগার জন্ম দেয়’, অন্যদিকে প্রেমের এমন শত শত সংলাপ মনে দাগ কেটে যায়।

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো যেন একে অন্যকে ছাড়া অসহায়। এখানে দিন শেষে সবাই সবার আপন। ফেলে নাসা পথের ধারে আরেকবার অপেক্ষায় থাকতে আপত্তি নেই কারও। তবে আফসোস থেকে যেতে পারে যদি ‘তুমি রবে নীরব’র পাতাগুলো না উল্টে দেখা হয়।

advertisement
Evall
advertisement