advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিহত বেড়ে ৪২
স্বাভাবিক হচ্ছে দিল্লি, রাস্তায় কড়া পুলিশি টহল

আমাদের সময় ডেস্ক
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১:৫৪
advertisement

প্রাণঘাতী দাঙ্গার পাঁচদিন পর দিল্লির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দোকানপাট খুলতে দেখা যায়। রাস্তায় ছিল প্রচুর গাড়ি। অফিসমুখী মানুষের ভিড়ও দেখা গেছে। তবে ঘরবাড়ি ছাড়া মানুষজন এখনো ফেরেননি। দিল্লি রাজ্য সরকার তাদের জন্য ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। দাঙ্গা শুরুর পর থেকে নীরব ভূমিকার জন্য সমালোচিত পুলিশ এদিন ব্যাপক সক্রিয় ছিল। কড়া টহলের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি এবং ৬শ’র বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও মৃত্যু হয়েছে চিকিৎসাধীন চারজনের। এ নিয়ে গত রবিবার শুরু হওয়া দাঙ্গায় প্রাণ হারালেন ৪২ জন। আহত হয়েছেন ৩৫০ জনেরও বেশি। খবর : এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু ও নিউইয়র্ক টাইমস। এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও জনমনে আতঙ্ক কাটেনি। বিবিসির এক খবরে বলা হয়, দিল্লির রাস্তাঘাটে সামান্য কিছু যান চলাচল শুরু হলেও মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকা ব্রিজপুরি আর মুসলমান-অধ্যুষিত মুস্তফাবাদের মানুষ রাত জেগে মহল্লায় পাহারা দিচ্ছেন। জাফরাবাদ-মৌজপুর-গোকুলপুরি-ভজনপুরাসহ অনেক এলাকায় ঢোকার প্রবেশপথগুলো ব্যারিকেড ফেলে আটকে দেওয়া হয়েছে। চলাচলের সময় বাসিন্দারাই বহিরাগতদের পরিচয় পরীক্ষা করছেন। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন
আইনের (সিএএ) সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে গত রবিবার সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ক্রমেই তা হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গায় রূপ নেয়। শুরু থেকেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ছিল। গতকাল তাদের ব্যাপক সক্রিয় দেখা যায়। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় ৭ হাজার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। জুমার নামাজ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় কড়া টহল দেয় তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সমালোচনার মুখে দিল্লি পুলিশের কমিশনার অমূল্য পাট্টনায়েককে সরিয়ে তার স্থলে গতকাল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এসএন শ্রীবাস্তবকে। তিনি আজ দায়িত্ব নেবেন। এ দিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধানী কমিটি করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বিবেচনায় উপদ্রুত এলাকায় বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছু সময়ের জন্য শিথিল করা হচ্ছে। জনগণকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টিকারীদের গুজবে কান না দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় বড় কোনো অঘটন ঘটেনি জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, দিল্লির ২০৩টি থানার মধ্যে মাত্র ১২টিতে (৪ দশমিক ২ শতাংশ) দাঙ্গা হয়েছে। গতকাল ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানায়, দাঙ্গায় তিন দিনে ৭৯টি বাড়ি, ৫২টি দোকান, ৩টি কারখানা, দুটি স্কুল, কয়েকটি মসজিদ এবং ৫০০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দাঙ্গার ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত থানায় ১২৩টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ৬৩০ জনকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। পুলিশ দাঙ্গার ঘটনায় বেশকিছু অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি পুলিশকে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এ ক্ষেত্রেও মুসলমানদের টার্গেট করা হচ্ছে বেশি।
উপদ্রুত এলাকাগুলোয় ঘরবাড়ি ছাড়া মানুষজনকে ফেরাতে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। যাদের ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের ২৫ হাজার রুপি করে দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষায় ২২ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।
দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে রাজনৈতিক চাপান-উতোরের মধ্যে গতকাল ওডিশায় এক জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর প্রতি তোপ দাগিয়েছেন। তার অভিযোগ, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো সিএএ নিয়ে জনগণকে ভুল বোঝাচ্ছে। দাঙ্গা উসকে দিচ্ছে।

 

advertisement
Evall
advertisement