advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দিল্লিতে সহিংসতা
অবিশ্বাস ভীতির রাজ্যে মানুষের বিচরণ

আমাদের সময় ডেস্ক
২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ২৩:৫৫
advertisement

দাঙ্গার কারণে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে ভারতের দিল্লির মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত। তার বদলে এখন ভীতি আর অবিশ্বাসই যেন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অবনতি হয়েছে মানুষের মানসিক অবস্থার। গত বৃহস্পতিবার বিবিসির সাংবাদিক শুভজ্যোতি ঘোষ দাঙ্গাবিধ্বস্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লি ঘুরে এমন অবস্থার একটি চিত্র তুলে ধরেছেন।

দিল্লির রাস্তাঘাটে সামান্য কিছু যান চলাচল শুরু হলেও মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকা ব্রিজপুরি আর মুসলিম-অধ্যুষিত মুস্তফাবাদের মানুষ রাত জেগে মহল্লায় পাহারা দিচ্ছেন। খুব কম এলাকায় দুই সম্প্রদায় মিলে ‘শান্তি কমিটি’ গড়ে তুলতে পেরেছে।

জাফরাবাদ মৌজপুর গোকুলপুরি ভজনপুরাসহ অনেক এলাকায় অবিশ্বাসের পাল্লাটাই ভারী। গলিগুলোয় ঢোকার প্রবেশপথগুলো পাথর বা ব্যারিকেড ফেলে আটকে দেওয়া হয়েছে। চলাচলের সময় বাসিন্দারাই বহিরাগতদের নাম-পরিচয় পরীক্ষা করছেন।

এদিকে মারামারি ও লুটপাটের সময় পুলিশের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন

সাধারণ মানুষ। প্রশাসন রক্তপাত থামানোর বদলে উসকে দিতে সাহায্য করেছে বলে অভিযোগ করেন শিব বিহারের বাসিন্দা শাজাহান আলি। সহিংসতার পর আহতদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকার পরও আসেনি বলে অভিযোগ এসেছে।

ব্রিজপুরির হিন্দু বাসিন্দা প-িত মোহন শর্মা বলেন, গত দুমাসের ওপর ধরেই পাড়ার মসজিদে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছিল। কিন্তু তা শান্তিপূর্ণই ছিল। পরিবেশ আচমকা এতটা অশান্ত হয়ে উঠল কীভাবে, সেটা আমার মাথায়ই ঢুকছে না।

তার প্রতিবেশী মহম্মদ রফিক বলেন, সেদিন সকাল থেকেই শুনছিলাম, গ-গোল হতে পারে। বিকাল ৪টা নাগাদ পাথর-ইট-পাটকেল-পেট্রলবোমা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে গেল। কে আগে করেছে জানি না, কিন্তু খুব খারাপ হয়েছে।

কয়েকজন বাইক আরোহী বিবিসির এই সাংবাদিককে বলেন, মুসলিমরা যেখানে খুশি রাস্তা আটকে বসে পড়বে, আমরা হিন্দুরা কি চুড়ি পরে বসে থাকব নাকি?

যমুনা বিহারের এক মুসলিম গার্মেন্ট ব্যবসায়ী জানান, তিনি নিজের কারখানার ১১ জন হিন্দু শ্রমিককে ওল্ড দিল্লি স্টেশন থেকে বিহারের ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে এসেছেন। তার বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে ওদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। অথচ ওরা প্রায় দশ-বারো বছর ধরে আমার এখানেই কাজ করছে, কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।

দুই সম্প্রদায় দুপক্ষকে অপরাধী বলে মনে করছেন। অবিশ্বাস যেন তাদের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। এই অবিশ্বাস দূর হবে কীসে- কারও জানা নেই।

advertisement
Evall
advertisement