advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এবার ওমানে বিমানের সব ফ্লাইট বন্ধ

বাইজিদ আল-হাসান,ওমান
১৭ মার্চ ২০২০ ১৭:৫১ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২০ ১৭:৫৩
advertisement

ইউরোপসহ কয়েকটি দেশের পর এবার ওমানে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গতকাল সোমবার দেওয়া ঘোষণার পর আজ মঙ্গলবার থেকে দেশটিতে কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করবে না বিমান।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস আতঙ্ক এখন বিরাজ করছে বাংলাদেশেও। মরণব্যাধী এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে বা অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশে বিমানের কোনো ফ্লাইট চলাচল করবে না। ওমানের সুপ্রিম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই এ ঘোষণা দেয় বিমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) মোকাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, ‘ওমানের সুপ্রিম কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭ মার্চ মধ্যরাত থেকে ওমানের অধিবাসী ছাড়া কেউ সেদেশে প্রবেশের অনুমতি পাবে না। এরই প্রেক্ষাপটে বিমান ওমানের রাজধানী মাস্কাটে নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ করতে যাচ্ছে।’

পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিমান ও দেশের অন্যান্য সকল ওমানগামী ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলেও জানান মোকাব্বির হোসেন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ওমানের সুপ্রিম কোর্টের এক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ১৭ মার্চ থেকে শুধুমাত্র ওমানি এবং জিসিসি তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিক ব্যতীত ওমানে সব দেশের প্রবাসীদের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জিসিসিভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ হলো- সৌদি আরব, ওমান, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ইরাক। এর মধ্যে কুয়েত, কাতার, সৌদি আরবে ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিমান।

ওমানের মাস্কট বিমানবন্দরে কর্মরত বিমানের স্টেশন ম্যানেজার শওকত হোসেন মুঠোফোনে আমাদের সময়কে বলেন, ‘আজ মধ্যরাত থেকে ওমানি নাগরিক ও জিসিসির নাগরিক ব্যতীত সকল প্রবাসীদের ওমানে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানের ওমানি এবং জিসিসির অন্যান্য দেশের যাত্রী নাই বললেই চলে, তাই বাধ্য হয়ে এখন যাত্রী শূন্যতায় ওমানে আজ রাত থেকে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করতে হচ্ছে।’

শওকত জানান, গতকালই এই রুটে বিমানের শেষ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। মাস্কট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণে চট্টগ্রাম থেকে মাস্কটগামী ফ্লাইটটি (বিজি ১২১) রাত ৯টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ছাড়ে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্য ওমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত রোববার ওমানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ হামুদ বিন ফয়সাল আল বুসাইদী এক নিষেধাজ্ঞায় বলেন,

১. জিসিসিভুক্ত দেশের লোক আর ওমানি নাগরিক ব্যতীত আকাশপথে কোনো বিদেশী নাগরিক ওমানে প্রবেশ করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে ওমানে ভাইরাস ব্যাপক আকার ধারণ করলে দেশটিতে সব ধরনের ফ্লাইট ও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

২. ওমানে আগত সকলকে স্থল ও সমুদ্র সীমান্তে হোম কোয়ারেন্টিনে বাধ্যতামূলক থাকতে হবে।

৩. ওমানে বেড়ানোর মতো সব পাবলিক উদ্যান এবং পার্কগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

৪. শুক্রবারে জুমার নামাজ পড়াও স্থগিত করা হয়েছে।

৫. বিয়েসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ।

এদিকে ওমান সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিমানের ফ্লাইটবন্ধে বিপাকে পড়েছে দেশে ফিরতে চাওয়া বাংলাদেশি প্রবাসীরা। দেশে ছুটিতে আসা ওমান প্রবাসীরাও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন। এ ব্যাপারে ওমানস্থ বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম.এন আমিন আমাদের সময়কে বলেন, ‘আশা করি ছুটিতে থাকা প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ চলে গেলেও পুনরায় প্রবেশে তেমন অসুবিধা হবে না। কারণ, এটি একটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। নিশ্চয়ই তারা এটির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখবেন।’

advertisement
Evall
advertisement