advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জলছবির বাংলাদেশ : বড্ড ভালোবাসি তোমায়

পলাশ বসু
২৩ মার্চ ২০২০ ২১:৩৯ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২০ ২৩:১২
পলাশ বসু
advertisement

একটা অস্থির সময় চলছে গোটা পৃথিবী জুড়ে। কলকাকলিতে মুখর ধরিত্রী আজ যেন বেদনায় নত। আমাদের অসহায়ত্ব আজ বড্ড বেশি চোখে পড়ছে। তবুও জীবনের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক অবিশ্রান্ত জীবনের ধারা; বেঁচে থাকার প্রয়াস যেখানে সীমাহীন। সেই সীমাহীনতার হাতছানিই আমাদের ভেতরে আশা সঞ্চারিত করে। সেই আশাই আমাদেরকে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুরন্ত সাহস জোগাবে। আর সেই সাহসে বলীয়ান হয়েই আমরা এ প্রতিকুলতা কাটিয়ে উঠব- এ বিশ্বাস নিয়ে সামনের দিকে তাকাতে চাই।

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো আমাদের জলছবির বাংলাদেশও এখন অনেকটা স্থবির। বায়ুহীন নিস্তরঙ্গ নদীর মতো শুধুই বয়ে চলেছে। জনজীবনে এক সময়কে যদি থামিয়ে দেওয়া যেত তাহলে আমাদের এ বাংলা শুধু নয়; হয়ত পুরো পৃথিবীকে আমরা ডিসেম্বর, ২০১৯ এর আগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতাম। তখন কলহাস্যে পরিপূর্ণ এক স্বাভাবিক জীবনও আমরা ফিরে পেতাম।

আমাদের জলছবির যে প্রিয় বাংলা তার হাসিমুখ আমরা সবাই দেখতে চাই। বিন্দু পরিমাণও অমঙ্গল দেখতে চাই না। বাংলা মায়ের মুখকে মলিনতা ছুঁয়ে যাক সেটাও আমরা কেউ চাই না। এ লক্ষ্যে এখন সব বিভেদ, জড়তা ফেলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই কঠোরভাবে নিতে হবে। এখন আর এক মিনিটও সময় নষ্ট করা যাবে না।

আমাদের এখন মূলত দুটা কাজ করতে হবে। (১) করোনা প্রতিরোধ (২) রোগীর চিকিৎসা। করোনা প্রতিরোধ করতে গেলে এই মুহূর্তে আমাদেরকে করোনা ভাইরাসের ‘চেইন অব ইনফেকশন’ ভেঙে দিতে হবে। আর তার সাথে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা আরও বাড়াতে হবে। এটা শুধু আইইডিসিআর এ হলে এখন আর হবে না। কারণ টেস্ট যত করা যাবে আক্রান্ত মানুষকে তত তাড়াতাড়ি আইসোলেশনে পাঠানে সম্ভবপর হবে। দক্ষিণ কোরিয়া এটার জন্য আমাদের কাছে বড় উদাহরণ।

আর করোনা টেস্টের সাথে ‘লক ডাউন’ বা মানুষের চলাচল ‘অতি সীমিতকরণ’ করাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাতে মানুষের কাছ থেকে মানুষে রোগ স্থানান্তরিত হওয়াটা আমরা ভালোভাবে ঠেকাতে পারব। আর আমরা এই যে হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলছি সেটাও তাহলে অটোমেটিকালি আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ হয়ে যাবে। না হলে মানুষের ভেতরে যে ‘ইনফেকশন চেইন’ শুরু হয়েছে সেটা ভেঙে দেওয়াটা বেশ কঠিনই হবে। দিন যত যাবে দেখা যাবে ইনফেকশানের এই চেইন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। এ কারণেই প্রতিরোধ করাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরোধ যদি সঠিকভাবে না করতে পারি তাহলে কি হতে পারে সেটা ইতালিকে দেখে শিক্ষা নিতে পারি। সামনে স্পেন, ইংল্যান্ডের অবস্থাও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনেকে বলছেন, লক ডাউন করলে গরীব মানুষের কী হবে? তারা খাবে কি? এর উত্তর কঠিন না। অতীতে আমরা সফলভাবে দুর্গত এলাকায় ঝড় বা বন্যা পরবর্তী সময়ে খাবার এবং থাকার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। এখন তো পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে জটিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই যে আমাদের দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে বরাদ্দ একটা আছেই। সেটাকে বাড়ানো যেতে পারে। এর সাথে হতে পারে আমাদের স্বাবলম্বী মানুষ যারা তাদের ব্যাংক একাউন্ট থেকে মাত্র ২০ টাকা করে কেটে নেওয়া যেতে পারে। কতগুলো একাউন্ট আছে ব্যাংকে এখন? এটা করলে সেখান থেকে কত টাকা আসবে?

এদিকে কয়েক কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে থাকেন। ধরুণ প্রত্যেকের মোবাইল এর ব্যালান্স থেকেও ৫ টাকা করে কেটে নেওয়া হলো। এসব তো ঘোষণা দিয়েই রাষ্ট্র করতে পারে। সকল কর্মকর্তা (সরকারি/বেসরকারি) এক দিনের বেতন কেটে নেওয়া যেতে পারে। এর আগেও তো এমন করা হয়েছে। এতেও তো অনেক টাকা আসবে। তাহলে এ টাকা দিয়ে গরিব মানুষের জন্য এই ক্রাইসিস সময়ে কি আমরা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারব না? আমার মনে হয় আমরা অবশ্যই পারব। আমাদের প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী আছে। স্বেচ্ছাসেবক আছে। প্রয়োজনে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কাজে লাগানো যেতে পারে। ফলে একজনও গরিব বা প্রান্তিক মানুষেরও খাওয়ার কষ্ট হবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না।

আর চিকিৎসার ক্ষেত্রে দেশব্যাপী থানা, জেলা, বিভাগওয়ারী যেসব শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে সেটা প্রয়োজনে রিভাইজ করে বাড়ানো যেতে পারে। যে সব চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ অন্যরা এখানে ডিউটিরত থাকবেন প্রথমেই তাদেরকে গ্রুপে ভাগ করে ফেলুন। এরাই এখন মেইন ফাইটার। তাদের পরিবারের জন্য (প্রয়োজন হলে) তাই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সাপোর্ট দিতে হবে। তাদের বাড়ি/বাসা আলাদাভাবে চিহ্নিতকরণ করে সবার কাছে সম্মানজনকভাবে ও আলাদাভাবে উপস্থাপিত করা যেতে পারে। আর তাদেরকে একসাথে ১ সপ্তাহ ডিউটি দিয়ে পরের সপ্তাহ অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর হোস্টেল, রুম, হোটেল-এগুলোকে জরুরি সেবার আওতায় এনে প্রস্তুত করে এখানে থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কারণ এরা পরিবারের কাছে ফেরত গেলে তা বুমেরাং হয়ে যেতে পারে।

পরিশেষে বলব রোগ প্রতিরোধ ( চেইন অব ইনফেকশন কে ধ্বংস করা) এবং চিকিৎসার বিষয়ে আমরা যদি ত্বড়িত পদক্ষেপ নিতে পারি এবং তা অব্যাহত রাখতে পারি তাহলে করোনা পরিস্থিতির আর অবনতি হবে না বরং ধীরে ধীরে তা কমে আসতে থাকবে। জলছবির বাংলাদেশ তাহলে অতি দ্রুত আবার তার ছন্দে ফিরে আসতে পারবে। আমরাও হাসিমুখে আবার বিজয়ের ভোর দেখতে পাব।

লেখক : চিকিৎসক ও শিক্ষক

advertisement
Evall
advertisement