advertisement
advertisement

বার্ড ফ্লু সংক্রমণে আনা পিপিই ব্যবহৃত হচ্ছে করোনা মোকাবিলায়

উত্তম ঘোষ,যশোর
২৫ মার্চ ২০২০ ২১:৫১ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২০ ২১:৫১
ছবি : আমাদের সময়
advertisement

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসকদের জীবনের নিরাপত্তায় অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম (পিপিই)। এমতাবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত পিপিই নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

প্রান্তিক পর্যায়ে অধিকাংশ হাসপাতালে পিপিই না থাকায় সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশি রোগীর সামনেও আসছেন না চিকিৎসকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রোগীরা।

প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে মুরগি ফার্মে বার্ড ফ্লু ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করে। এর প্রাদুর্ভাব চলে ২০১০ সাল পর্যন্ত। সে সময়কালে প্রাণী চিকিৎসকদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইউএসআইডিসহ কয়েকটি বিদেশি সংস্থা উন্নত মানের পিপিই সরবরাহ করে। এমনকি, কিছু পিপিই সরকার ক্রয় করে। তবে, গত ১০ বছর ধরে প্রাণী সম্পদে এ ধরনের কোনো সংক্রামণ না হওয়ায় ওইসব পিপিই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল।

তবে, সম্প্রতি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পিপিই সংকট সৃষ্টি হওয়ায় গত সোমবার মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী এস এম রেজাউল করিম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে জানান, যেখানে যত পিপিই আছে তা থেকে নিজেদের জন্য যৎসামান্য রেখে যেন স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে চিকিৎসকদের কাছে সরবরাহ করা হয়।

সে মোতাবেক প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সব বিভাগীয় ও জেলা দপ্তরের মাধ্যমে উপজেলা দপ্তরগুলোকে এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে সারা দেশে ১২ হাজার ৫৫৬টি পিপিই সরবরাহ করেছে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘প্রাণী সম্পদ থেকে পাওয়া পিপিই খুবই উপকারে এসেছে। এই জরুরি সময়ে চিকিৎসক-পুলিশের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হয়েছে।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘বিদেশ ফেরত যারা কোয়ারেন্টিন মানছেন না তাদের সংস্পর্শে যেতে হলেও তো পিপিই আবশ্যক।’

এ ছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজেলা ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম প্রাণী সম্পদ থেকে পাওয়া পিপিই চিকিৎসকদের মথ্যে বিতরণ করেছেন।

জানা গেছে, পিরোজপুর জেলাতে ১৫৭টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে।

যশোরের চৌগাছা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থানীয় ইউএনও স্যারের কাছে ২৪টি পিপিই হস্তান্তর করেছি। জানিয়েছি, খুব বেশি প্রয়োজন হলে আরও দিতে পারব। এই আপদকালীন সময়ে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর মানুষের সেবা সংশ্লিষ্টকাজে সহযোগিতা করতে পেরেছে ভেবে ভালো লাগছে।’

advertisement