advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আশঙ্কা আরও একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২০ ২৩:১৬
advertisement

দেশে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে। সর্বশেষ মারা যাওয়া ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধ বিদেশ ফেরত একজনের পরিবারের সদস্য। ওই প্রবাসীও করোনায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

ডা. মীরজাদী ফ্লোরা বলেন, ‘মৃত্যু হওয়া বৃদ্ধের ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশন ছিল। গত ১৮ মার্চ তার করোনা শনাক্ত হয়। তিনি ঢাকার

বাইরের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে গত ২১ মার্চ তাকে ঢাকায় এনে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বুধবার সকালে তিনি মারা যান।’ তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত) সন্দেহভাজন ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কারও দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। দেশে গতকাল পর্যন্ত মোট ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের, সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ৪৭ জন এবং আইসোলেশনে আছেন আরও ৪৭ জন।’

অধ্যাপক মীরজাদী ফ্লোরা বলেন, ‘কারোনা শনাক্তের পরীক্ষা এখন কেবল আইইডিসিআরে করা হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় সংখ্যা বাড়ছে। সন্দেহভাজন রোগী বাড়ার কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রও বাড়ানো হচ্ছে। ঢাকায় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল পরীক্ষা কেন্দ্র হচ্ছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা ও ময়মনসিংহে হচ্ছে পরীক্ষা কেন্দ্র।’ এক প্রশ্নের জবাবে ফ্লোরা বলেন, “দুটি জায়গায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংক্রমণের উৎস এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি। আমরা দুটি ক্ষেত্রেই ইনভেস্টিগেশন করেছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটার সোর্স অব ইনফেকশন জানা সম্ভব হয়নি। সেদিক থেকে ‘লিমিটেড স্কেলে’ কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে আমরা বলতে পারি। লিমিটেড স্কেলে যে এলাকার কথা আমরা বলেছি, সেখানে ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলেই কিন্তু ওই এলাকাটিকে আমরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ন্ত্রণে রেখে কার্যক্রম নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, ‘যখন কোনো সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করা যায় সেটাকে লোকাল ট্রান্সমিশন বলে। সংক্রমণ পাওয়া গেলেও সেই তার উৎস চিহ্নিত করা না গেলে সেটা হলো কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। তবে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে পেশ করতে হবে।’

এখন পর্যন্ত দেশব্যাপী কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানান তিনি। কারণ হিসেবে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে একজনেরও কোভিড-১৯ পাওয়া যায়নি। গতকালও (মঙ্গলবার) যে নমুনা পরীক্ষা করেছি তাতেও কোভিড-১৯ পজেটিভ আসার হার কিন্তু খুব কম।’ তিনি জানান, তারা এখন হাসপাতালে আসা নিউমোনিয়া রোগীর নমুনাও পরীক্ষা করছেন। এ ধরনের পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত দুজনের কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাদের বিদেশ থেকে আসা মানুষের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস রয়েছে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরোলজিস্ট ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বারবারই তাগাদা দিচ্ছেন করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়ানোর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও বলা হচ্ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার সেন্টার করা হবে। সেই অনুযায়ী প্রথমে ঢাকায় দুটি এবং চট্টগ্রামে একটিসহ মোট তিনটি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এখন পর্যন্ত। গতকাল বুধবার সেন্টারগুলোতে পিসিআর মেশিন স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানে পলিমারোজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশনাল ডিজিজ (বিআইটিআইডি)। এ ছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অতিদ্রুত পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হবে।

advertisement
Evaly
advertisement