advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা ২০০৮ সালের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে

আমাদের সময় ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ০০:১২
প্রতীকী ছবি
advertisement

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ছিঁড়তে বসেছে বহু পণ্যের জোগান শৃঙ্খল। প্রায় প্রতিটি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই বন্ধ করে দিয়েছে সীমান্ত। এতে ব্যাপকভাবে মার খাচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসাবাণিজ্য। অনেক দেশেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিমান চলাচল, দোকানপাট, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পর্যটন স্থানগুলোও। আঁচ করা যাচ্ছে না ঠিক কত দিন এমন ‘হাত-পা বাঁধা অবস্থায়’ এই শত্রুর মুখোমুখি হতে হবে গোটা বিশ্বকে। ফলে এরই মধ্যে নড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতির ভীত।

এমন অবস্থায় গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, চলমান করোনা মহামারীতে বৈশ্বিক অর্থনীতি চরম মন্দার সম্মুখীন। যা ২০০৮-০৯ সালের অর্থনৈতিক মন্দার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। তাই এটি সামাল দিতে প্রয়োজন নজিরবিহীন পদক্ষেপ। আশা করছি ২০২১ সালে এ অবস্থা থেকে পৃথিবী ঘুরে দাঁড়াবে। তবে সেটি করতে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।

ইতোমধ্যেই অন্তত ৮০টি দেশ আইএমএফের কাছে জরুরি ঋণ চেয়েছে বলে জানান জর্জিয়েভা। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ এক লাখ কোটি ডলার ঋণ দিতে সক্ষম, যার পুরোটাই দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।’ তবে এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা দিতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে জাতিসংঘ বলছে, করোনা পরিস্থিতি আরও কয়েক মাস থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষতির বহর দাঁড়াতে পারে ২ লাখ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির হার নামতে পারে ২.৫ শতাংশের নিচে। আইএমএফ বলছে, প্রবৃদ্ধি হার নেমে যেতে পারে ০.১-০২ শতাংশে। খবর রয়টার্সের।

বিশ্বব্যাংককে পাশে চান অর্থমন্ত্রী

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংককে বাংলাদেশের পাশে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং আইএমএফকে বিনীতভাবে অনুরোধ করবÑ বাংলাদেশের ঝুঁঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা যেন বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করে।’ গতকাল বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদর দপ্তরের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ সহায়তা কামনা করেন।

শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ কনফারেন্সে আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম প্রমুখ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে এক মরিয়া পদক্ষেপ হচ্ছে অভূতপূর্ব লকডাউন, শাটডাউন, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিবার্যভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজার ইতোমধ্যে ২৮-৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ মন্দা দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে। বাংলাদেশও এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে। আমরা উদ্বিগ্ন, সংকটটি আমাদের অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক দিক থেকে আঘাত করতে পারে।

তিনি বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শাট ডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাসে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোয় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। কোনো দেশের একার পক্ষে এ রকম একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সম্ভব নয়।

advertisement