advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আদেশ অমান্য করে রাস্তায় মানুষ, পুলিশের লাঠিপেটা

ভারতে লকডাউনের প্রথম দিন

আমাদের সময় ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২০ ২৩:১৬
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউনের প্রথম দিন গতকাল বুধবার জনগণ ও প্রশাসনের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পার করেছে ভারত। এ ধরনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন হওয়ায় জনগণ ও প্রশাসন, উভয়ের জন্যই ছিল ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। গোটা দেশে সব কিছু এত দীর্ঘকাল ধরে বন্ধ থাকার এবং বন্ধ রাখার অভিজ্ঞতা এর আগে কারও কখনো হয়নি বলেই গত মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লকডাউনের আকস্মিক ঘোষণার পর থেকেই সর্বত্র চলছে অনিশ্চয়তা ও দিশেহারা অবস্থা। টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ দেশটির প্রায় সব পত্রিকায় জানিয়েছে, লকডাউনের প্রথম দিন অনেক মানুষই রাস্তায় বেরিয়েছিলেন নানা কাজে। কিন্তু মানুষকে ঘরে ঢোকাতে এদিন কঠোর ছিল পুলিশ। অনেক রাজ্যেই রাস্তা থেকে মানুষকে ঘরে ফেরত পাঠাতে পুলিশকে লাঠিপেটা করতে দেখা গেছে। দেশজুড়ে লকডাউন নিয়ে এদিন ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারানসির মানুষের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। মোদি বলেন, ‘মহাভারতে যুদ্ধে জয়ে সময় লেগেছিল ২১ দিন, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও প্রয়োজন ২১ দিন। এ কয়

দিনে আমরা যুদ্ধজয় করব। এ সময় সামাজিক দূরত্ব রক্ষা খুব জরুরি। তবে করোনার জবাব দেব করুণা দিয়ে। গরিবদের পাশে দাঁড়ালেই তা সম্ভব। গরিব, বড়লোক সবারই সমস্যাÑ করোনা ভাইরাস।’ জনসাধারণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হোয়াটস অ্যাপ নম্বর ৯০১৩১৫১৫১৫-এর মাধ্যমে সেবার সঙ্গে জুড়ুন সবাই। নমস্তে লিখলেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর পাবেন। প্রতিটি রাজ্য সরকার নিজেদের মানুষের নিশ্চয় খেয়াল রাখছেন। এ লড়াইয়ে আমরা জিতবই।’ করোনা মোকাবিলার সতর্কতা মেনে এদিন এক মিটারের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের দেখভাল করা চিকিৎসক, নার্সদের টার্গেট করার অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে এদিন ‘দুঃখপ্রকাশ’ করে মোদি বলেন, ‘এই সংকটের সময়ে, সাদা পোশাকে যারা রয়েছেন, তারা ঈশ্বরের নামান্তর। আজ তারা জীবন রক্ষা করছেন, নিজেদের জীবন বিপন্ন করছেন। আমাদের অবশ্যই তাদের সাহায্য করা উচিত। যখন আমি তাদের হেনস্তার খবর পাই, সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখি। এটা আমার কাছে খুবই দুঃখের বিষয়। তাদের হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর সাজা দেওয়ার জন্য আমি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের বলেছি।’

লকডাউনের প্রথম দিনের পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, সবকিছু বন্ধ থাকার পরও বহু মানুষ ছিল রাস্তায়। কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার হিড়িকে, কেউ বা শুধুই দর্শক। তবে যে পুলিশকে অনেক সময়েই ‘নীরব দর্শক’ কিংবা ‘কাঠের পুতুল’ কটাক্ষ শুনতে হয়, তারাই সক্রিয় হয়েছে। কোথাও লাঠিপেটা করে, কোথাও কান ধরে ওঠবস করিয়ে, কোনো জায়গায় আবার রাস্তায় গড়াগড়ির শাস্তি দিয়ে পুলিশ কর্মীরা অনেকটাই সফল করেছেন লকডাউন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এমন ছবি, ভিডিও উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ তার মধ্যে অন্যতম। একই রকম ছবি ধরা পড়েছে পাঞ্জাবসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এসব পদক্ষেপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশকে সাবাশি দিয়েছেন সবাই। তাদের অধিকাংশেরই বক্তব্য, সাধারণ মানুষের একাংশ এখনো বুঝতে পারছেন না, এ ধরনের জমায়েত বা উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ঘোরাফেরা কী ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনতে পারে। এক শ্রেণির মানুষ সচেতন না হলে তাদের এভাবে ঘরবন্দি করে পুলিশ ঠিক কাজই করেছে। অবশ্য কেউ কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তারও অভিযোগ তুলেছেন। তবে তা সংখ্যায় খুবই কম। আবার কলকাতাতেই দেখা গেছে, সংক্রমণ বাঁচাতে নির্দিষ্ট দূরত্বে গ-ি কেটে ক্রেতাদের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড় করাতে।

এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও লকডাউন উপেক্ষা করে মানুষের বাইরে বেরোনোর প্রবণতা না কমায় কড়া পদক্ষেপের হুশিয়ারি দিয়েছেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও। গতকাল তিনি বলেছেন, বাইরে বেরোনোর প্রবণতা না কমলে রাজ্যে সম্পূর্ণ কারফিউ জারি করা হবে। প্রয়োজনে রাস্তায় দেখলে গুলি করার নির্দেশও দিতে পারে তার সরকার।

৮০ কোটি মানুষকে চাল গম দেবে সরকার

ভারতের কেন্দ্রীয় প্রকাশ জাভেদকর জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ২১ দিনের লকডাউনের মধ্যে দুস্থদের সুরক্ষায় অন্তত ৮০ কোটি মানুষকে ২ রুপি কেজি দরে গম ও ৩ রুপি কেজি দরে চাল দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতিটি ব্যক্তি আগামী ৩ মাস ৭ কেজি করে রেশন পাবেন।

advertisement