advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অধ্যাপক (ডা.) কামরুল হাসান খান
‘বঙ্গবন্ধু, ২৫ মার্চ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ’

২৬ মার্চ ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ০০:০৩
advertisement

১৯৭১ সালের রক্তস্নাত ২৫ মার্চের কালরাত। বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাড়ি। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, গাজী গোলাম মোস্তফা ও অন্যান্য নেতাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রায় সারাক্ষণ নিচের লাইব্রেরি রুমে বসেছিলেন। সেদিন সবার চোখে-মুখে ছিল উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার ছাপ। একমাত্র বঙ্গবন্ধুই মুখে সেনাপতির সুদৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সবার সঙ্গে আলাপ করছেন। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু অন্যান্য ছাত্র ও আওয়ামী লীগকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ এবং নির্দেশ দিয়ে একেক করে বিদায় দেন। রহস্যের ব্যাপার, সেদিন খন্দকার মোশতাক আহমেদকে কখনো দেখা যায়নি। বঙ্গবন্ধুর বন্ধুরা তাকে ঢাকা ছেড়ে যেতে সম্মত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের পরে বলেছিলেন, ‘আমার জনগণকে রক্ষা করবার দায়িত্ব ছিল। আমি যদি সেখানে না থাকতাম, তবে আমার খোঁজে ইয়াহিয়া খান গোটা শহর জ্বালিয়ে দিত।’

বঙ্গবন্ধু বাড়িতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তার জীবনে গ্রেপ্তার কোনো নতুন বিষয় ছিল না। তাকে হতোদ্যম করার জন্য বহুবারই কারাগারে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সামরিক শাসকদের চক্রান্ত সব সময়ই ব্যর্থ প্রমাণ হয়েছে। এবার তারা তাকে মেরে ফেলতেও পারে। তবে সেটি তার কাছে গৌণ ব্যাপার ছিল।

একটি দেশের নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা পালিয়ে যেতে পারেন না। সে রাতে এত উত্তেজনার মধ্যেও বঙ্গবন্ধু শান্তভাবে পাইপ টানছিলেন। তিনি নিশ্চিত ছিলেন, তার যা কিছু করণীয়, সবই তিনি করেছেন। ইতোমধ্যে সারা পূর্ববঙ্গের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত তিনি বাঙালি জনগণকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করে ফেলেন। শুধু গ্রেপ্তার কেন, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন।

২৫ মার্চের কালরাতে একটি দেশের জন্মের প্রসববেদনার সময় আঁতুড়ঘরে ফেলে কি কখনো কোনো পিতা চলে যেতে পারেন? উদ্ধৃত ঘটনা ও কথার মধ্য থেকে বোঝা যায় পিতার দায়িত্ববোধ, চূড়ান্ত ঈড়সসরঃসবহঃ, সর্বোচ্চ ত্যাগ এবং ঝুঁকি নেওয়ার অসম সাহস। একা একটা মানুষ পাকিস্তান নামক একটি রক্তপিপাসু সামরিক জান্তার দেশের মুখোমুখি। তাকে উড়িয়ে দিতে পারত, নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারতÑ এসব তিনি কিছুই ভাবেননি। তিনি প্রত্যক্ষ করতে চেয়েছেন ২৩ বছরের তিলে তিলে গড়ে ওঠা স্বাধীনতার গর্ভপাত গোলা-বারুদ, আগুন, কান্না আর মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। এটি কেবল সম্ভব ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পক্ষেই। তিনিই সঠিক পিতা।

‘কায়হান ইন্টারন্যাশনাল’ পত্রিকার সাংবাদিক আমির তাহেরি একাত্তরের জুলাই নাগাদ জেনারেল টিক্কা খানকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনি শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করেছিলেন কেন?’ টিক্কা খান জবাব দিয়েছিলেন, “আমার কো-অর্ডিনেশন অফিসার একটি তিন ব্যান্ড রেডিও নিয়ে ছুটতে ছুটতে এসে বলেছিল, ‘স্যার শুনুন, শেখ সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা করছেন’। আমি নিজে রেডিওর এক বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সিতে সেই স্বাধীনতার ঘোষণা শুনি। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।” সাংবাদিক আরও জানতে চাইলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে শেখ মুজিবও যদি ভারতে যেতেন, তবে সে ক্ষেত্রে আপনি কি করতেন স্যার?’ উত্তরে টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি খুব ভালো করে জানি, মুজিবের মতো একজন নেতা তার জনগণকে পরিত্যাগ করবেন না। আমি গোটা ঢাকা শহরে তাকে খুঁজে বেড়াতাম এবং একটি বাড়িও তল্লাশির বাইরে রাখতাম না। তাজউদ্দীন অথবা তার মতো অন্য নেতাদের গ্রেপ্তারের কোনো অভিপ্রায় আমার ছিল না। এ কারণেই তারা এত সহজে ঢাকা ছেড়ে যেতে পেরেছিলেন।’ জেনারেল টিক্কার ওই উক্তি থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়, বঙ্গবন্ধুই তাদের চিন্তার প্রধান কারণ ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সম্পর্কে মেজর সিদ্দিক সালেক তার ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন ‘যখন প্রথম গুলিবর্ষণ করা হয়, তখন রেডিও পাকিস্তানে ক্ষীণভাবে শেখ মুজিবের কণ্ঠ শোনা যায়। মনে হলো আগে রেকর্ডকৃত বাণী। শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ঘোষণা করেছেন। কয়েক মিনিট পর ৫৭ ব্রিগেডের মেজর জাফর তার বেতার কণ্ঠ শুনতে পেলেন (বিগ বার্ড ইন দ্য ফেজ)।

২৫ মার্চ রাতে যখন প্রায় ১২টা বাজে, এমন সময় একটা টেলিফোন এলো। বঙ্গবন্ধুর পারসোনাল এইড হাজী গোলাম মোরশেদ টেলিফোন ধরলে ওপাশ থেকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে বলেন মেসেজ পাঠানো হয়ে গেছে। মেশিন নিয়ে কী করব?’ তখন বঙ্গবন্ধু হাজী গোলাম মোরশেদকে বললেন, ‘ওই ব্যক্তিকে বলো মেশিন ভেঙে সে যেন পালিয়ে যায়।’ লন্ডনের দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের সাংবাদিক ও দক্ষিণ এশিয়ার করেসপন্ডেন্ট ডেভিড লোশাকÑ যিনি সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ভাষণটি উল্লেখ করেন, তিনি লিখেছিলেন, ‘গলার আওয়াজ খুব ক্ষীণ ছিল এবং যাতে মনে হচ্ছিল খুব সম্ভবত ওটা আগেই রেকর্ড করা ছিল।’

পাকিস্তানি বাহিনী ট্রান্সমিটার খুঁজতে ইস্টার্ন ওয়্যারলেস ডিভিশনের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার প্রকৌশলী নূরুল হকের ওয়্যারলেস কলোনির বাসা ঘেরাও করে এবং ২৯ মার্চ ওনাকে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তিনি আর ফিরে আসেননি।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে ২৩ বছর ধরেই বাঙালি জাতির চেতনাকে উজ্জ্বীবিত করার জন্য এবং বাঙালির সার্বিক মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুকে দিনের পর দিন নিরলস আন্দোলন গড়ে তুলতে হয়েছে। ফলে শাসকগোষ্ঠী বরাবর তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবেই অভিযুক্ত করেছে। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তিনি একই কথা শত-সহ¯্রবার উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের অধিকার চাইÑ রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক মর্যাদা, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক সমতা। শুধু মুখের ভাষা প্রকাশের অধিকারই নয়, একটা গোটা জাতিকে তিনি মুক্ত করেছেন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নাগপাশের বন্ধন থেকে।

বঙ্গবন্ধুর বিদ্রোহী সত্তার উন্মেষ কোনো আকস্মিক ঘটনার ফল নয়। তার শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো এমন একটি সময়ে কেটেছেÑ যখন বাংলার আকাশে-বাতাসে অসন্তোষের বহ্নি ধূমায়িত হয়ে উঠেছিল। বাংলার মানুষের চোখে-মুখে বিদ্রোহের অগ্নি ছিল সংগুপ্ত। দেশের একটা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে তার আবির্ভাব। তার যৌবনে এই প্রধূমায়িত বিদ্রোহের লক্ষণগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ধীরে ধীরে জাগ্রত হয়েছে। তবে এই সত্তার একটি স্বতন্ত্র রূপ ছিল, ছিল স্বতন্ত্র নির্যাস। তার বিদ্রোহের মধ্যে হঠকারিতা ছিল না, ছিল না ধ্বংসাত্মক মনোভাবের কোনো প্রতিফলন। বুদ্ধদেব, গান্ধীজি, রবীন্দ্রনাথ যেভাবে বিদ্রোহ করে গেছেন, ওই ঐতিহ্যই বঙ্গবন্ধুর বিদ্রোহী সত্তায় লালিত। অহিংস, অসহযোগ আন্দোলনই ছিল বঙ্গবন্ধুর বিদ্রোহী সত্তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি সব সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন। বস্তুত অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের তিনি এক সাক্ষাৎ প্রতিমূর্তি। বাংলাদেশের মাটি থেকে ধর্মান্ধতার বিষ অপসারিত করে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ প্রতিষ্ঠায় তিনি এক আদর্শ ব্যক্তিত্ব।

বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকরা কেবল রাষ্ট্রদ্রোহী বানিয়েই নিভৃত থাকেনি। তাকে বহুবার প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকে বস্তুত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাসহ গোটা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে এবং সেনাবাহিনীর বাঙালি অংশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে।

১৫ মার্চ ১৯৭১-এ বাংলার জনগণ ও প্রগতিশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দাবিতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের শাসনভার স্বহস্তে গ্রহণ করেন। এক ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের কল্যাণের জন্যই তাকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে।’ তিনি সুস্পষ্টভাবে দেশবাসীকে জানান, ‘এই শাসনভার স্বহস্তে গ্রহণ করার অর্থ বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জনগণ যেন তা রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত থাকে।’ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তির স্পৃহাকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না। কারণ প্রয়োজনে আমাদের প্রত্যেকে মরণবরণ করতে প্রস্তুত। জীবনের বিনিময়ে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বাধীন দেশের মুক্ত মানুষ হিসেবে স্বাধীনভাবে আর আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাস করার নিশ্চয়তা দিয়ে যেতে চাই। মুক্তির লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম নবতর উদ্দীপনা নিয়ে অব্যাহত থাকবে। আমি জনগণকে যে কোনো ত্যাগের জন্য এবং সম্ভাব্য সবকিছু নিয়ে যে কোনো শক্তির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে আবেদন জানাই’ (দৈনিক পূর্বদেশ, ১৬ মার্চ ১৯৭১)।

বলা বাহুল্য, বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাও স্বাধীনতার ঘোষণার নামান্তর। বঙ্গবন্ধু দেশের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য ৩৫টি বিধি জারি করে, যার মাধ্যমে ১৫ মার্চ থেকে পুরো দেশ পরিচালিত হয়। বস্তুত ১৫ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়। দেশের শাসনভার স্বহস্তে গ্রহণ করার পর জনসাধারণ ও সরকারি কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বঙ্গবন্ধুকে সাহায্য করতে লাগলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একদিনে হঠাৎ মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি। তার আবির্ভাব ধূমকেতুর মতো নয়। তিনি তিলে তিলে নিজেকে এই সংগ্রামের জন্য নিবেদন করেছেন। কঠোর ত্যাগের মধ্য দিয়ে আপসহীন মনোভাব নিয়ে প্রথমে বাংলাদেশের স্বাধিকারের জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যখন নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম ফলপ্রসূ হওয়ার সব সম্ভাবনা রুদ্ধ বলে নিশ্চিত জেনেছেন, তখনই সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন।

প্রতিবারই জেলে যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু ‘সঞ্চয়িতা’টা হাতে তুলে নিতেন। বইটার গায়ে পড়েছিল জেলের সেন্সরের অনেক সিল। কারাগারের মুহূর্তগুলোয় বঙ্গবন্ধু পড়াশোনা করতেন একাগ্রচিত্তে। বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি করতে পছন্দ করতেন এবং প্রায়ই শোনাতেন পরিবারের লোকদের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ছিলেন এক সম্মোহনী শক্তি, ইংরেজিতে যাকে বলা হয়, ঈযধৎরংসধ। তিনি তার নেতৃত্বের জাদুস্পর্শে ঘুমন্ত, পদানত বাঙালিদের জাগিয়ে তুলে উদ্দীপ্ত করেছিলেন স্বাধীনতার মন্ত্রে। ‘নিউজ উইক’ ম্যাগাজিনে তাকে রাজনীতির কবি (চড়বঃ ড়ভ চড়ষরঃরপং) হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্তব্য করেছে, ‘মুজিব মৌলিক চিন্তার অধিকারী বলে ভান করেন না।’ তিনি যেমন ছিলেন নির্ভীক, তেমনি ছিলেন দৃঢ় ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন। মনের দিক থেকে একদিকে পরিচ্ছন্ন ও অন্যদিকে দুর্জয় সাহসী বলেই তিনি অকপট ও সরল হতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত প্রখর ছিল। একবার তিনি একজনকে দেখলে ও সামান্য আলাপ করলে ১০ বছর পরও বলে দিতে পারতেন, অমুক স্থানে, অমুক সময় আপনার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল।

advertisement
Evall
advertisement