advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্বদেশ রায়
’৫৪-তে মুসলিম লীগের পতন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে

২৬ মার্চ ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ০০:০৩
advertisement

বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের একটি বড় দিক হলো ১৯৫৪ সালের পর থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধিকার, স্বায়ত্তশাসন বা পরিপূর্ণ স্বাধীনতার বিপক্ষে বড় কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। আরও সহজ করে বলা যায়, ১৯৫৪-এর সাধারণ নির্বাচনের পর এমন কোনো রাজনৈতিক শক্তি ছিল না যারা পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ১৯৫৮-তে পাকিস্তানে পরিপূর্ণ সামরিক শাসন আসে আর সামরিক শাসকদের হাতেই পাকিস্তান এক অর্থে শেষ হয়ে যায়। ১৯৭০-এর নির্বাচনে পাকিস্তানের পশ্চিম খ-ে পাকিস্তান পিপলস পার্টি জয়লাভ করলেও রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার দিক থেকে ওই পার্টির মুসলিম লীগের সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। তারা মূলত একই। এর বদলে দেখা যাচ্ছে ১৯৫৪-এর সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে তৎকালীন পূর্ববাংলা পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর ওই অর্থে বড় ধরনের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। অন্যদিকে ৬০-এর দশকে এসে যে মূল রাজনৈতিক দলগুলো অর্থাৎ আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফ্ফর), কমিউনিস্ট পার্টি অব পূর্ব পাকিস্তানÑ এরা সবাই নানাভাবে বাংলাদেশের সৃষ্টি বা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিল। এর ভেতর আওয়ামী লীগ, ন্যাপ মোজাফ্ফর ও কমিউনিস্ট পার্টি মূলত বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দেওয়ার পর থেকে স্বাধীনতার জন্য এককভাবেই কাজ করে। আবার ১৯৫৪-এর নির্বাচনের জোটে কৃষক প্রজা পার্টি যুক্তফ্রন্টের বড় অংশীদার হলেও সেখানে মূল নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক পাকিস্তানে তখন আর খুব বেশি বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি লাহোর প্রস্তাবের মূল নেতা হওয়া সত্ত্বেও ১৯৪৭-এ যখন পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে, ততদিনে পাকিস্তান চিন্তা থেকে অনেকখানি সরে এসেছেন। সে বিষয়ে এখানে বিস্তারিত বলতে গেলে বিষয়ান্তরে চলে যেতে হবে। তবে তার সম্পর্কে এ কথা অবশ্যই বলতে হবে, যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে পূর্ববাংলার রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করে বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনকে সহজ করে দেওয়ার পথে শেরেবাংলার ১৯৫৪ সালের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছাড়া হয়তো মুসলিম লীগকে এত সহজে নিশ্চিহ্ন করার কাজ সফল হতো না।

ইতিহাসের গভীরে গেলে দেখা যায়, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট যখন গঠিত হয়েছে, এর আগেই মুসলিম লীগ পূর্ববাংলায় তাদের মাটি হারিয়ে ফেলেছে। মুসলিম লীগ কোন কোন কারণে সেদিন এত দ্রুত পূর্ববাংলায় তাদের মাটি হারিয়ে ফেলেছিল, এ নিয়ে অল্পবিস্তর কিছু গবেষণা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও হবে। তবে ওই সময়ের পত্রপত্রিকার, বিশেষ করে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৩-এর পত্রপত্রিকার খবর ও ওইসব গবেষণা থেকে বেশ কতগুলো বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায় কেন সেদিন মুসলিম লীগ এভাবে পূর্ববাংলার মাটিতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। কারণ সত্যি অর্থে মুসলিম লীগ পূর্ববাংলার ভূমি দখল করেছিল ১৯৪৬-এর নির্বাচনে। ১৯৩৭-এর নির্বাচনে এ ভূমি ছিল শেরেবাংলার কৃষক প্রজা পার্টির। ওই নির্বাচনের পর কংগ্রেস প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল হয়েও দূরদৃষ্টি দেখাতে পারেনি। তারা পূর্ববাংলার মাটি ও মানুষের নেতা শেরেবাংলাকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে আসেনি। আর এর ফলেই ফজলুল হকের তৎকালীন সরকার ভালো সরকার হতে পারেনি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাকে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তাই তিনি তার মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। আর এ সুযোগটিই নিয়েছিল মুসলিম লীগ পূর্ববাংলায় ১৯৪৬-এর নির্বাচনে। অনেকে অবশ্য ১৯৪৬-এর নির্বাচনকে ঢালাওভাবে পাকিস্তানের সমর্থনের নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করেন বা সেভাবে অনেকখানি এ যাবৎকালের ইতিহাসেও এসেছে। কিন্তু এখন মনে হয়, ইতিহাসকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখার সময় এসে গেছে। কেননা ভারতবর্ষের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মুসলিমকে রেখে ভারতের কোনো একটি বা দুটি অংশের মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র বাস্তবে সেদিন সচেতন মুসলমানদের বড় অংশ পছন্দ করেনি। কারণ তারা জানতেন, এর ফলে মুসলিমদের বড় অংশ একটি হিন্দু রাষ্ট্রে ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু হবে। তা ছাড়া ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামটি একক ভারতকেন্দ্রিক ছিল। ওই আন্দোলনে সচেতন মুসলিম সমাজের অংশগ্রহণও কম ছিল না। এ কারণেই ১৯৪৬-এর নির্বাচনে বর্তমানের পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো প্রদেশেই মুসলিম লীগ জয়লাভ করেনি। এর বদলে শুধু পূর্ববাংলায় কেন মুসলিম লীগ জয়লাভ করল, এর কারণগুলো ভবিষ্যতের গবেষণার ভেতর দিয়ে আরও ভালোভাবে বের হয়ে আসবে। তবে মোটা দাগে কয়েকটি বিষয় বলা যায়Ñ এক. ওই নির্বাচনের আগে পূর্ববাংলার সাধারণ মানুষের সব থেকে প্রিয় নেতা, বিশেষ করে দরিদ্রের নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের অবস্থান কিছুটা বদলে বা দুর্বল হয়ে যাওয়া। দুই. পূর্ববাংলার তৎকালীন প্রায় তিন হাজারের মতো হিন্দু জমিদার ও তাদের জোতদারদের প্রতি সাধারণ মানুষ বিরক্ত ছিল। তিন. মুসলিম লীগের ছাত্রকর্মীরা নির্বাচনটিকে সাধারণ দরিদ্র মুসলিমের মুক্তির নির্বাচন হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছিলেন। এমনই আরও বেশকিছু কারণে ১৯৪৬-এর নির্বাচনে পুরো ভারতবর্ষের মধ্যে একমাত্র পূর্ববাংলাতেই মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তা মুসলিম লীগকে পাকিস্তান সৃষ্টিতে অনেকখানি সাহায্য করে। তবে অন্দর মহলের একটি রাজনীতি পাকিস্তান সৃষ্টিতে বেশি সাহায্য করেছিল। ওই অন্দর মহলের রাজনীতি বিস্তারিত ব্যাখা না করে খুব সংক্ষেপে বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্ব রাজনীতি এবং কংগ্রেসের কিছু নেতা ওই বিশ্ব রাজনীতির চক্রে পা দেওয়ায় পাকিস্তান সৃষ্টি, বিশেষ করে ভারত ভাগ আরও বাস্তবে চলে আসে। ফলে শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের হাত দিয়েই পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। এ কারণে ১৯৪৭-এর ১৪ আগস্ট যখন মুসলিম লীগ পাকিস্তান হাতে নিয়ে পূর্ববাংলায় আসে বা পূর্ববাংলায় পাকিস্তানি পতাকা ওড়ে, ওই সময়ে পাকিস্তানে মুসলিম লীগ অনেকখানি জাতীয় প্ল্যাটফরমের রূপ নেয়। আর এখানেই বড় প্রশ্ন, ১৯৪৭-এ একটি দল জাতীয় প্ল্যাটফরমে রূপ নিয়ে মাত্র ৭ বছরের ভেতর কেন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল?

মুসলিম লীগ সব থেকে বড় ভুল করেছিল বাংলা ভাষার প্রশ্নে সঠিক অবস্থান নিতে না পারায়। ফলে তারা ১৯৫৪-এর নির্বাচনের আগেই প্রগতিশীল শিক্ষিতসমাজে, বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণসমাজে তাদের শতভাগ অবস্থান হারিয়ে ফেলে। তবে এর পাশাপাশি ১৯৫৪-এর নির্বাচনের অনেক আগেই অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের শেষ দিক থেকেই তারা দেশের দরিদ্র মুসলিম সমাজের ভেতর তাদের অবস্থান হারাতে শুরু করে। এই অবস্থান হারানোর ক্ষেত্রে সব থেকে বড় কারণ ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই খাদ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারা। ১৯৪৭, ’৪৮, ’৪৯-এ মুসলিম লীগ সরকার খাদ্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যেসব পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল, সবই ছিল তাদের জন্য ভুল পদক্ষেপ। তারা খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলাগুলো থেকে খাদ্য সংগ্রহের জন্য লেভি সিস্টেম চালু করে। এ ছাড়া দেশের ভেতর খাদ্য চলাচলে নানা রকম বিধি-নিষেধ আরোপ করে। এ দুটি কাজই সরকার তার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে করেনি। এ ক্ষেত্রে তারা নির্ভর করেছিল পুরোপুরি প্রশাসনের ওপর। মুসলিম লীগ সরকারের প্রশাসনের দুটো বড় ঘাটতি ছিলÑ এক. এরা ব্রিটিশ যেভাবে কলোনি শাসন করত, ওইভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত। অন্যদিকে তারা মোটেই উপলব্ধি করতে পারেনি, একটি স্বাধীন দেশের জনগণের প্রশাসনের কাজ কী? মুসলিম লীগ সরকার তাদের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করলেও খুব বেশি লাভবান হতো না। কারণ মুসলিম লীগের জনপ্রতিনিধিরা খুব বেশি জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। তাই সরকার যখন খাদ্য সমস্যার সমাধানে ভুল পদক্ষেপ নিচ্ছে, ওই সময় তাদের জনপ্রতিনিধিরা কী পার্লামেন্টে, কী ব্যক্তিগতভাবে সরকার বা মন্ত্রীদের কোনো ভালো পরামর্শ দিতে পারেননি। এমনকি পার্লামেন্টে যখন বিরোধীদলীয় সদস্যরা বলছেন, সরকার খাদ্য সমস্যার সমাধান ভুল পথে করছেন, এতে দুর্নীতি হচ্ছে, মানুষ নিপীড়িত হচ্ছে অথচ দরিদ্ররা খাদ্য পাচ্ছে নাÑ ওই সময় সরকারি দলের জনপ্রতিনিধিরা এই সত্য উপলব্ধি না করে তারা বলতে থাকেন, বিরোধী দল শিশুরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে।

প্রশাসন একের পর এক খাদ্য সমস্যা সমাধানে যে পদক্ষেপগুলো নিতে থাকে, তা সবই ছিল ব্রিটিশ যেভাবে ১৯৪৩ ও ’৪৪-এর দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করেছিল, ওইভাবে। অর্থাৎ মানুষকে নিপীড়ন করে ও সত্যকে লুকিয়ে। ফলে দেখা যায়, মুসলিম লীগ সরকার ১৯৫২-তে ঢাকার রাজপথে গুলি চালিয়ে চার ছাত্রকে হত্যা করার আগে তাদের হাতে কয়েকশ কৃষকের রক্ত লেগে যায়। এই সংখ্যা প্রকৃত গবেষণা করলে আরও বেশি হবে। কারণ ১৯৪৭ থেকে যখনই খাদ্যের দাবি বেশি হয়েছে বা খাদ্য সংকট নিয়ে কোনো এলাকায় সমস্যা হয়েছেÑ যেমন মানুষ খাদ্যের দাবিতে জড়ো হতে গেছে, তখনই প্রশাসন তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে। কোথাও কোথাও গুলি চালানোর জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডারের অপেক্ষাও পুলিশ প্রশাসন করেনি।

খাদ্যের অভাব এভাবে অস্ত্রের মাধ্যমে করতে গিয়ে মুসলিম লীগ সরকার শুধু ব্যর্থই হয় না, তারা দরিদ্র মানুষের কাছে তাদের অবস্থান হারিয়ে ফেলে, এমনকি গ্রামীণ মধ্যবিত্তের কাছেও। কারণ লেভিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা মুসলিম লীগ সরকারের নির্যাতনের শিকার শুধু হয়নি। তাদের কারও কারও গ্রেফতারসহ নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অন্যদিকে খাদ্যাভাব এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, ’৪৮, ’৪৯, ’৫০-এ সিলেট, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরাসহ দেশের নানা এলাকার দরিদ্র মুসলিমরাও ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়। এর পাশাপাশি মুসলিম লীগ সরকারের ভুল নীতির ফলে পূর্ববাংলা থেকে সব থেকে বেশি মানুষ উদ্বাস্তু হতে বাধ্য হয় ভারত ভাগ বা পাকিস্তান সৃষ্টির পর। এ কারণেই পাকিস্তান হোক না কেন, জিন্নাহ সাহেব প্রথম দিনেই বুঝেছিলেন, রাষ্ট্রটিকে সব নাগরিকের জন্য করতে হবে। কিন্তু পূর্ববাংলার মুসলিম লীগ সরকার সেটি করতে পারেনি। তারা কোনোমতেই হিন্দু নেতা ও সাধারণ দরিদ্র হিন্দু জনগোষ্ঠীকে তাদের আস্থায় নিতে পারেনি। এর বদলে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে ওই জনগোষ্ঠীর অনেকেই দেশত্যাগে বাধ্য হয়। কোনো দেশ থেকে যখন এভাবে কোনো জনগোষ্ঠী দেশত্যাগে বাধ্য হয়, তখন ওই সরকারের প্রতি আস্থা কমে আসে সবার। কেননা স্বাভাবিকই দেশ তখন কম স্থিতিশীল থাকে। শুধু হিন্দু জনগোষ্ঠী নয়, মুসলিম লীগ সরকারের প্রশাসনের কারণে ক্ষুদ নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী যেমনÑ গারো, হাজং, সাঁওতাল, মনিপুরী প্রভৃতি জনগোষ্ঠীও দেশত্যাগে বাধ্য হয়। অন্যদিকে ভারত থেকে যে মুসলিমরা আসে, তাদের জন্য খাসজমি বা সরকারি জমি বরাদ্দ না দিয়ে সরাসরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও হিন্দুদের ফেলে যাওয়া জমি বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করে মুসলিম লীগ সরকার। এটিও ছিল এক ধরনের হঠকারিতা। কারণ খাদ্যাভাব ও নিরাপত্তার অভাবে যারা চলে গেছে, তারা দেশ স্থিতিশীল হলে আবার যাতে ফিরে আসতে পারে, সে পথ জোর করে বন্ধ করা উচিত হয়নি। এর পাশাপাশি যেখানেই সাধারণ মানুষ আন্দোলন করতে গেছে অর্থাৎ টঙ্ক আন্দোলন, নানকার আন্দোলন, হাজং আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহÑ সবকিছুর ভেতর কমিউনিস্টদের ছায়া দেখে সরকার সেখানে নির্বিচারে গুলি চালায়। তাই ১৯৫৪-এর নির্বাচনে যখন মুসলিম লীগ যুক্তফ্রন্টের মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন তারা একটি ব্যর্থ সরকারের প্রতিনিধি শুধু নয়, তাদের হাতে শত শত মানুষের রক্ত। এ কারণে তাদের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়াটা অনেকটা অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। আর তাদের বিপরীতে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও সোহরাওয়ার্দীকে মানুষ দেখতে পায় সফল দুই রাষ্ট্র পরিচালক হিসেবে। আর তাদের সঙ্গে পায় অনলবর্ষী বক্তা শুধু নয়, ততদিনে পূর্ববাংলার তরুণ মানসে স্থান নিয়ে নেওয়া এক তরুণ নেতা শেখ মুজিবকে। আবার গ্রামের সরল-সোজা মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে লুঙ্গি পরা মওলনা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তাই অতিসহজে মুসলিম লীগ শুধু নির্বাচনে পরাজিত হয় না, বরং নির্বাচনের পর দেখা যায়, পূর্ববাংলার মাটিতে তাদের কোনো অবস্থানই নেই। মুসলিম লীগের এই নিশ্চিহ্ন হওয়ার ভেতর দিয়ে পূর্ববাংলায় পাকিস্তানের অধ্যায়ও শেষ হওয়ার যাত্রা আরও সহজভাবে শুরু হয়। হ

advertisement
Evall
advertisement