advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনায় মৃতদের মর্যাদাকে যেভাবে অস্বীকার করছে ইতালি

২৬ মার্চ ২০২০ ০৯:৫২
আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ১৩:০০
স্কেচ : জিল্লা দাস্তমালচি
advertisement

করোনাভাইরাসে প্রতিদিন শত শত মানুষের মৃত্যুর জেরে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা করেছে ইতালি। অনেক আক্রান্তকে পরিবারের পক্ষ থেকে বিদায় জানানোর সময়ও দিচ্ছে না করোনাভাইরাস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইতালিতে করোনায় মৃতদের করুণ পরিণতির কথা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তিদের অন্তিম যাত্রায় যে মর্যাদা দেওয়া হয়, তা দিচ্ছে না ইতালি। দেশটির মিলানের একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মী আন্দ্রে সিরাতো বলেন, ‘এই মহামারি এক ব্যক্তির দুবার মৃত্যু ঘটায়।’

তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগে প্রথমে প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর কী হয় তা আর প্রকাশ করা হয় না।’ ‘মৃতদের পরিবারগুলো বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে এবং এটি মেনে নেওয়া সত্যি কঠিন’ যোগ করেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের ওই কর্মী।

ইতালিতে করোনাভাইরাসে অনেকেই হাসপাতালের আইসোলেশনে মারা যাচ্ছেন, যাদের আশেপাশে পরিবারের বা আত্মীয়-স্বজন নেই। সংক্রমণ এড়াতে পরিবার-পরিজনদের হাসপাতাল পরিদর্শনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

যদিও ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃতদেহ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায় না, তবে এটি মৃত ব্যক্তির জামাকাপড়ে এক ঘণ্টার মতো বেঁচে থাকতে পারে। তাই দ্রুত লাশ প্যাকেটবন্দী করা হচ্ছে।

ম্যাসিমো ম্যানক্যাসট্রোপা নামে ক্রেমোনা শহরের আন্ডারটেকার বলেন, ‘অনেক পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তিকে শেষবারের মতো দেখার অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরিষ্কার কাপড়েও মৃতদের শেষকৃত্য করা হচ্ছে না। অধিকাংশকেই হাসপাতালের গাউনেই শেষকৃত্যু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

করোনাভাইরাসে পুরো পৃথিবীর মধ্যে ইতালিতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। দেশটিতে এই ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা গতকাল পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০৩ জনে।

বুধবার দেশটিতে নতুন করে আরও ৫ হাজার ২১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩৮৬ জন। তবে এখনও চিকিৎসাধীন ৫৭ হাজার ৫২১ জন। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।

advertisement