advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মাঠে সক্রিয় সশস্ত্র বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ২৩:২৭
advertisement

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে তথা দেশব্যাপী উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় গতকাল বুধবার থেকে মাঠে নেমেছে সশস্ত্র বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ কর্তৃক ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সারা দেশে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছেন।

দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসককে (ডিসি) সভাপতি করে গঠিত হয়েছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি। তাই মাঠে নামার আগে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা

ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই জেলা শহরগুলোতে শুরু হয়েছে সেনাবাহিনীর টহল। তারা হ্যান্ড মাইকে সবার প্রতি আহ্বান জানান জনসমাগম না করার জন্য। এর পাশাপাশি চলছে সচেতনতামূলক প্রচারণা। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার বিষয়েও তারা সজাগ রয়েছেন।

গতকাল বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকের পাঠানো খবরÑ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া জানান, জেলায় জনসাধারণকে করোনার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে সচেতনতামূলক প্রচারনা ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বগুড়া শহর ও সকল উপজেলায় এ প্রচারণা চলছে। জেলার পাঁচটি উপজেলায় সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ডিসি ফয়েজ আহাম্মদ জানান, সেনা সদস্যরা প্রচারণামূলক কাজ শুরু করছে। শহরসহ গোটা জেলায় প্রচারনা অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা জানান, জনসমাগম বন্ধে চলছে সেনা টহল। নগরীতে বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গতকাল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে সেনা সদস্য বহণ করা গাড়ী বহর। সেনা সদস্যরা হ্যান্ড মাইকে জনসমাগম না করার আহবান জানান।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে জানান, জেলা সদরে একশ জন ও প্রতিটি উপজেলায় ৩৫ জন সেনাসদস্য মাঠে থাকবেন। হবিগঞ্জ সদর ও শায়েস্তাগঞ্জ অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে দুযোর্গের এই মুহুর্তে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য কাজ করবেন তারা।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন, দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সর্বোপরি লোকজনকে ঘরে ফেরাতে কী কী করণীয় এসব বিষয় নিয়ে গতকাল বিকালে সেনাবাহিনী-প্রশাসন ও রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, গতকাল বুধবার সকাল থেকে জেলা শহরে সব রকম শপিং মল, মার্কেট বন্ধ ও চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। সকাল থেকে সেনাবাহিনীর গাড়িবহর শহরে টহল দিয়ে সরকারি ঘোষণা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট দোকান, মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন।

লামা প্রতিনিধি জানান, সংকট মোকাবিলায় সহায়তার জন্য বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। করোনার সংক্রমন রোধে বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা, সামাাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণ ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মাঠে সক্রিয় আছেন সেনাসদস্যরা। তাদের সঙ্গে রয়েছে পুলিশবাহিনীর সদস্যরাও।

মোংলা প্রতিনিধি জানান, করোনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বুধবার দুপুরে মোংলা নদীর ফেরীঘাট থেকে নৌ-সেনাদের বহর ও গাড়ী সহ শহরে প্রবেশ করে নৌবাহিনীর সদস্যরা। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও এম্বুলেন্স সহ নৌবাহিনীর দুটি প্লাটুন নৌ-সেনা কাজ করবে মোংলা বন্দর ও পৌর শহর সহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশের উপকূলীয় ৬ জেলায় কাজ শুরু করেছে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলো। ইতিমধ্যে খুলনা নৌ অঞ্চল থেকে ১৭ কর্মকর্তাসহ ১৮৬ নৌ সদস্যের ৮টি কন্টিনজেন্ট বিভিন্ন প্লাটুনে ভাগ হয়ে উপকূলীয় বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলায় কাজ করছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল খেকে ১৬ কর্মকর্তাসহ ১৪৪ নৌ সদস্যের আরও ৭টি কন্টিনজেন্ট ভোলা সদর, বোরহান উদ্দিন, দৌলতখান, চর ফ্যাশন, মনপুরা, লালমোহন, তজুমুদ্দিন, সন্দ¡ীপ, হাতিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকায় তৎপর আছে। উপকূলীয় এসব এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় নিশ্চিত করা, দূর্গম এলাকায় সংক্রমিতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, বিদেশ ফেরত নাগরিকদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নৌ সদস্যরা। এছাড়া যে কোনো প্রয়োজনে সার্বিক সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বাহিনীটি।

এদিকে বিমানবাহিনীর প্রত্যেকটি ঘাঁটিতে ইতোমধ্যে ‘করোনা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল’ স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিমান বাহিনীর একটি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ টিম প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সেবা প্রদান করবে। পাশাপাশি জরুরি বিমান পরিবহন এবং মেডিক্যাল ইভাকোয়েশন সহায়তা প্রদানেও প্রস্তুত বিমানবাহিনী। এছাড়া প্রোভোস্ট পেশার বিমানসেনারা আশকোনার হাজী ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে থাকা বিদেশ ফেরত মানুষের নিরাপত্তা বিধানে আগে থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে বিমানবাহিনীর নিজস্ব এলাকায় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, বাহিনীর সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিন ও চিকিৎসা বহরগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, করোনা মোকাবেলায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদান করেছে নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ (বানৌপকস) সংঘ। হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, গ্লোভসসহ জীবানুনাশক সাবান ও পাউডার প্রদান করা হয়। গতকাল বুধবার নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ (বানৌপকস) সংঘের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফরোজা আওরঙ্গজেব শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়–য়ার নিকট এসকল মেডিক্যাল সামগ্রী হস্তান্তর করেন।

বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ

সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে দেশের সকল জেলায় মোতায়েনকৃত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্পর্কে কোন ধরনের অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অনুমান নির্ভর সংবাদ ও ছবি প্রকাশ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও, সশস্ত্র বাহিনী সর্ম্পকে সংবাদ পরিবেশনের পূর্বে আইএসপিআর এর নিকট থেকে যাচাই করে নেওয়ার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

advertisement