advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

থেমে গেছে জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২০ ০৮:২৪
রাজধানীর ব্যস্ততম একটি মার্কেটের বর্তমান চিত্র। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু হওয়া ১০ দিনের ‘লকডাউন’ শুরু হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার প্রথম যে সূত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ঘরে অবস্থান করা, গতকাল সারাদেশে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে মানুষ কার্যত ঘরবন্দি থাকায় নিস্তব্ধ ছিল পুরো দেশ। থেমে গেছে জনজীবন।

রাস্তাঘাট, হাটবাজার, স্টেশন-টার্মিনাল ছিল ফাঁকা। অতিজরুরি প্রয়োজন ছাড়া তেমন কেউ ঘরের বাইরে বের হননি। রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ ঘরের বাইরে বের হলে কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে। গতকাল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হলেও কোথাও ছিল না চিরচেনা উদযাপন। করোনার কারণে স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকীতে এসে এমন অভাবনীয় দৃশ্য দেখতে হলো দেশবাসীকে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত ১০ দিনের ছুটি গতকাল শুরু হয়। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, গণপরিবহন, মার্কেট বন্ধ থাকবে।

হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবা, পণ্য পরিবহন, নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া প্রায় সব কিছুই এ কদিন বন্ধ থাকবে। ব্যাংকে দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা লেনদেন হবে। এ সময় মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা কার্যকর করতে মাঠে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। আগেই বন্ধ হয়েছে নৌযান ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

করোনা নিয়ে নানামুখী প্রচারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছিল ধীরে ধীরে। কয়েক দিন ধরেই রাজধানী ছিল অনেকটা ফাঁকা। রাস্তায় কমে যায় যান চলাচল। আর গতকাল লকডাউন শুরু হলে সব ধরনের গণপরিবহনও বন্ধ হয়ে যায়। পাল্টে যায় চিরচেনা ঢাকার চিত্র। হুটহাট দু-একটি মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ি দেখা যায় রাজপথে। হেঁটে চলা মানুষের সংখ্যাও ছিল একেবারেই হাতেগোনা। ওষুধ, কাঁচামাল ও মুদিদোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ। সড়কে নেই চিরচেনা যানজট। গাড়ির কান ফাটানো হর্নও নেই।

ন্ধ্যার পর রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় এক ধরনের ভুতুড়ে পরিবেশ দেখা গেছে। রাস্তায় একের অধিক কাউকে দেখা গেলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। আর সেনাবাহিনী মাঠে থাকায় মানুষ আরও ঘরমুখী হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার থেকেই বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে মাঠে রয়েছেন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা।

ভাইরাসটি মোকাবিলায় হিমশিম খাওয়া বিশ্বের অনেক দেশই ১৪ দিন থেকে শুরু করে ২১ দিন পর্যন্ত বা অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়া চীনও এই কৌশলে সফলতা পায়। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ করা হয়। একই দিন রাত ১২টার পর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট বন্ধ করা হয়। এদিকে ‘লকডাউন’ চলাকালে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও গতকাল কোথাও কোথাও মানুষকে ট্রাকে করেও গন্তব্যে পৌঁছতে দেখা গেছে।

বিদেশফেরত কোনো প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন কিনা তা দেখভাল করছে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে সেনাবাহিনীর ফলমুল পাঠানোর খবর গণমাধ্যমে এসেছে। আর যারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকছেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।

প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের ছুটির দিনে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ছাড়াও রাজধানীর রমনা পার্ক, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাতিরঝিলসহ দর্শনীয় স্থানগুলো লোকে লোকারণ্য থাকে। কিন্তু গতকাল ছিল পুরো উল্টো চিত্র।

বরিশাল প্রতিনিধি জানান, ‘লকডাউনের’ অংশ হিসেবে জেলাজুড়ে থাকা শতাধিক খেয়াঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সকালে জেলা প্রশাসন খেয়াঘাটে পারাপার বন্ধ করে দেয়। দুপুরে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া, অফিস-আদালত, গণপরিবহন, মার্কেট বন্ধ থাকায় রাস্তাঘাটও ছিল ফাঁকা।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে সঙ্গে শহরে টমটম, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্র, এমনকি রিকশা চলাচলও বন্ধ রয়েছে। গতকাল দুপুরে বাসস্টেশন ট্রাফিক মোড়, রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন, রুমা বাসস্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কোনো ধরনের যান চলাচল করছে না।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, করোনা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে নাটোরে রাস্তায় একসঙ্গে একজনের বেশি চলাচল করতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। করোনা প্রতিরোধে জনসমাগম ঠেকাতে পুলিশের পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের পুলিশ সুপার এ তথ্য জানান।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, জরুরি সেবা ছাড়া জেলায় সবকিছুই বন্ধ রয়েছে। কিছু সময় পর পর শহরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। ভিড় এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের সব ফার্মেসির সামনে তিন ফুট দূরত্ব রেখে গোল দাগ দিয়ে চিহ্নিত করে দিয়েছে। একেকটি দাগের মধ্যে একেকজন ক্রেতাকে দাঁড়াতে হবে। এভাবে ভিড় বা স্পর্শ এড়িয়ে কেনাকাটা করতে হবে।

advertisement
Evall
advertisement