advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতি ১৬শ কোটি টাকা

গোলাম রাব্বানী
২৭ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ২৩:২৭
advertisement

করোনার প্রভাবে দেশের অধিকাংশ দোকান, পরিবহন ও কারখানা বন্ধ থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এ স্থবিরতার চরম প্রভাব ফেলছে দেশের অর্থনীতিতে। আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় কর্মচাঞ্চল্য কমে গিয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের (ডিসিসিআই) হিসাব অনুযায়ী একদিন হরতাল বা বড় ধরনের দুর্যোগের কারণে কলকারখানা ও দোকান বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয় সামগ্রিক অর্থনীতি।

দেশের সব খাত নিয়ে করা ঢাকা চেম্বারের এ গবেষণা মূলত হরতালের

ক্ষেত্রে করা হয়। বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কলকারখানা বন্ধ থাকায় ক্ষতির পরিমাণটা একই হয়। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট সমস্যায় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে জানান ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।

প্রতিদিনের স্থবিরতার কারণে তৈরি পোশাক খাতে ৪০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পাইকারি বাজার, শপিংমল, শোরুমের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। একদিনে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ইন্স্যুরেন্স খাতে দৈনিক ১৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। পর্যটনশিল্পে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। আবাসন ও নির্মাণ খাত সামগ্রী স্টিল মিল, সিরামিক, সিমেন্ট, রড, কাগজসহ সব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া দৈনিক শিক্ষা খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের রোল মডেল। কিন্তু এ ধরনের বৈশি^ক বিপর্যয় মোকাবিলায় আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যদিও সার্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব নেতিবাচক। তার পরও সবার ভালোর জন্য এগিয়ে আসছি। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হিসাবমতে একদিন দোকান ও শপিং বন্ধ রাখলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। দেশে প্রায় ৩ লাখ গণপরিবহন চলাচল করে। হরতাল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সীমিত আকারে চললেও বর্তমানে কোনো ধরনের গণপরিবহন চলছে না। এমনকি ট্রেন, উড়োজাহাজ সেবাও বন্ধ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির তথ্যানুসারে একদিনে গণপরিবহন স্থবির থাকলে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

এফবিসিসিআইয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্তাকিম আশরাফ আমাদের সময়কে বলেন, দৈনিক ক্ষতির হিসাবটা মূলত হরতালের সময় আমরা চিন্তা করি। কিন্তু এখন করোনার প্রভাব হরতালের চেয়েও জটিল। কেননা হরতালের সময় স্থানীয় দোকানপাট খোলা থাকে, কলকারখানা অনায়াসে উৎপাদন করতে পারে। পরিবহনে কিছু সমস্যা হলেও তা সামঞ্জস্য করা যায়। কিন্তু বর্তমানে যে ধরনের পরিস্থিতি দেখছি তাতে কোনো অবস্থায় সামলে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, হরতালে বৈদেশিক অর্ডারও চালু ছিল। এখন রপ্তানি অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। আর কলকারখানা না চললেও শ্রমিকদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে হবে। সব মিলিয়ে এখন দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

advertisement