advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আরও ৫ রোগী শনাক্ত
ভৈরবে পৌনে দুই হাজার প্রবাসীর খোঁজ নেই

আমাদের সময় ডেস্ক
২৭ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ২৩:২৭
advertisement

দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আরও পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৪৪-এ। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১১ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। এদিকে ইমিগ্রেশন পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিদেশ ফেরত ১ হাজার ৭৯৪ প্রবাসীর সন্ধান মিলছে না। এর মধ্যে ইতালিপাড়ারই রয়েছেন ১২৬ জন।

নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মীরজাদী ফ্লোরা বলেন, নতুন শনাক্ত পাঁচজনের একজন বিদেশ থেকে এসেছেন। আর তিনজন আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে ভাইরাসটি বহন করছেন। আরেকজনের তথ্য আমরা বিস্তারিত অনুসন্ধান

করছি। এরা সবাই পুরুষ। তাদের দুজনের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর, দুজনের ৪১ থেকে ৫০ এবং অপরজনের বয়স ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় (সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত) ১২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩২১টি। পরীক্ষা হয়েছে ৯২০ জনের।

আইইডিসিআর ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা কার্যক্রম প্রসারিত করা হয়েছে জানিয়ে সেব্রিনা বলেনÑ জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হবে। আর পরীক্ষাগুলোও হবে এলাকাভিত্তিক। অর্থাৎ চট্টগ্রামে আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা আর ঢাকায় পাঠানো হবে না। ওখানেই পরীক্ষা হবে। আইইডিসিআরের টিম গিয়েও আর রোগীর নমুনা সংগ্রহ করবে না। আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে নমুনা দেবেন এবং হাসপাতালই আইইডিসিআরে নমুনা পাঠাবে। জনসাধারণের উদ্দেশে এই গবেষক বলেন, শুধু জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হলেই কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত নয়। তিনি সমস্যার জন্য ১৬২৬৩-তে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসা পরামর্শসহ করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা প্রয়োজন কিনা, আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেখানেই খবর পাবেন।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) : ইমিগ্রেশন পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, ২ হাজার ৬ প্রবাসী গত তিন মাসে কিশোরগঞ্জের বাণিজ্যিক উপজেলা ভৈরবে প্রবেশ করেছেন। সম্প্রতি বিদেশ থেকে আসা পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার প্রবাসীদের বাসও এ শহরে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৫ হাজারের মতো। অথচ হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন করেছেন মাত্র তিনশ জন। এর মধ্যে ১৮৯ প্রবাসী স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। কিন্তু তালিকায় থাকা ১ হাজার ৭৯৪ জনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ।

খুলনা : জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে ভর্তি হওয়া এক রোগী গতকাল মারা গেছে বলে জানিয়েছেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কেএম মঞ্জুুর মোর্শেদ। একই সঙ্গে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে স্কুলশিক্ষিকাসহ আরও দুই নারীকে ভর্তি করা হয়েছে।

বাসাইল (টাঙ্গাইল) : রাজধানীর মিরপুরে লকডাউন হওয়া একটি বাড়ি থেকে পালিয়ে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন একজন। এ কারণে তিন পরিবারের ১২ সদস্যকে লকডাউন করা হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফজলে এলাহী এ তথ্য জানান।

কুষ্টিয়া : করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৭ মাসের এক শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শিশুটির বাবা গত ৯ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল পতাকা টানিয়ে ওই বাড়িটি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী (পাবনা) : ঈশ্বরদী পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ওসি পারভেজ জাানান, রাশিয়ান এক নারীর মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাওয়ায় পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে মানিকগঞ্জে নতুন করে ৫৬ জনসহ মোট ৫১৯ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। টাঙ্গাইলে রাখা হয়েছে প্রবাস ফেরত ৮৩১ জনকে। এর মধ্যে ১৬১ জন গতকাল যুক্ত হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন করে ৪৬ জনসহ ৮৫৮ প্রবাসীকে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এরা সবাই ইতালি, সৌদি আরব, দক্ষিণ করিয়া, সিঙ্গাপুর, মালোয়েশিয়া ও ভারত ফেরত। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কুড়িগ্রামে বিদেশ ফেরত ৩১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এর মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৪৩ জন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন ।

advertisement
Evall
advertisement