advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমতলীতে ওসির কক্ষে ঝুলন্ত লাশ

বরগুনা প্রতিনিধি
২৭ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ২৩:২৭
advertisement

হত্যা মামলার সন্দেহভাজন এক আসামির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বরগুনার আমতলী থানার ওসির (তদন্ত) কক্ষ থেকে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির দাবি করা ৩ লাখ টাকা না দেওয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত শানু হাওলাদারের স্ত্রী ঝরনা বেগম বলেন, ‘পাঁচজন পুলিশ যাইয়্যা

সোমবার রাইতে মোর স্বামীরে বাড়ি গোনে ধইর‌্যা আনছে। আনার সময় মোর কাছে টাকা চাইছে। মুই টাকা দেতে রাজি অই নাই, হেইয়্যার লইগ্যা মোর স্বামীকে পুলিশে পিডাইয়্যা মাইয়্যা হালাইছে। মুই এইয়্যার বিচার চাই।’

এ ঘটনায় আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ সুপার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামে গত বছর ৩ নভেম্বরে ইব্রাহিম নামের এক কৃষককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই মামলায় শানু হাওলাদারের সৎভাই মিজানুর রহমান হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় শানু হাওলদারকে গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আমতলী থানাপুলিশ ধরে নিয়ে আসে।

শানু হাওলাদারের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, বিনা অপরাধে আমার বাবাকে ওসি ধরে এনে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। আমরা টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার বাবাকে নির্যাতন করেছে। নির্যাতনের কথা জানতে পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আমি ওসিকে ১০ হাজার টাকা দেই। কিন্তু ১০ হাজার টাকায় তিনি তুষ্ট হইনি। টাকার জন্য নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়ে বারবার টাকা দাবি করেন। বুধবার সকালে বাবার সঙ্গে দেখা করতে থানায় যাই। কিন্তু আমাকে দেখা করতে না দিয়ে ওসি ও ওসি (তদন্ত) গালাগাল করে তাড়িয়ে দেন।

আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, ‘আসামি শানু হাওলাদার বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে ওয়াশ রুমে যাওয়ার কথা বলে। সে ওয়াশ রুম থেকে ফিরে এসে এক ফাঁকে হাজতখানার ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’ কিন্তু হাজতখানায় কোনো ফ্যান নেইÑ সাংবাদিকদের এ কথার জবাবে তিনি বক্তব্য পাল্টে বলেন, ‘ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জনের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’ টাকা না দেওয়ায় তাকে নির্যাতন এবং হত্যা করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

খবর পেয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন আমতলী থানায় আসেন। তিনি ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। নিহত শানু হাওলাদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গুলিশালালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শানু হাওলাদারকে বাড়ি থেকে ধরে থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনা পুলিশের সাজানো।

আমতলী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, টাকা না পেয়ে ওসি তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিচার দাবি করছি।

আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে শানুকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

advertisement
Evall
advertisement