advertisement
advertisement

মসজিদে নামাজ বন্ধ রাখা যাবে : আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া

অনলাইন ডেস্ক
২৭ মার্চ ২০২০ ০৪:১১ | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২০ ১০:১১
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

মসজিদ থেকেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় মসজিদে নামাজের জামাত ও জুমার নামাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা যাবে বলে মত দিয়েছেন মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া বোর্ড। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই মত দিয়েছেন তারা।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ডা. আরিফ আলভি দেশটিতে নিযুক্ত মিসরীয় রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ও দেশটির গ্রান্ড মুফতি ড. আহমাদ তাইয়্যেবের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ চান।

চলমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর করণীয় কী হবে, তারা মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়বেন কিনা, এ সম্পর্কে একটি ফতোয়া জারি করার আবেদন জানিয়েছিলেন পাক প্রেসিডেন্ট। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চপদস্থ বিজ্ঞ আলেমরা করোনাভাইরাস সম্পর্কিত এ ফতোয়াটি জারি করেন।

আল-আজহারের জারি করা ফতোয়ায় বলা হয়, করোনাভাইরাস পুরো পৃথিবীতে খুব দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এই ভাইরাসে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাও কম নয়। ইসলামী আইনের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো, মানুষের জীবন বাঁচানো এবং যাবতীয় বিপদ থেকে সবাইকে রক্ষা করা। এই বৃহৎ লক্ষকে সামনে রেখেই প্রতিটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মসজিদে সম্মিলিত নামাজ আদায় এবং জুমার নামাজের বিষয়ে বিধি-নিষেধ আরোপের অনুমতি রয়েছে।

ফতোয়ায় আরও বলা হয়, মানবজীবন সুরক্ষার জন্য এই মুহূর্তে সবধরনের সভা-সমাবেশ ও দোয়া অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা উচিত। বিশেষ করে বলা হয়, যারা বয়োবৃদ্ধ, তারা নিজেদের ঘরেই নামাজ আদায় করবেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজে অংশ নেওয়ার জন্য মসজিদে যাবেন না। জনসমাগমের কারণে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে বলে ফতোয়াটিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। পৃথিবীর ১৭৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ১০ হাজার ১০৮ জন। মারা গেছেন ২২ হাজার ৯৯৩ জন। আর সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৯৮৩ জন। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস প্রায় তিন মাসেই গোটা বিশ্বে ভয়াবহ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

advertisement