advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জ্বর-শ্বাসকষ্টে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান, চিকিৎসা পাচ্ছেন না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ মার্চ ২০২০ ২১:৪৪ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২০ ২২:২১
advertisement

পিকনিকে গিয়ে জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন ঢাকার এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। পরে শরীরে জ্বর নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ ‘জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায়’ আক্রান্ত হন। কিন্তু তাদের হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। এ অভিযোগ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর।

আজ শনিবার দুপুর সোয়া ৩টার দিকে এ অভিযোগ তোলেন চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী। বলেন, ‘আড়াই বছরের শিশুসহ স্বামী (৩০) ও স্ত্রী (২৪) জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তারা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।’

অসুস্থ রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জানান, গত ১৩ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের আয়োজনে মাদারীপুরে পিকনিকে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানের অনেকের মধ্যে একজন জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায়ির সংস্পর্শে আসেন। এরপর থেকে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। গতকাল শুক্রবার শরীরে জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেক্স ট্রেনে চড়ে ঠাকুরগাঁও আসেন। আজ সকালে বাড়ি পৌঁছান। বাড়ি গিয়ে তার জ্বরের তীব্রতা বেড়ে যায়, একই সঙ্গে তার শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তার স্ত্রী-সন্তানেরও একই সমস্যা শুরু হয়।

আক্রান্ত ব্যক্তি আরও জানান, স্ত্রী-সন্তানসহ তাদের সবার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে, কেউ ঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন না। এ ঘটনা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে গ্রামবাসী। যে কারণে তারা কোনো ধরনের চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী এ ঘটনা জানতে পেরে তাদের সাহায্যে এগিয়ে যান। আক্রান্ত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন তিনি। কিন্তু গাড়িচালক যখন জানতে পারেন, অসুস্থ তিনজনই জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের নিয়ে যেতে রাজি হননি তিনি।

আইয়ুব আলী বলেন, ‘অন্যান্য যানবাহনে করে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কেউ যেতে চাচ্ছে না।’

পরে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বাস্থ্যকর্মী গিয়েছিলেন আক্রান্ত ওই রোগীর বাড়ি।

এ বিষয়ে দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার জানান, ওই ব্যক্তির বাড়ি গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়ে এসেছে স্বাস্থ্যকর্মী। তবে রোগীদের জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট আছে, এটা তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘অসুস্থ ব্যক্তিদের শরীর থেকে রক্তের নমুনা নেওয়া হবে। পরীক্ষার জন্য সেই নমুনা ঢাকায় পাঠানো হবে। অসুস্থ তিনজনের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে।’

advertisement
Evall
advertisement