advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নতুন আক্রান্ত নেই সুস্থ আরও ৪ জন

আরিফুজ্জামান মামুন
২৯ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২০ ২৩:৪১
advertisement

করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। নতুন করে সুস্থ হয়েছেন আরও চারজন। এ নিয়ে কোভিড-১৯ সংক্রমিত মোট ১৫ জন সুস্থ হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জনই আছে। এ পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮।

গতকার শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বমোট ৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা কোনো আক্রান্ত রোগী পাইনি। অতএব আক্রান্ত যা ছিল তাই আছে। দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮। এ পর্যন্ত ১৫ জন মুক্ত হয়েছেন।’

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যারা কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন এবং রোগ নির্মূল হয়েছে, তাদের পর্যালোচনা করে দেখেছিÑ তারা সর্বোচ্চ ১৬ দিন হাসপাতালে ছিলেন। যখন থেকে তাদের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তাদের লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একজন ছিলেন কিডনি সমস্যাজনিত তাকে ডায়ালাইসিস করেছি। যাদের বয়স ৬০-এর বেশি তারা একেবারেই ঘরের বাইরে যাবেন না। গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে ৩৪৫০ কল এসেছে, এর সবই কোভিড-১৯ সংক্রান্ত।

আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে আক্রান্তের তথ্য তুলে ধরেন। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, এ অঞ্চলে সর্বমোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৩২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩৯৬। দক্ষিণ এশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ১০৫। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে যুক্ত হয়েছে ২৬ জন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশেই এখন কোভিডের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রকেই এখন এপিসেন্টার (কেন্দ্রস্থল) হিসেবে বলা হচ্ছে। আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, সেগুলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে সবকিছুর সফলতা নির্ভর করবে জনগণ নির্দেশনা কতটুকু মেনে চলেছে তার ওপর। যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, আমি অনুরোধ করব আমরা সবাই যেন সেগুলো মেনে চলি।’

চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষায় মেলেনি করোনা রোগী

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে বায়োসেফটি ল্যাবে চট্টগ্রামের রোগীদের করোনা শনাক্তের পরীক্ষা করা হচ্ছে। গত চার দিনে ২৬টি নমুনা সংগ্রহ করে ১৫টির নমুনা পরীক্ষা শেষে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। এর মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি।

বিআইটিআইডির সূত্র জানায়, ফ্রান্সের একটি সংস্থা বিআইটিআইডি হাসপাতালে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য ১০০ কিট দিয়েছিল। এগুলো দিয়ে এতদিন পরীক্ষা করা হয়নি। গত মঙ্গলবার রাতে সরকার এসব কিট ব্যবহারের অনুমতি দেয়। বুধবার থেকে ওসব কিট দিয়েই নমুনা সংগ্রহ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। একই দিন স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আরও ১৫০ কিট আসে এই প্রতিষ্ঠানে। চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব কিট আছে, সেগুলো দিয়ে অন্তত ২০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। এ পর্যন্ত বিআইটিআইডি কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম থেকে ২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা প্রায় শেষ করেছে। তার মধ্যে ১৫ জনের নমুনা ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়।

বিআইটিআইডির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, আমাদের নিজস্ব ল্যাবে ২৩টি নমুনা পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যে ১৫টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। তিনি বলেন, গতকাল (শুক্রবার) নতুন করে তিনটি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি এসেছে বান্দরবান থেকে। চট্টগ্রাম শহর থেকে দুটো নমুনা সংগ্রহ করেছি দুজনের বাসায় গিয়ে। এর মধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন।

বিআইটিআইডি পরিচালক ডা. আবুল হাসান চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, যে কিটগুলো এসেছে এগুলো তরল জাতীয়। একটি কিট দিয়ে একাধিক ব্যক্তির রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, চট্টগ্রামে দুইটি হাসপাতালে ১৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পাঁচটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র। তিনি বলেন, কক্সবাজার ছাড়া এখনো চট্টগ্রামে এ ভাইরাসের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

বাঘাইছড়ির ১২ পরিবার কোয়ারেন্টিনে

বাঘাইছড়িতে ১২ পরিবারকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করেছে উপজেলা প্রশাসন। নতুন করে দেওয়া হয়েছে ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ ঘোষণা। গতকাল সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবিব জিতু উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ‘পশ্চিম মুসলিমপাড়া ব্লক’ এলাকায় উপস্থিত হয়ে বাড়িতে ‘লকডাউন করা হলো’ লেখা কাগজ সেঁটে দেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ তাৎক্ষণিক খোঁজ নেন। পরে ইউএনও ‘লকডাউন’ ঘোষণা প্রত্যাহার করে হোম কোয়ারেন্টিন ঘোষণা দেন।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ট্রেনিং শেষে ফিরে আসা এক আনসার সদস্যের দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন অভিযানে যায়। তার সংস্পর্শে থাকা ও স্বজনদের মোট ১২ পরিবারকে ‘লকডাউন’ করে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়। এর পরই সেখানে আনসার সদস্য নিয়োজিত করা হয় পাহারায়। এ সময় স্থানীয় সেনাবাহিনী-বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ ব্যক্তিকে চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, বাঘাইছড়িতে ১২ পরিবার লকডাউনে নয়, হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গণমাধ্যমে ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি।

advertisement
Evall
advertisement