advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা ভাইরাস : মন কেন ভয় পায়

অ্যামি ম্যাকাইভার
২৯ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২০ ২৩:৪২
advertisement

করোনা ভাইরাস বিশ^ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া শুরু হলে টয়লেট টিস্যু, হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর মাস্ক মজুদ রাখার জন্য মানুষ কী রকম ছোটাছুটি করেছে, আমরা তা দেখছি। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এ কারণে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং) নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলো বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করছে কিংবা দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছে। এমন অনিশ্চয়তায় তথাকথিত ‘আতঙ্কের কেনাকাটা’ (প্যানিক-বায়িং) করছে অনেকে। দোকানের তাকগুলো মুহূর্তেই খালি করে ফেলছে উদ্বিগ্নরা।

এ মহামারী শুরু হলে অনিশ্চয়তায় পড়ে মানুষকে এ ধরনের উদ্বেগের কেনাকাটা করতে দেখা গেছে সেই ১৯১৮ সালেও। সেবার মহামারী হয়েছিল স্প্যানিশ ফ্লু। উদ্বেগের সেই সময় বাল্টিমোরে ওষুধের দোকানগুলোয় মানুষ হামলে পড়েছিল। ফ্লু প্রতিরোধ করতে পারে কিংবা এর উপসর্গগুলো থেকে সুরক্ষা দিতে পারে- সম্ভাব্য এমন সব কিছুই কিনে ফেলেছিল তারা। ২০০৩ সালের সার্স প্রাদুর্ভাবের সময়ও এমনটা দেখা গেছে।

‘যখন এ রকম অতিতৎরপতা দেখবেন’- হার্ভার্ড টিএইচ চান স্কুল অব পাবলিক হেলথের মনোরোগ বিস্তার বিভাগীয় অধ্যাপক ক্যারেস্টান কোনেন ব্যাখ্যা করছেন, ‘বুঝবেন, লোকেরা আসলে তাদের অস্তিত্ব হুমকিতে আছে বলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে, নিজেকে এমনটা বুঝ দেওয়ার জন্য তারা তখন এ রকমটা করে থাকে।’ কিন্তু ঠিক কী কারণে আমরা আতঙ্কিত হই? আর কী করেই বা মহামারীর মতো অত্যন্ত চাপের সময় নিজেদের আমরা শান্ত রাখতে পারি? এটা নির্ভর করবে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চল পরস্পরের মধ্যে ঠিক কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করছে, এর ওপর।

ভয় ও আতঙ্কের বিবর্তন : ভয় আর দুশ্চিন্তা ছিল বলেই বিবর্তনের ধারায় টিকে গেছে মানবজাতি। ভয়ের বোধ ছিল বলেই আজ আমরা কোনো হুমকিতে পড়লে (যেমন সামনে যদি সিংহ পড়ে) তা মোকাবিলা করার জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাই। দুশ্চিন্তার বোধ ছিল বলে আগে থেকেই অনুমান করতে পারি ভবিষ্যতে কোনো হুমকি আছে কি না (আশপাশে কি সিংহ আছে)।

মস্তিষ্কের ভেতর অংশগুলোর মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া বা বোঝাপড়া যখন ঠিকঠাক চলে না, তখনই জন্ম নেয় আতঙ্ক। বিষয়টা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোনেন বলেন, মস্তিষ্কের আবেগিক কেন্দ্র হলো অ্যামিগডালা। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা কী ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছি, ওই অংশটা আমাদের তা আগেভাগে জানিয়ে দেয়। কিন্তু সিংহ নিয়ে ভাবলাম কী ভাবলাম না, এটা নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই মোটেও। কিন্তু সম্মুখভাগের (ফ্রন্টাল) কর্টেক্স আমাদের তাড়িত করে যেন আমরা আগেভাগেই সিংহ নিয়ে চিন্তাভাবনা করি। এই অংশটা আমাদের আচরণগত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটা ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে এর পর সিংহের সামনে পড়লে কী করতে হবে, তা নিয়ে।

কখনো কখনো মস্তিষ্কের এসব হিসাব-নিকাশের মধ্যে হুট করে ঢুকে পড়ে দুশ্চিন্তা। মস্তিষ্কের যেসব অংশ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পটু, তাদের সঙ্গে সলাপরামর্শ না করে সম্মুখ কর্টেক্স বরং দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়। কারণ একই সময়ে মস্তিষ্কের অন্য কিছু অংশ হিসাব কষতে থাকে সিংহের সামনে পড়লে আমরা কী কীভাবে তার নৈশভোজের পাত্র হয়ে যেতে পারি, তা নিয়ে। এ রকম সময় পুরো বিষয়টা তালগোল (শর্টসার্কিট) পাকিয়ে যায়। আর তখনই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সিংহরা কালরাতে কোথায় থাকতে পারে, এ নিয়ে আমাদের ভাবানোর জন্য সম্মুখ কর্টেক্স যখন সক্রিয়, আমাদের অ্যামিগডালা তখনই তোড়জোড় শুরু করে দেয়।

কোনেন বলছেন, ‘মস্তিষ্কের সবচেয়ে যুক্তিবাদী অংশটা (সম্মুখ কর্টেক্স) যখন অতিরিক্ত আবেগ-অনুভূতি দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখনই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।’ ভয় এত তীব্র হয়ে ওঠে, অ্যামিগডালা তখন মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলে, নিঃসৃত হয় বৃক্করস (অ্যাড্রেনালিন)।

ক্ষেত্রবিশেষে আতঙ্ক জীবন বাঁচাতে পারে। যেমন- হুট করে কোনো বিপদে পড়লে। ধরা যাক, একটা সিংহ তেড়ে আসছে কিংবা গাড়িচাপা পড়তে যাচ্ছি। তখন সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত প্রতিক্রিয়া হতে পারেÑ লাফ, লড়াই কিংবা থ দাঁড়িয়ে থাকা। আমরা চাই না এ রকম মুহূর্তে কী করতে হবে, তা নিয়ে মস্তিষ্কটা লম্বা সময় ধরে নিজের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চালিয়ে যাক। কিন্তু শুধু অ্যামিগডালার কথায় কান দিলে ভয়াবহ পরিণতিও হতে পারে। ১৯৫৪ সালে ‘দ্য নেচার অ্যান্ড কন্ডিশনস অব প্যানিক’ প্রবন্ধে তা দেখিয়েছেন এনরিকো কোয়ারান্টেলি। দুর্যোগের সময় মানুষ কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে যুগান্তকরী গবেষণার্কম আছে এই সমাজবিজ্ঞানীর। ওই গবেষণা প্রবন্ধে তিনি এক নারীর গল্প তুলে ধরেন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনেই ওই নারী তার বাড়ি ছেড়ে পালানো শুরু করেন। তিনি ভেবেছিলেন, সম্ভবত তার বাড়িতে বোমা পড়েছে। কিন্তু তিনি খানিক পর বুঝতে পারলেন, বিস্ফোরণটা আসলে ঘটেছে রাস্তায়। আর তখন তার এও খেয়াল হলো, বাড়িতে তিনি ছোট শিশুকে ফেলে এসেছেন। তাই কোয়ারান্টেলি লিখেছেন, ‘আতঙ্ক অসামাজিক আচরণ নয়, বরং অযৌক্তিক আচরণ। সামাজিক আদর্শের এই যে ব্যত্যয়, এতে অনেক সময় মজবুত সম্পর্কগুলোও ভেঙে পড়ে।’

দীর্ঘমেয়াদি কোনো হুমকি মোকাবিলার ক্ষেত্রেও আতঙ্ক তেমন কাজে দেয় না। আর এ জন্যই নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি সম্মুখ কর্টেক্সের হাতেই থাকা জরুরি হয়ে পড়ে। ওই সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোর ব্যাপারে আমাদের সজাগ রাখে। এর পাশাপাশি ঝুঁকির মাত্রা মূল্যায়ন করে এবং ওই মোতাবেক করণীয় ঠিক করতে থাকে।

অনিশ্চয়তা যেভাবে আতঙ্ক তৈরি করে : এই মহামারীর সময় ক্রমাগত তথ্য ও বার্তার মধ্যে আমরা দেখছি, অনেক মানুষ টয়লেট টিস্যু আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার মজুদ করতে মরিয়া। আবার কেউ কেউ কোনো ঝুঁকিই মনে করছেন না এবং দিব্যি ভিড় জমাচ্ছে পানশালায়। কেন?

অনিশ্চয়তায় পড়ে গেলে ঝুঁকির মাত্রা নিরূপণে মানুষ অসম্ভব কাঁচা। ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিরূপণে আমরা আগাগোড়াই দুর্বল। ঝুঁকি মাপতে গিয়ে হয় আমরা বাড়াবাড়ি রকম চিন্তা করি কিংবা হেয়প্রতিপন্ন করি। এ কথাটা পুরোপুরি খাটে করোনা ভাইরাস মহামারীর বেলাতেও। যেমনটা বলেছেন সোনিয়া বিশপ। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক তিনি।

সরকার, গণমাধ্যম আর জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষগুলো যেসব তথ্য দিচ্ছে, এগুলোর মধ্যে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশপের মতে, এমন অসঙ্গতি উদ্বেগকে উসকে দিচ্ছে।

বিশপ বলেন, ‘সম্ভাব্য জিনিসটাই দ্রুতলয়ে বারবার বদলে যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতি তো আমাদের জীবনে স্বাভাবিক ঘটনা নয়।’

আতঙ্কের মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি : বিশপ বলছেন, অনিশ্চয়তার মুখে ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য আমরা মডেলমুক্ত একটা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারি। এ পদ্ধতি মূলত নিরীক্ষানির্ভর ও ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া। যেমনÑ আমরা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করি। এরপর কী ঘটতে পারে; যদি ঘটে, তা হলে তা কতটা ক্ষতি ডেকে আনবে এবং এটিকে প্রতিরোধ করতে কী করা প্রয়োজনÑ এসব নিয়ে নিজের পূর্বানুমান আমরা বারবার হালনাগাদ করতে থাকি।

আমরা এভাবে ছক ছাড়াই হুমকি মোকাবিলা করি। কিন্তু বিশপ বলছেন, অনেক মানুষ আছে- যারা একটা নির্দিষ্ট ছকে হুমকি মোকাবিলা করে। হয় তারা অতীত হাতড়িয়ে কিছু উদাহরণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে কিংবা ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে, ওই সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে। এখানেই সৃষ্টি হয় ‘প্রাপ্যতা পক্ষপাত’ (অ্যাভেইলেবিলিটি বায়াস)।

আমরা যখন কোনো বিষয়ে বেশি বেশি খবর শুনি বা পড়ি যেমন- বিমান বিধ্বস্তের খবর ফলাওভাবে প্রকাশ ও প্রচার করা হয়, তখন কেউ কেউ অজান্তেই কল্পনা করে বসিÑ আমি ওই বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটায় বসে ছিলাম এবং তখন হয়তো ভাবতে থাকি, বিমানে ওড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আর কিছু নেই। বিশপের ভাষায়- ‘এ রকম দৃশ্যপট কল্পনায় এত সহজে বাস্তবের মতো দৃশ্যমান হয় যে, ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের বিবেচনাকে তা পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলে।’

একইভাবে অনেক মানুষ আছে- যাদের হয় আশাবাদ, নয়তো হতাশার প্রতি পক্ষপাত রয়েছে। মহাধ্বংসের দিন (বা কিয়ামতের দিন) কী ঘটবে, কল্পনা করতে গিয়ে কিছুতেই উদ্বেগ কমাতে পারে না হতাশাবাদীরা। কিন্তু আশাবাদীরা বিশ্বাস করে, খারাপ কিছুই ঘটবে না। এমনকি যদি তারা কোনো ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে পড়ে, তা হলেও তাদের আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি পড়ে না। নিজেদের আশ^স্ত করে এই ভাবনায়Ñ স্বাস্থ্য এত ভালো যে, করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়ার ঝুঁকি তাদের নেই।

বিশপ বলেন, ‘এমন ভাবনায় আসলে ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের কিছুটা অনুভূতি পাওয়া যায়।’

আতঙ্কিত হওয়ার ভালো দিক আছে? : আমরা দেখছি- হয় কেউ চরম আশাবাদী, নয়তো চরম হতাশাবাদী। এই দুইয়ের বাইরে আরেকটা বিষয় অনেক মানুষ অনুভব করেÑ তীব্র উদ্বেগ।

দুর্যোগকালে উদ্বেগের কিছুটা ভালো দিক আছে। আমাদের আরও সচেতন করা এবং মনোবল দৃঢ় রাখার মধ্য দিয়ে ভয় এক ধরনের শক্তি জোগায় [যেমন করোনা সংকটে]। ভয় আমাদের হাত ধোয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়, চোখ রাখতে বলে প্রতিমুহূর্তের খবরের প্রতি এবং হ্যাঁ, এমনকি মুদি দোকান থেকে দরকারি সামগ্রী মজুদ করার তাড়নাও দেয় এই ভয়।

একটু বাড়তি ভয় তথা আতঙ্ক কিছু দেশের বেলায় উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে। যেমনটা মনে করেন ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ারের মহামারীবিদ্যার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি বিশেষজ্ঞ জেনিফার হর্নি। কেননা তার মতে, বিচ্ছিন্নতা ও অন্তরীণের (কোয়ারেন্টিন) মতো জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা মেনে চলার ব্যাপারে অন্য দেশগুলোর মতো অতটা ভালো নয় যুক্তরাষ্ট্র। হর্নি বলেন, ‘একের আচরণ যে দশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে- অন্তত এই বিবেচনায় [যুক্তরাষ্ট্রে] বাড়তি আতঙ্ক কিছুটা কল্যাণ বয়ে আনলেও আনতে পারে।’

অন্যদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দীর্ঘমেয়াদে মোটেও ভালো নয়, বরং ভোগান্তি তৈরি করে। আমরা যত বেশি উদ্বিগ্ন হই, আতঙ্কের কু-লীতে পেঁচিয়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকা আমাদের মস্তিষ্কের পক্ষে তত বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। বেশকিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, মস্তিষ্কের যে অংশগুলো আমাদের যুক্তিবুদ্ধিতে সাহায্য করে, দীর্ঘস্থায়ী চাপের কারণে সেসব অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে বাড়তে পারে আতঙ্কবোধ।

বিশপ বলছেন, আমাদের দেহ এমনভাবে গড়া নয় যে, মাসের পর মাস কিংবা সপ্তাহের পর সপ্তাহ তীব্র চাপ আর উদ্বেগ নিয়ে দিব্যি সুস্থ শরীরে বাঁচা যাবে। ভয় বা উদ্বেগ যদিও কখনো কখনো মনোশক্তি বাড়ায়, তবুও শেষ পর্যন্ত এগুলো আমাদের ক্লান্তি ও হতাশায় ফেলে দেয়। সমাজের তৎপরতার ক্ষেত্রেও এগুলো বাজে রকম প্রভাব ফেলতে পারে। যেমনÑ [করোনা মোকাবিলায়] সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে গেলে পাছে ঘর থেকে আগেই বেরোনো শুরু করতে পারে লোকে। এ কারণে মহামারীটি আরও ভয়ানক রূপ নিতে পারে।

আতঙ্ক ও মহামারী প্রতিরোধ : ২০০৯ এইচ১এন১ (সোয়াইন ফ্লু) মহামারীর সময় যেসব দল জরুরি সেবা দিতে মাঠে ছিল, এগুলোর অনেককেই প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন হর্নি। তিনি বলছেন, অনিশ্চয়তা কমিয়ে ফেলতে পারলে আমরা নিশ্চিত হতে পারব বিপর্যয়কালে আমাদের পদক্ষেপগুলো ঠিকঠাক কাজ করবে কি না।

করোনা ভাইরাস একদম অচেনা-অজানা কিছু নয়। সার্স আর মার্স মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা থেকেও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা করোনা ভাইরাসকে ভালোমতোই জানেন।

হর্নি যেমনটা বলছেন, ‘এখন যেসব জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগেও এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এখন এসবই আরও বড় মাত্রায় নেওয়া হচ্ছে।’

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে “করোনা ভাইরাস ইজ স্প্রেডিং প্যানিক : হেয়ার’স দ্য সায়েন্স বিহাইন্ড হোয়াই” শিরোনামে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৭ মার্চ

অ্যামি ম্যাকাইভার : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সিনিয়র এডিটর

অনুবাদ করেছেন জাহাঙ্গীর সুর : বিজ্ঞান লেখক ও সাংবাদিক

advertisement