advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাংলাদেশকে দ্রুত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে : করোনা প্রতিরোধে পাঁচ করণীয়

২৯ মার্চ ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২০ ২৩:৪২
advertisement

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাবিশ্বকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পৃথিবীর সেরা সব চিকিৎসক যৌথভাবে পাঁচটি বিষয়কে অবশ্য করণীয় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এসব বিষয় হলোÑ ১. লকডাউন ও অবরুদ্ধ থাকা, ২. টেস্ট বা শনাক্তকরণের জন্য পরীক্ষা, ৩. প্রস্তুতি- ভেন্টিলেটরসহ জীবনরক্ষাকারী সব ব্যবস্থা সংবলিত পর্যাপ্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং এ কাজের জন্য প্রশিক্ষিত ও যথাযথভাবে উদ্বুদ্ধ চিকিৎসক দল, ৪. সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালকে এ কাজে যুক্ত করতে হবে, ৫. পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান রাখতে হবে, যাতে গরিব মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্য ও চিকিৎসা দেওয়া যায়।

দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে লকডাউন ঘোষণা আরও একটু আগে হলে ভালো হতো। কেননা ইতোমধ্যে বিদেশ ফেরত অনেকেই সারাদেশে নানা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছেন। তাদের সবাইকে শনাক্ত করে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য কঠিন হবে। ফলে লকডাউন অভীষ্ট সুফল দিল কিনা তা বোঝা যাবে আরও দিন দশেক পর। তা ছাড়া নিত্যব্যবহার্য পণ্যের জন্য ও জরুরি কাজে মানুষজনকে বের হতে দেখা যাচ্ছে। তখন সামাজিক দূরত্বের শর্ত সব সময় মানা হচ্ছে না। চীনে এ ব্যবস্থা সফল হয়েছিল কারণ তাদের পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা মানুষের বাসায় বাসায় প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছিলেন। তাতে চিকিৎসক ও সেবাদানকারী ছাড়া অন্যরা রাস্তায় আসেননি। দ্বিতীয়ত, তারা চিকিৎসক ও সেবাদানকারীদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। এ ছাড়া তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি চারতলা হাসপাতাল নির্মাণ করে সেগুলোকে সব মেডিক্যাল সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো সম্ভব হয়েছিল। এর ফলে প্রথম পর্যায়ে রোগাক্রান্তের ও মৃত্যুবরণের হার বেশি থাকলেও দ্রুত তা সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল। আমাদের ভেন্টিলেটর আইসিইউ সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত অপ্রতুল। মাস্ক এবং প্রয়োজনীয় পিপিই সংগ্রহেও বিলম্ব হয়েছে। এখনো এসবের মজুদ যথেষ্ট নয়। সরকারের বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে গরিব মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে কিনা বলা মুশকিল। তা ছাড়া দুর্নীতিমুক্তভাবে দক্ষতার সঙ্গে সহায়তা বিতরণও সহজ কাজ নয়।

আমরা মনে করি, বাংলাদেশ সরকারকে এ পাঁচটি শর্ত পূরণে আরও অনেক প্রস্তুতি, অর্থসংস্থান ও মানবসম্পদের প্রয়োজন হবে। এ ব্যাপারে এখনো সে রকম পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াতেও আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে এবং সম্পূর্ণভাবে পরমুখাপেক্ষী। সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোয় দ্রুত করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতিতে সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। এ কাজটি অগ্রাধিকার দিয়ে যথোপযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। এ কাজ করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। সে জন্য অর্থ সংস্থানও করে রাখতে হবে।

advertisement