advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন : তাকমীনকে ধর্ষণের পর হত্যা

২৯ মার্চ ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২০ ২৩:৪২
advertisement

ধর্ষণের পর আবার হত্যা! ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পাড়াভরট গ্রামের আবদুল মতিনের কিশোরী কন্যা তাকমীনের প্রেম ছিল পার্শ্ববর্তী মসজিদের মুয়াজ্জিন আশিকুল হকের সঙ্গে। বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আশিক। সে অনুযায়ী পালিয়ে গিয়ে বিয়ের কথা বলে শেষ রাতে মোবাইল ফোনে তাকমীনকে ডেকে নেয়। আসার পর ওই মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে একই মাদ্রাসায় পড়–য়া দুই বন্ধুর সহায়তায় হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে জামগাছের ডালে। কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান দেয় আশিকুল। মুসল্লিরা মসজিদে এলে ইমামতিও করে। এ সময় বন্ধু মাহফুজ ও আরিফও নামাজ পড়ে। মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে এ খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।

এই বর্ণনা থেকে স্পষ্টতই বোঝা গেছে, বাংলাদেশে ধর্ষণ কত সহজ ও সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই অবক্ষয় যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা হতাশাজনক। ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার জন্য কঠোর আইন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের খবর যত বেশি পাওয়া যায়, এসব অপরাধের দায়ে অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত এর চেয়ে অনেক কম। অপরাধ করে পার পাওয়া যায়Ñ এ ধরনের বিশ্বাস থেকে অপরাধীরা অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না পেলে অপরাধীদের অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ থেকে যায়। ফলে সব ধরনের অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সুশাসন তথা আইনের শাসন মজবুত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ধর্ষণের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে শুধু সরকারকে নয়, গোটা সমাজকে। ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে ব্যক্তি, পরিবার, পাড়া-মহল্লাসহ গোটা সমাজকে সোচ্চার হতে হবে। আমরা চাই দ্রুততম সময়ে আশিকুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কারণ একমাত্র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এমন জঘন্য অপরাধের মাত্রা হ্রাস করতে সহায়ক হবে।

advertisement