advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন
আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলে কি আমরা খুশি হই

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০৯
advertisement

দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশকারীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘অনেকে বলছে, সংখ্যা এত কম কেন। সংখ্যা বেশি হলে কি আমরা খুশি হই? আমরা কি চাই বেশি বেশি লোক সংক্রমিত হোক? বেশি বেশি লোক মৃত্যুবরণ করুক?’

করোনা ভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআরের নিয়মিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে গতকাল রবিবার তিনি এ কথা বলেন। এ সংবাদ সম্মেলনে নিজের বাসা থেকে অংশ নেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন এবং পরীক্ষা করেই

নিশ্চিত হয়েছেন। তবে অন্য সবাই যেভাবে ঘরবন্দি হয়ে আছেন, তিনিও তা-ই করছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। এর সঙ্গে বিশ্বের ১০টি দেশ ছিল। জাতিসংঘ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার সঙ্গে আমার কথা হয় প্রতিদিন। আমরা ভালো আছি। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। অনেক আগে প্রস্তুতি নিয়েছি বলেই ভালো আছি। ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থা কেমন, সেটা আপনারা জানেন।’

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘অনেকে বলছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ যদি আগে থেকে করত, তা হলে পরিস্থিতি এমন হতো না। দেশে যত বিদেশি এসেছেন, তাদের দেশে আসা ঠেকানোর দায়িত্ব কি আমাদের? আমরা কি প্লেন আটকাতে পারব? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসা দিতে পারে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দায়ী। তাদের ইউরোপ-আমেরিকা থেকে অর্ডার বন্ধ হয়ে গেছে। এর দায় কি আমাদের?’

মন্ত্রী বলেন, ‘জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করি। তিনটি কমিটি করা হয়। একটি জাতীয় পর্যায়ে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কমিটি হয়। আমরা কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করি। দুই মাস আগে তো কেউ প্রস্তুতির কথা বলেননি।’

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘এ পর্যন্ত তিন লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। এপ্রিলের মধ্যে পাঁচ লাখ আসবে। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হাজার হাতে পাচ্ছি। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করার দরকার নেই। কিটের বিষয়ে অনেক কথা কানে এসেছে। আমাদের এখন হাতে ৪৫ হাজার কিট আছে। আরও অর্ডার কোয়ানটিটি আছে ৮৫ হাজার। দেশে এখন আড়াইশ ভেন্টিলেটর আছে। আরও তিনশ স্থাপনের প্রক্রিয়ায় আছে। বিভ্রান্তিকর কোনো নিউজ পরিবেশন করা উচিত নয়। এখন আমাদের কাজ, সবাই মিলে কাজ করা। যেটা আমরা করছি। আমাদের সঙ্গে সারাদেশের মানুষ আছে।’

একজন সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেউ নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা। তিনি বলেন, আপনারা যেটা শুনেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তো অনেক বড় মন্ত্রণালয়। তাদের ওখানে অনেক লোকজন আসা যাওয়া করে, ডাক্তার আসা যাওয়া করে, বাইরের লোক আসা যাওয়া করে। আমরা তো কাজ করি। কাজেই তাদের কারও হতে পারে, সেটা তো আছেই।’

গত কয়েক দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সেভাবে মিডিয়ায় দেখা না যাওয়ায় ফেসবুকে গুঞ্জন শুরু হয়। সেই সূত্র ধরে আইইডিসিআরের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন কিনা।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমি তো কাজ করছি। আমি সেভাবে কোনো রকমের আক্রান্ত নই বিধায় কোয়ারেন্টিনের কথা বলব না, বাট আমি আছি। যেভাবে অন্যরা আছে সেভাবেই আমি আছি।’

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আকিজ গ্রুপের নির্মাণাধীন ভবন নির্মাণ নিয়ে গতকাল শনিবার বাধা সৃষ্টির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশবাসী একত্রে কাজ করছে। এতে আমরা আনন্দিত। এখন আকিজ গ্রুপ যদি একটি ভবন তৈরি করতে চায়, তাতে যদি সমস্যা না হয়, দেশবাসীর জন্য এলাকার জন্য ভালো হয়। প্রয়োজন না হলে আমরা সেটা ব্যবহার করব না। সবাইকে সহনশীল হতে হবে।

advertisement