advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গাজীপুরে স্যাম্পল না নেওয়ার অভিযোগ
সন্দেহের ৫ মৃত্যু

আমাদের সময় ডেস্ক
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০৮:৫০
advertisement

বরিশাল এবং খুলনায় করোনা ইউনিটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন। আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কেউ করোনা আক্রান্ত হয়নি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য কোনো বিভাগে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই বলেও জানা গেছে।

গতকাল শনিবার রাত ১২টার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্দেহজনক করোনা রোগী মারা গেছেন পাঁচজন। যার একজন পটুয়াখালীতে, একজন বরিশালে, একজন খুলনায়, একজন মানিকগঞ্জে এবং অন্যজন চাঁপাইনবাবগঞ্জে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

মানিকগঞ্জ : হরিরামপুরে জ্বর-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সুচিত্রা সরকার (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুচিত্রা সরকার হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের বড়ইছড়া গ্রামের মুদি দোকানদার নিতাই সরকারের স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে হাসপাতালের পরিচালক এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। নিহত সুচিত্রা সরকার ৭ দিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট এবং ২ দিন ধরে পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। ৭ দিন আগে ওই নারীর শ্বশুর মারা যান। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অনেক লোকসমাগম হয়েছিল। সেখানে কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য তা ঢাকায় পাঠানো হবে।

বরিশাল : বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ৪৫ বছর বয়সী এ রোগীর মৃত্যু হয়। তার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার গোহানগাছিয়ায়।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর (রেফার) করার পর শনিবার বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে এই রোগীকে স্বজনরা শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। রোগীকে প্রথমে মেডিসিন ইউনিটে এবং সেখান থেকে রাতে করোনা ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। রোগীর শ্বশুর মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, মৃত রোগী দীর্ঘদিন অ্যাজমাজনিত শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শেবাচিমের পরিচালক জানান, রোগীর মৃত্যুর পর বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুসারে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি মৃতদেহ সমাহিত করার ব্যবস্থা করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : শিবগঞ্জ উপজেলায় জ্বরে আক্রান্ত থাকার পর গত শনিবার বিকেলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি শ্বাসকষ্টেও ভুগছিলেন ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৭ দিন আগে তার হঠাৎ জ্বর হয়। এর পর শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।  শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের খোনাপাড়া গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে গোলাম নবী (৫০)। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, উপজেলা পরিববার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ‘এটি স্বাভাবিক মৃত্যু। এক বছর ধরে তিনি লেফট ভেন্টিকুলার ডিজিজে ভুগছিলেন।’

পটুয়াখালী : পৌরশহরের জেলখানা সংলগ্ন মাতবরবাড়ী এলাকায় করোনা সন্দেহে আবদুর রশিদ (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলার লালমোহন উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত কেরামত আলীর পুত্র আবদুর রশীদ মাস খানেক আগে জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালী মাতবরবাড়ী সংলগ্ন মেয়ের বাড়িতে চিকিৎসা করাতে আসেন। মেয়ের জামাই ভ্যানচালক জালাল জানান, তার শ্বশুরের দুই ছেলে এবং এক মেয়ের মধ্যে তার স্ত্রী বড়।

খুলনা : সুলতান শেখ (৭০) নামে এক যক্ষ্মা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সুলতানের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলা।

খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইনচার্জ ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, মৃত সুলতান শেখ করোনা ইউনিটে ভর্তি থাকলেও তিনি যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিষয়টি ঢাকায় আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে তার নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। সে কারণে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গাজীপুর : শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে এক যুবক তিন দিন ধরে ভর্তি থাকলেও তার স্যাম্পল না নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ নিয়ে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হয়েছিলেন হতদরিদ্র মেহেদী হাসান নামের ওই যুবক।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সর্দি-ঠা-া, হাঁচি-কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ হাসপাতালে ভর্তি হন মেহেদী। ভর্তি হওয়ার পর তার স্যাম্পল নেওয়ার জন্য ঢাকার আইইডিসিআরে দুই দফা চিঠি লেখা হয়েছে। কিন্তু তিন দিন হলেও তার স্যাম্পল নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে আমরা টেনশনে আছি, দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা ও পটুয়াখালী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, বরিশাল প্রতিনিধি, গাজীপুর প্রতিনিধি

advertisement