advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভয়ের কারণ হতে পারে শিশুর হালকা উপসর্গও

ডা. অমৃত লাল হালদার
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০৯
advertisement

বিশেষ লক্ষণীয় যে, এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ শিশু করোনায় (কোভিড-১৯) খুব মৃদুভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে তাদের মধ্যে উপসর্গ তেমন দেখা যাচ্ছে না। আর এ কারণেই তাদের চিকিৎসকের কাছে খুব যাওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং তাদের প্রায় কারোরই হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার পড়ছে না। মৃত্যুহারও অত্যন্ত কম। তবে করোনা ভাইরাসের চরিত্র খুব তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়। তাই পরে ঠিক কী হবে বলা এখনও বেশ কঠিন।

শিশুরা কেন আক্রান্ত হচ্ছে না, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব নেই। এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল প্রভাষক নাথালি ম্যাকডারমট-এর মতে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষভাবে কাজ করে। তারা হয়তো আক্রান্ত কিন্তু তাদের সংক্রমণটা বেশ মৃদু বা তাদের মধ্যে সংক্রমণের কোনও উপসর্গ থাকে না। আমারও তাই মনে হয়। শিশুদের হয়তো কোনোভাবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। আবার এটাও হতে পারে যে, কর্তৃপক্ষ

হয়তো যাদের উপসর্গ নেই বা মৃদু উপসর্গ রয়েছে, এমন কাউকে পরীক্ষাই করছে না।

এখন আমার বক্তব্য হলো, শিশুদের আক্রান্তের হার আমরা জানতে পারছি না। কারণ তাদের মৃদু উপসর্গ এবং যথেষ্ট পরীক্ষার অভাব। কেউ হয়তো মনেই করবে না যে, শিশুটির কোভিড-১৯ হয়েছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কোনো কোনো মা-বাবা শিশুর ঠা-া-কাশির সমস্যায় লুকাতেও পারে হেনস্থা হওয়ার ভয়ে। এর ফলে যেটা হতে পারে যে, তারা এই ভাইরাসের সংক্রমণের হার অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে। কারণ শিশুদের সঙ্গে আমাদের সবার সম্পর্ক কাছে আসার। আদর-ভালোবাসা-স্নেহ বাদ দিলেও তাদেরকে খাওয়ানো থেকে শুরু করে সব কাজেই কারও না কারও সংস্পর্শে আসতে হয়। তাই শিশুদের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বাড়িতেই রাখুন। একদম বাইরে যাবে না। তাদের বুঝিয়ে বলুন, কেন বাড়িতে থাকতে হচ্ছে, বাইরে গেলে কী সমস্যা হতে পারে। শিশুরা খুব বেশি ময়লা ধরে। এখানে সেখানে হাত লাগায়। তাই বারবার তাদের হাত ধুয়ে দিন। সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার নিয়ম শিখিয়ে দিন। নিজেরাও বারবার হাত ধুয়ে নিন। হাঁচি-কাশিতে টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা, যথাস্থানে সেটি ফেলা শিখিয়ে দিন। টিস্যু না থাকলে হাতের কনুইয়ের ভাঁজে কিভাবে হাঁচি-কাশি দিতে হয়, তাও শিখিয়ে দিন। হাত দিয়ে যেন নাক-মুখ-চোখ স্পর্শ না করে তা বুঝিয়ে দিন।বিভিন্ন দরকারি কারণে বাইরে যেতে হতে পারে। বাইরে থেকে এসে প্রথমে ভালো করে হাত ধুয়ে, প্রয়োজনে গোসল করে, পরিষ্কার জামা-কাপড় পরে তারপর শিশুর কাছে যাবেন। বাড়ির মেঝে, দরজার হাতল, টেবিল, সুইচ ইত্যাদি যেসব বস্তু অনেকে স্পর্শ করে, সেগুলো বারবার ডিটারজেন্ট ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন। আপনার ঠা-া-কাশি থাকলে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে মাস্ক ব্যবহার করুন। শিশুকেও মাস্ক পরতে অভ্যস্ত করুন। পরিবারে কারো জ্বর-কাশি-শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত তাকে আলাদা করুন। শিশুকে কাছে যেতে দেবেন না। বিদেশ ফেরত কাউকে দেখতে যাওয়ার দরকার নেই। আর শিশুর জ্বর, কাশি বা শ্বাসের সমস্যা হলে প্রাথমিক অবস্থায় বাসায় বসেই চিকিৎসা নিন যে কোনো হেল্প লাইনের মাধ্যমে। অবস্থা বেশি খারাপ মনে হলে হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

আবাসিক চিকিৎসক

বারডেম জেনারেল হাসপাতাল (মা ও শিশু হাসপাতাল)

সেগুনবাগিচা, ঢাকা

advertisement