advertisement
advertisement

সীমিত ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের চাপও সীমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:২৮
advertisement

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। তবে গ্রাহকের লেনদেনের সুবিধার্থে সীমিত আকারে দুই ঘণ্টা ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় ব্যাংকগুলোতে গ্রাহক উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউই ব্যাংকে আসেননি। আবার যারা এসেছেন তাদের বেশিরভাগই এসেছেন টাকা উত্তোলন করতে। গতকাল রবিবার ব্যাংক লেনদেন চলাকালে রাজধানীর ব্যাংকপাড়া মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পল্টনসহ

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

গ্রাহকের লেনদেনের সুবিধার্থে সাধারণ ছুটির সময় লেনদেনের জন্য গতকাল দুই ঘণ্টা খোলা ছিল ব্যাংক। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গ্রাহক লেনদেন হয়। ব্যাংক খোলা ছিল দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এ সময় খোলা রাখা বেশিরভাগ ব্যাংকের গ্রাহক উপস্থিতি সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক কম ছিল। যারা ব্যাংকে এসেছেন ব্যবসায়িক ও জরুরি প্রয়োজনে এসেছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই টাকা উত্তোলন করেন।

এ ছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিটি ব্যাংকের প্রবেশ মুখেই দেখা গেছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধমূলক প্রাথমিক প্রস্তুতি। অফিসে প্রবেশের আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। ব্যাংকাররা সবাই মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পরে অফিস করছেন। অনেককে পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম) পরে কাজ করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মোদাসসের হোসেন জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী দুই ঘণ্টা ব্যাংকের লেনদেন হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে গ্রাহক উপস্থিতি খুব কম ছিল। তাই অন্য দিনের তুলনায় আজকের লেনদেনেও কম হয়েছে। তিনি জানান, দুই ঘণ্টায় মাত্র ৯৩ জন গ্রাহক লেনদেন করেছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ মাত্র ৭৮ লাখ ৯ হাজার। এর মধ্যে ২৭ লাখ জমা করেছে; বাকি সব উত্তোলন। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় এটি খুবই সামান্য উল্লেখ করে ব্যাংকটির এ শাখা ম্যানেজার বলেন, স্বাভাবিক সময়ে সাড়ে তিন থেকে ৪ হাজার গ্রাহক ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা লেনদেন করেন।

বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, শাখায় গ্রাহকদের উপস্থিতি একেবারে কম। যারা আসছেন তারা বেশিরভাগ টাকা উঠাচ্ছেন। শিফটিং ভাগ করে কর্মীরা অফিস করছেন। আজকে ৩০ শতাংশ উপস্থিত রয়েছেন। সারাদেশে ব্যাংকটির ২৭টি শাখা খোলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সোনালী ব্যাংকে আসা আরিফ নামের এক গ্রাহক জানান, একটি ব্যবসায়িক অর্ডার ছিল। নগদ টাকা দিতে হবে। তাই ব্যাংকে টাকা তুলতে এসেছি। ভিড় কম। অন্য সময় যেখানে আধা ঘণ্টা লাগে আজকে দুই মিনিটেই কাজ শেষ বলে তিনি জানান।

২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর মধ্য ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি। এর আগে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ও পরে ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটিও যোগ হবে। এ ছাড়া ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি। গ্রাহকের লেনদেনের সুবিধার্থে রবিবার ২৯ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটির সময় ৫ দিন সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা থাকবে।

advertisement