advertisement
advertisement

ভয় না পেয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকুন

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দেশবাসীর প্রতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৪৬
advertisement

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ভয় না পেয়ে জনগণকে উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুর্যোগকালে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা খেটেখাওয়া মানুষ, দিন আনে দিন খায়, দিনমজুর শ্রেণি; তাদের কাছে আমাদের খাদ্য পৌঁছে দেওয়া একান্ত জরুরি। তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলবÑ ঘাবড়ালে চলবে না। এ অবস্থা মোকাবিলা করতে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং সেভাবেই সবাইকে চলতে হবে, যাতে আমরা দেশের জনগণকে সুরক্ষা দিতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘অনেক বন্ধুপ্রতিম দেশ আমাদের কাছ থেকে সহযোগিতা চাচ্ছে এবং আমরা তাদের সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত।’
শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার বিকালে তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অনুদানের চেক গ্রহণকালে ভাষণে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন প্রান্ত থেকে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে

মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার মতো শক্তি ও সাহস আমাদের রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘অনেকেই এখন গ্রামে চলে গেছেন। তারা এখন বসে না থেকে যার যেখানে যতটুকু জমি আছে, সেই জমিতে ফসল ফলানÑ যেন কোনো জমি অনাবাদি না থাকে।’ প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ব্যাপকভাবে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। তবে বাংলাদেশের একটি সন্তুষ্টির বিষয় হচ্ছেÑ আমাদের মাটি অত্যন্ত উর্বর, মানুষগুলো কর্মঠ, আমাদের খাদ্যের কোনো সমস্যা হবে না ইনশা আল্লাহ।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘মাটি ও মানুষ মিলে যদি আমরা কাজ করি, তা হলে নিজেদের খাদ্য নিজেরাই জোগাড় করতে পারব; অন্যকেও সহযোগিতা করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ যারা সহযোগিতা চেয়েছেন, তাদেরও সহযোগিতা করতে পারব। সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে এবং মানবিক কারণেই আমরা তা করব। শুধু নিজেদের দেশ নয়, অন্য দেশেরও যদি কিছু প্রয়োজন হয়, তা হলে সেদিকে আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দেব।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাঙালিরা কখনো হারেনি, আমরা হারব নাÑ এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে সবাইকে চলতে হবে। সে জন্য নিজে যেমন সুরক্ষিত থাকতে হবে, তেমনি অপরকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আর কোনো করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। গতকালও আমরা সেটি দেখেছি। এটা ভালো লক্ষণ; কিন্তু এই অবস্থা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই দোয়া করবেনÑ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের এই মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেন। শুধু আমরা নই, বিশ্বব্যাপী যে অবস্থা সবাইকেই যেন তিনি সুরক্ষিত রাখেন।’
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের একদিনের বেতন হস্তান্তর : করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাহিনীর সব পদবির সদস্যদের একদিনের বেতনের পাশাপাশি সেনাকল্যাণ সংস্থা, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড, বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ২৫ কোটি। অন্যদিকে নৌ-সদস্যদের একদিনের বেতন ও নৌবাহিনী পরিচালিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা এবং বিমানসেনাদের একদিনের বেতন বাবদ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেওয়া হয়েছে। খবর আইএসপিআর।
১০ কোটি টাকা দিল বসুন্ধরা গ্রুপ : মানবসেবার ব্রত নিয়ে এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপও। করোনা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকা অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর অনুদানের এ চেক হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তা গ্রহণ করেন মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন। এ সময় বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার ও বসুন্ধরা ট্রেড সেন্টারকে করোনা চিকিৎসা ও কোয়ারেন্টিন হাউস হিসেবে ব্যবহার করতে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেন আনভীর। এ ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান এবং পিপিই ও মাস্ক দেয়। গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

advertisement