advertisement
advertisement

নড়াইলে ছাত্রলীগ নেতা পেটানো দুই পুলিশ ক্লোজড

নড়াইল প্রতিনিধি
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:২৮
advertisement

সদর উপজেলার শেখাটি ফাঁড়ির ইনচার্জ, সহকারী ইনচার্জ ও কয়েক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শেখাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম মানিককে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শেখাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এনামুল ও এএসআই আলমগীরকে গতকাল রবিবার পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইমরান শেখ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তরিকুল ইসলামের পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তরিকুল ইসলাম মানিক ঢাকায় আলিবাবা ডোর অ্যান্ড ফার্নিচার নামক একটি প্রতিষ্ঠানের রিজিওনাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজ বাড়ি সদরের শেখাটি গ্রামে চলে আসেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে সে কাঁচাবাজার করে ফিরে যারার পথে মুখে মাস্ক না থাকায় শেখাটি বাজারের মধ্যে সাদা পোশাকে শেখাটি পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই এনামুল ও একজন কনস্টেবল বেধড়ক মারপিট করেন। পরে ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ আলমগীরসহ ৩ পুলিশ সদস্য মানিককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নসিমনে সদর থানার ওসির কাছে নিয়ে এলে তিনি এলাকায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলে তাকে ছেড়ে দেন।

ওইদিন দুপুর ১টার দিকে মানিক সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা করাতে যান। বিষয়টি এএসআই আলমগীর জানতে পেরে হাসপাতালে গিয়ে মানিকের ভাই রতনের কাছ থেকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং মানিককে নিয়ে শেখাটি চলে যান। রাত ৮টার দিকে মানিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অ্যাম্বুলেন্সে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরিকুল ইসলাম মানিক জানান, ফাঁড়ির পুলিশ একজনের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছিল বিষয়টি টাকা দিয়ে মীমাংসা করতে। কিন্তু আমি কোনো অন্যায় করিনি বিধায় কোনো আপসে যাইনি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চঞ্চল শাহরিয়ার মিম বলেন, শেখাটি এলাকায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার পেছনে তার অনেক ভূমিকা রয়েছে। এ ঘটনা তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শেখাটি বাজার কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম সরদার (০১৭২৯-১৫৪৯১৩) বলেন, ৬-৭ জন পুলিশ মানিকের মাস্ক না থাকার অভিযোগে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে বেধড়ক মারপিট করে। আমরা বাজার কমিটির লোকজন পুলিশের হাত-পা ধরলেও তারা কোনো কথা শোনেনি।

অভিযুক্ত শেখাটি ফাঁড়ি ইনচার্জ এনামুল বলেন, সরকারি নির্দেশ মোতাবেক আমরা ডিউটি পালন করছিলাম। তার মাস্ক পরা ছিল না। তাকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা সে পুলিশের সঙ্গে বেয়াদবি করে। তাকে মারা হয়নি। সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তিনি টাকার বিনিময়ে মীমাংসার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এএসআই আলমগীর মানিককে চিকিৎসা নিতে বাধা দিয়েছে বিষয়টি ঠিক নয় বলে জানান।

advertisement