advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সবজি নিয়ে বিপাকে বগুড়ার কৃষক

প্রদীপ মোহন্ত বগুড়া
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:২৮
advertisement

বগুড়ার হাটে পর্যাপ্ত সবজি থাকলেও ক্রেতার অভাবে একেবারেই দাম নেই। পচনশীল হওয়ায় অনেকটা পানির দামেই ছেড়ে দিচ্ছেন কৃষক। এক সপ্তাহ আগে যে বেগুন বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা কেজিতে, তা এখন মাত্র ২ থেকে ৩ টাকা। একই সঙ্গে দাম কমেছে কাঁচামরিচ, পেঁয়াজসহ অন্যান্য সবজির। এতে করে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, এখন ভ্যানভাড়াই উঠছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ। আবার বিক্রি করতে না পেরে বাজারেই ফেলে দিয়ে যাওয়া হচ্ছে মুলা। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে টানা ১০ দিনের ছুটি এবং ঘর থেকে বের না হওয়ার সরকারি নির্দেশনায় বাজারে এ দরপতন।

বগুড়া সদরের পীরগাছা, পল্লীমঙ্গল, লাহিড়ীপাড়া, ধলমোহনী, মানিকচক এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেটের দায়ে অসহায় চাষি জমি থেকে সবজি তুলে হাটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কারণ সময় পার হয়ে যাওয়ায় অনেক সবজিই ক্ষেতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে মহাস্থান হাটের শাহ সুলতান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আড়তদার বাবুল মিয়া বাবু জানান, করোনার কারণে কোনো পাইকার হাটে আসছেন না। তাই যথেষ্ট চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বগুড়া থেকে সবজি বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না।

গতকাল রবিবার সকালে মহাস্থান পাইকারি হাট ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচের কেজি ৮ টাকা, আলু ২০ টাকা, বেগুন ২ থেকে ৩ টাকা, পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, মুলা ১ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১০ থেকে ১২ টাকা পিস, বাঁধাকপি ১ টাকা পিস, করলা ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি, লাউ ১০ থেকে ১৫ টাকা পিস, গাজর ৮ টাকা কেজি, টমেটো ও ক্ষীরা ৫ টাকা, সজনে ডাঁটা ১০০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, পটোল ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে কাঁচামরিচ ৪০ টাকা কেজি, মুলা ৫ টাকা, বেগুন ২০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, গাজর ২০ টাকা, ক্ষীরা ১৫ টাকা, সজনে ৩শ টাকা, টমেটো ১০ টাকা কেজি দরে এবং মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা পিস বিক্রি হতো। তবে আলুর দাম স্থিতিশীল, আগের ২০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়া সদর উপজেলার ধাওয়াকোলা গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়া গতকাল পাঁচ মণ টমেটো বাজের এনেছিলেন। কিন্তু ৫ টাকা কেজি দরেও সেগুলো বিক্রি করতে পারেননি। শিবগঞ্জ উপজেলার সংসারদীঘি এলাকার কৃষক মকবুল মিয়া ৬ মণ ক্ষীরা বিক্রি করতে এসে ২শ টাকা দাম শুনে হতাশ। কারণ এক সপ্তাহ আগেও তিনি ৬শ টাকা মণ বিক্রি করে গেছেন। কৃষকরা জানান, বাইরে থেকে কোনো ব্যাপারী সবজি কিনতে না আসায় দাম দিন দিন কমে যাচ্ছে। অনেকের জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বেগুন, টমেটো, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি।

শিবগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের কৃষক আবেদ আলী ম-ল জানান, চৈত্র মাসে বগুড়া অঞ্চলের মানুষ মুলা খেতে চায় না। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেটে এ সময় ব্যাপক চাহিদা থাকে। গত বছরের চৈত্রে তাই ১১শ টাকা মণদরে মুলা বিক্রি হয়েছিল। এ কারণে এবারও কয়েক বিঘা জমিতে এ সবজিটি চাষ করেছেন তিনি। কিন্তু করোনার প্রভাবে এবার তা বিক্রি করতে পারছেন না। তাই রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে গেছেন অনেকেই।

এদিকে পাইকারি বাজারে সবজির দাম থাকলেও শহরের খুচরা বাজারগুলোয় গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। করোনার প্রভাবে আমদানি কমের অজুহাতে তারা ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি দামে বিক্রি করছেন। শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এজাজ কামাল বলেন, ‘তাপমাত্রার কারণে এখনকার সবজি বেশিদিন মাঠে রাখা কঠিন। সঠিক সময়ে বিক্রি করতে না পারলে একটুতেই নষ্ট হয়ে যায়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতার অভাবে বাজারে দরপতন ঘটেছে।’

advertisement