advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুই আমলার কা-
এ আচরণ অনভিপ্রেত ও শাস্তিযোগ্য

৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩৪
advertisement

পর পর দুটি ঘটনায় সচেতন মানুষের মনে হচ্ছে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের তরুণ কর্মকর্তাদের মধ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। এর আগে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক একজন সাংবাদিকের ওপর বেআইনি নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস ঠেকানোর জন্য সরকারের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে যশোরের একজন এসিল্যান্ড কয়েকজন বয়োবৃদ্ধ নাগরিককে কান ধরার শাস্তি দিয়েছেন। এ ধরনের বেআইনি ও অবমাননামূলক কাজ কীভাবে জনপ্রশাসনের একজন সদস্য করতে পারেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তবে আশার কথা, সরকার দ্রুত সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমরা মনে করি, এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

আমরা এর আগে কয়েকবার লিখেছি, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আমলাতন্ত্রের যে সক্রিয় ভূমিকা ছিল, তার নেতিবাচক ফল পরে ভুগতে হবে। কেবল এ দুটি ঘটনা নয়, নির্বাচনের পর থেকে আমলাতন্ত্রের মনোভাব ও কার্যক্রমে নানাভাবে কর্তৃত্বের দাপট প্রকাশ পেয়েছে। এটিও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। জনপ্রশাসন চলবে রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তারা জনগণের সেবক। কিন্তু এই মনোভাবের ঘাটতি সচিবালয় থেকে মাঠে নিম্নতম পর্যায় পর্যন্ত পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তবে এ কথাও সত্য, আমাদের দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যেমন এমপি বা ইউপি চেয়ারম্যান এবং সরকারদলীয় নেতারা অনেক সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর অযাচিত ও অন্যায়ভাবে কর্তৃত্ব করে থাকেন। টেকনাফের সাবেক একজন সংসদ সদস্য অনেকবারই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজ হাতে মারধর করেছেন। এদের হাতে আমলা, স্কুলশিক্ষক, প্রকৌশলীসহ সমাজের সম্মানিত অন্যান্য ব্যক্তি বারবার হেনস্তার সম্মুখীন হয়েছেন। ফলে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতা হাতে এলে আমাদের অধিকাংশ মানুষ তা প্রয়োগ ও প্রদর্শনে অতিমাত্রায় উৎসাহী হয়ে ওঠেন। অতিউৎসাহী কার্যক্রমে বারবার সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের যেমন নিজ নিজ দায়িত্বের সীমা বুঝতে হবে, তেমনি নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে। এটি তাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বোঝাতে হবে। আমাদের জনসেবা ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিতে এই মূল্যবোধগুলো বিশেষভাবে চর্চা করতে হবে। সরকার আমলাতন্ত্রের জন্য একটি শুদ্ধাচার কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে এবং তা পালনের ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এসবই অরণ্যে রোদন হচ্ছে। পরিস্থিতির সামান্যতম উন্নতিও হয়নি। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না।

advertisement