advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা ভাইরাস ধ্বংসের যত উপায়

ডা. ছায়েদুল হক
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩৪
advertisement

করোনা সংক্রমণে ধুঁকছে পৃথিবী। ভয়ে তটস্থ মানবকুল। বিজ্ঞানীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এই করোনা ভাইরাস। কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, লকডাউনÑ কত কিছু চলছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। ভয়ে সব মানুষ এখন গৃহবন্দি। অথচ যার ভয়ে থমকে আছে পৃথিরী, সেটিকে খালি চোখে দেখার উপায় নেই। এটি আরএনএ গোত্রের একটি ভাইরাস। স্বাধীনভাবে এর বংশবিস্তার করার সক্ষমতা নেই। বংশবিস্তার করতে হলে আশ্রয় নিতে হয় অন্য কোনো জীবিত কোষে। বর্তমানে এটি বংশবিস্তারের জন্য আশ্রয় নিয়েছে মানবদেহে। করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯-এর দৈহিক গড়নটা খুব সাদামাটা করে বললে বলতে হয়, ঠিক মাঝখানে আরএনএ চেইন এবং বাইরে এর ফ্যাট বা লিপিডের স্তর। ফ্যাটের গায়ে স্পাইকের মতো চারদিকে এর প্রোটিন সন্নিবেশিত থাকে। স্পাইকগুলো এর টুলস। এর মাধ্যমে ভাইরাসটি বিভিন্ন বস্তু বা মানবদেহের বিভিন্ন কোষের গায়ে আটকে থাকার চেষ্টা করে। অনেকটা গোলাকৃতি ভাইরাসটির আয়তন ১২০ নেনোমিটার। ওজনে অপেক্ষাকৃত ভারী হওয়ায় বাতাসে বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে না। সাধারণত হাঁচি-কাশির শ্লেষ্মার সঙ্গে মানবদেহ থেকে বের হয়ে বেশিদূর যেতে পারে না। এটি নিচে মাটি, ফ্লোর বা কোনো বস্তুর ওপর থিতু হয়।

ভাইরাসটি মানবদেহের বাইরে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ এর কোনো চলনশক্তি বা বংশবিস্তার করার ক্ষমতাÑ কোনোটিই থাকে না। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলে এর বাহন প্রয়োজন হবে। মাটি বা ফ্লোরে হাঁচি, কাশির শ্লেষ্মা, থুতু কারও পা, জুতা, গাড়ির চাকা ইত্যাদির সংস্পর্শে, কোনো বস্তু থেকে হাত বা দেহের সংস্পর্শের মাধ্যমে অন্য বস্তু যেমনÑ মোবাইল ফোনসেটের স্ক্রিন, তালা-চাবি, ল্যাপটপ, রিমোট কন্ট্রোল, ঘড়িতে আটকে থেকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। কোনো বাহনের সাহায্যে মানবদেহে প্রবেশ করতে না পারলে ভাইরাসটি পরিত্যক্ত অবস্থায় নিজ থেকে ক্ষয় হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এটি হলো করোনা ভাইরাসের একটি দুর্বলতা। সাধারণত কাপড়ে ৩ ঘণ্টা, কাঠ-কপার ইত্যাদিতে ৪ ঘণ্টা, কাঠবোর্ডে ২৪ ঘণ্টা, মেটালে ৪২ ঘণ্টা, প্লাস্টিকে ৭২ ঘণ্টা ভাইরাসটি এর অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারে। কাপড়ে এটি কয়েক ঘণ্টা থাকলেও একদম নির্জীব অবস্থায় থাকে। এ অবস্থায় কাপড় না ঝাড়াই ভালো। এতে ভাইরাসটি বাতাসে ছড়িয়ে নাক-মুখে ঢোকার সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। আর্দ্রতা ও ঠা-ায় ভাইরাসটি অধিকতর সতেজ থাকে। ফলে শুষ্ক আবহাওয়া, আলো-বাতাস ও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপমাত্রা ভাইরাসের জন্য এক ধরনের অস্বস্তি।

দ্বিতীয় দুর্বলতা হলো ভাইরাসটির দৈহিক গড়ন। ভাইরাসের বাইরের দিকের তৈলাক্ত বা ফ্যাটের আস্তরণটি সাবান পানি দিয়ে ধুলে (২০ সেকেন্ড) নষ্ট হয়ে যায়। ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলও একই কাজ করে। বাইরের তৈলাক্ত আবরণটির অবর্তমানে ভাইরাসের বাকি অংশটি মুখ থুবড়ে পড়ে অর্থাৎ ভাইরাসের বিলুপ্তি ঘটে। আবার ব্লিচিং পাউডারের সংস্পর্শে এলে ভাইরাসের প্রোটিন অংশটি ডিনেচার্ড বা ক্ষয় হয়ে যায়। এ অবস্থাতেও ভাইরাসের বিলুপ্তি ঘটে।

দেখা যাচ্ছে, ভাইরাসের বিলুপ্তির দুটি পথ খোলা আছে। একটি হলো বারবার হাত-মুখ সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে; ব্লিচিং পাউডার দিয়ে কাপড়চোপড়, মেঝে, জুতার তলা, গাড়ির চাকা নিয়মিত ধুয়ে, মোবাইল ফোনসেটের স্ক্রিন, ল্যাপটপ ইত্যাদি দৈনন্দিন ব্যবহৃত বস্তু স্যানিটাইজার দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কারের মাধ্যমে সরাসরি ভাইরাসটিকে ধ্বংস করা। দ্বিতীয় পথটি হলো হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে, মাস্ক পরে, যত্রতত্র থুতু ফেলা বা নাক ঝাড়া পরিহার করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভাইরাসটিকে নিজ থেকে বিলুপ্ত হতে সাহায্য করা। এটি হলো করোনা ভাইরাসের একটি দুর্বলতা। মনে রাখতে হবে মানবদেহে ভাইরাসের প্রবেশদ্বার প্রধানত শ্বাসনালি হলেও মুখ ও চোখÑ উভয়ই ভূমিকা রাখতে পারে। তাই নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। স্পর্শ করার আগে হাত ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজে বাঁচুন ও অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করুন।

ডা. মো. ছায়েদুল হক : এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমএস (চক্ষু)

চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন, সহযোগী অধ্যাপক (অব) কনসালট্যান্ট

আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার

advertisement