advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন সাব্বির

৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ১৩:৫৩
সাব্বির রহমান। পুরোনো ছবি
advertisement

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ১৭ ক্রিকেটার এবং চুক্তির বাইরে যে ১০ ক্রিকেটার গত তিন মাসে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন, তাদের বেতনের ৫০ শতাংশ দেবেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে রুবেল, মোসাদ্দেকরা দুস্থদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করেছেন। এই দুর্যোগের সময় বসে নেই সাব্বির রহমানও। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ব্যাটসম্যান ইতোমধ্যে ৫০০টি মাস্ক এবং ৩০০টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার মসজিদে বিতরণ করেছেন। এ ছাড়া আড়াইশ পরিবারের মাঝে আগামীকাল চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য বিতরণ করবেন।

পদ্মাপারের এই ক্রিকেটার জাতীয় দল ছাড়াও আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সুসান্ত উৎসবকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। বিস্তারিত-

কোথায় আছেন?

সাব্বির : রাজশাহীতে। আমার বাসায়।

করোনা ভাইরাসের কারণে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ বন্ধ রয়েছে। লম্বা সময়ের জন্য ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হচ্ছে আপনাদের। নিজেকে ফিট রাখতে এ সমটায় কী ধরনের কাজ করছেন?

সাব্বির : আমি এখন ব্যাটিং-বোলিং করছি না। বেসিক্যালি জিম এবং রানিং করছি। সপ্তাহে তিন দিন জিম, তিন দিন রানিং। একদিন বিশ্রাম। যে কয়দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকব এই রুটিন অনুসরণ করার চেষ্টা করব। খেলায় ফিরলে তখন আবার ব্যাটিং, বোলিং নিয়ে অনুশীলন করব।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন আপনার জাতীয় দলের সতীর্থরা। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগেও রুবেল, মোসাদ্দেকরা দুস্থদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করেছেন। আপনি দুস্থদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা?

সাব্বির : দুই দিন আগে রাজশাহীতে আমি যে মসজিদে নামাজ পড়ি সেখানে ৫০০ পিস মাস্ক এবং ৩০০টা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়েছি। এ ছাড়া পরশু (আগামীকাল) এলাকার ২৫০ গরিব পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, সাবান বিতরণ করার ইচ্ছে আছে। আমার এলাকার কিছু বিত্তবান মানুষের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ওনারা খুব উৎসাহিত। ওনারাও নিজ উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করছেন। সত্যি বলতে কি, আমি কী করছি তা জানাতে ইচ্ছুক না। ওমরাহ করার পর আমার মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমি শোঅফ করতে পারি; কিন্তু এটা করার কোনো ইচ্ছে নেই।

আবারও ক্রিকেটে ফেরা যাক! জাতীয় দলকে কতটা মিস করেন?

সাব্বির : জাতীয় দলকে তো অবশ্যই অনেক মিস করি।

জাতীয় দলে ফেরাটা আপনার জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন?

সাব্বির : প্রতিটা ক্ষেত্রেই সব সময় আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। কোনো না কোনোভাবে আমি যদি প্রিমিয়ার লিগটা ভালো খেলতে পারি আল্লাহর রহমতে যদি লিগ হয় বা না-ও হয় তা হলে পরবর্তী কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে সুযোগ পেলে নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি শিওর আমি যদি ২-১টা সিরিজ ভালো খেলতে পারি তা হলে আবার জাতীয় দলে কামব্যাক করার আশা আছে আমার।

সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় নিশ্চয়?

সাব্বির : হ্যাঁ, যোগাযোগ হয়।

কাদের সঙ্গে? তারা আপনাকে কী ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন?

সাব্বির : ঠিক পরামর্শ না। তামিম ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয়। এ ছাড়া মুশফিক, মাশরাফি, রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। এই ৫-৬ জন সিনিয়রের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। ওনারা যেটা বলেন তা হলো ধৈর্যের চেয়ে বড় জিনিস কিছু নেই। ধৈর্য ধর। কিছু ভালো ম্যাচ খেল। তুই তো একবার নিজেকে প্রমাণ করেছিস, এবারও নিজেকে প্রমাণ করতে বেশি সময় লাগবে না। ২-১টা ভালো ম্যাচ খেললেই আবারও দলে কামব্যাক করবি।

সব শেষ বিপিএলে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের হয়ে ১১ ম্যাচে ২০৪ রান করেছেন। নিজের পারফরম্যান্সে আপনি কি সন্তুষ্ট?

সাব্বির : না। আমি যা দিতে চেয়েছি তা পারিনি। আমি চেষ্টা করেছি। একটা কথা কি, আপনি যদি পাঁচ বছরে দশটা কোচের অধীনে অনুশীলন করেন তা হলে ১০টা মাইন্ড নিয়ে আপনাকে খেলতে হবে। কেউ বলবে প্রথম বলে ছয় মার, কেউ বলবে ১০টা বল খেল, কেউ বলবে একটু সময় নিয়ে খেল, সবকিছু যখন গুলিয়ে ফেলবেন তখন জিনিসটা কিন্তু আপনার বিপক্ষে চলে যাবে। টি-টোয়েন্টি এমন একটা খেলা যদি আপনি ২-৩টা ম্যাচে রান না করতে পারেন তা হলে কিন্তু চাপটা সবসময় আপনার দিকেই চলে আসবে। তখন আপনাকে ডু অর ডাই কিছু করতে হবে। অনেক সময় হয়নি। মেন্টালি সাপোর্ট করেনি। সত্যি বলতে কি, আমি এখনো শিখছি। শেখার কোনো শেষ নেই। এখনো চেষ্টা করছি। ওমরাহ করার পর আমার মাথা আরও বেশি কাজ করছে। মানুষ একটা সময় পার করার পর সে তার ভুলগুলো বুঝতে পারে। আমি আমার ভুলগুলো বুঝতে পারছি এবং নিজের টেকনিক্যালি, মেন্টালি, ফিজিক্যালি যেগুলো দরকার সেগুলো পরিবর্তন করার চেষ্টা করছি।

ক্রিকেট ছেড়ে এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে কথা বলি। বিয়ের পরের সাব্বির কতটা পরিণত?

সাব্বির : বিয়ের পর সাব্বির অনেক পরিণত (হাসি)। দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। নিজের পরিবার তো আছেই সঙ্গে আরেকটা পরিবার যোগ হয়েছে। দুইটা পরিবারের দায়িত্ব এখন আমার। তা ছাড়া বয়স তো আস্তে আস্তে বাড়ছে, কমছে না। ম্যাচিউরিটি আস্তে আস্তে বাড়ছে। জ্ঞান, বুদ্ধি বাড়ছে। সবকিছু ভালোমতোই মেইনটেইন করতে পারছি। এর আগে খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে পরিবারকে খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। এখন হোম কোয়ারেন্টিনের জন্য পরিবারকে সময় দিতে পারছি। খুব ভালো লাগছে।

 

advertisement
Evaly
advertisement