advertisement
advertisement

মুরগির বার্ডফ্লু সংক্রমণে আনা পিপিই করোনা মোকাবিলায়

উত্তম ঘোষ যশোর
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩৫
advertisement

নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসকদের জীবনের নিরাপত্তায় অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম (পিপিই)। তবে দেশের ইতিহাসে এমন ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলার প্রয়োজন না হওয়ায় বিপুল পরিমাণ পিপিই সংরক্ষণ কোনো দেশেই ছিল না। পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত পিপিই নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। ‘করোনা আতঙ্কের’ এই পরিস্থিতিতে সাধারণ রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রেও পিপিই ছাড়া চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন এলাকায়। উপজেলা পর্যায়ে অধিকাংশ হাসপাতালে পিপিই না থাকায় সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশি রোগীর সামনেও আসছেন না চিকিৎসকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা।

বাংলার আবহমানকাল থেকেই প্রবাদ আছে, ‘ভাঙা কুলাটাও ছাই ফেলতে কাজে লাগে।’ সেই ‘মিথ’ করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বাস্তবে রূপ পেল। পিপিই সংকট জানতে পেরে দেশে ‘মুরগির বার্ডফ্লু’ সংক্রমণকালে আনা অব্যবহৃত পিপিই করোনা মোকাবিলায় হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে মুরগি ফার্মে বার্ডফ্লু ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করে, ওই প্রাদুর্ভাব চলে ২০১০ সাল পর্যন্ত। সে সময় প্রাণী চিকিৎসকদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইউএসআইডিসহ কয়েকটি বিদেশি সংস্থা উন্নত মানের পিপিই সরবরাহ করে। এমনকি কিছু পিপিই সরকার ক্রয় করে। তবে গত ১০ বছর ধরে প্রাণিসম্পদে এ ধরনের কোনো সংক্রমণ না হওয়ায় ওইসব পিপিই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। তবে সম্প্রতি করোনা মোকাবিলায় পিপিই সংকট সৃষ্টি হওয়ায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, যেখানে যত পিপিই আছে, তা থেকে নিজেদের জন্য যৎসামান্য রেখে যেন স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে চিকিৎসকদের কাছে সরবরাহ করা হয়। সে অনুযায়ী প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সব বিভাগীয় ও জেলা দপ্তরের মাধ্যমে উপজেলা দপ্তরগুলোকে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সারাদেশে ১২ হাজার ৫৫৬টি পিপিই সরবরাহ করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ বলেন, প্রাণিসম্পদ থেকে পাওয়া পিপিই খুবই উপকারে এসেছে। এই জরুরি সময়ে চিকিৎসক-পুলিশের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশ ফেরত যারা কোয়ারেন্টিন মানছেন না তাদের সংস্পর্শে যেতে হলেও তো পিপিই আবশ্যক। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভা-ারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম প্রাণিসম্পদ থেকে পাওয়া পিপিই চিকিৎসকদের মাঝে বিতরণ করেছেন। জানা গেছে, পিরোজপুর জেলায় ১৫৭টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া যশোরের চৌগাছা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থানীয় ইউএনও স্যারের কাছে ২৪টি পিপিই হস্তান্তর করেছি। জানিয়েছি, খুব বেশি প্রয়োজন হলে আরও দিতে পারব। এই আপৎকালীন সময়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মানুষের সেবা সংশ্লিষ্ট কাজে সহযোগিতা করতে পেরেছে ভেবে ভালো লাগছে।

advertisement