advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টেলিসেবা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩৫
advertisement

বগুড়া শহরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সাধারণ জ্বর-সর্দির পাশাপাশি অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সংকট দেখা দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে গত কয়েকদিন থেকে শহরের কয়েকটি ক্লিনিকে অনেক চিকিৎসক রোগী দেখা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ক্লিনিকগুলোতে রোগীও কয়েকগুণ কমে গেছে। চিকিৎসকরা টেলিসেবা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সর্দি-কাশি, জ্বর, মাথা ব্যথাসহ সাধারণ অসুখগুলোর জন্য শহরের অধিকাংশ মানুষ বগুড়া শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে মঙ্গলবার থেকে ওই হাসপাতালকে কোভিড ১৯-এর জন্য পুরোপুরি আইসোলেটেড করা হয়েছে। অন্যদিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল শহর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিতে শহরের লোকজন বাড়ির আশপাশের ক্লিনিকগুলোতে গেলেও প্রায় ক্লিনিকেই চিকিৎসকের দেখা মিলছে না। বগুড়া জেলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে ২৫০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে। এর মধ্যে বগুড়া সদরেই রয়েছে ১৫০টির মতো।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিএম সাকলায়েন জানান, ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কমে গেছে। এ ছাড়া গত কয়েকদিন থেকে চিকিৎসকরাও ঠিকমতো আসছেন না। ফলে সাধারণ চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসকের কাছে এখনো পার্সোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) নেই। করোনা ভাইরাসের কারণে তাই তারা স্বাভাবিকভাবেই জ্বর-সর্দি-কাশি দেখলে কিছুটা শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। এ কারণে তারা যতটা সম্ভব টেলিসেবা দিতে চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. রেজাউল আলম জুয়েল বলেন, ইতোমধ্যে আমিও জানতে পেরেছি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসকরা যাওয়া কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি জ্বর, সর্দি-কাশির রোগীদের যতটা সম্ভব বাড়ি রেখে টেলিফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার। মূলত করোনা ভাইরাসের কারণে সবাই যেন বিচ্ছিন্ন থাকে, এজন্যই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এখন আমরা টেলি স্বাস্থ্যসেবাকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং জনবহুল এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার হটলাইন নম্বরগুলো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওয়াদুদ জানান, কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্য শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালকে যেহেতু বিশেষায়িত করা হয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই এই হাসপাতালের ওপর চাপ কিছুটা বেশি পড়বে। তাই আমাদের সিদ্ধান্ত হাসপাতালে আসা প্রতিটি রোগীই যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা পান। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে রোগীদেরও আমরা সচেতন করার চেষ্টা করছি। তারা যেন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে না এসে বাড়িতে থেকেই টেলিফোনের মাধ্যমেই স্বাস্থ্যসেবা নেন।

advertisement