advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাঙামাটিতে সেই পাঁচ গ্রামের ব্যারিকেড ভাঙল প্রশাসন

রাঙামাটি প্রতিনিধি
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩৫
advertisement

করোনা প্রতিরোধের নামে রাঙামাটি শহরের অভ্যন্তরীণ পাঁচটি সড়কে গ্রামের মুখে ‘লকডাউন’ করা সেই ব্যারিকেড গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। রাঙামাটির নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ এ অভিযান চালান। তবে সড়কে ব্যারিকেড দেওয়ার বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত ও অতি উৎসাহীদের বাড়াবাড়ি বলে দাবি করেছেন অনেকেই।

এদিকে সরকার বা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এভাবে কোনো রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑ রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের এমন ঘোষণার পরই শনিবার রাতে এ অভিযান চালানো হয়।

শহরের গর্জনতলী, পশ্চিম ট্রাইবেল আদাম, পাবলিক হেলথ, বন বিহারে প্রবেশপথে কেকে রায় সড়ক, চম্পনগর এলাকায় সড়কে ব্যানার টানিয়ে বাঁশ ও গাছ দিয়ে এই ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এতে জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হয়।

প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গত দুই দিনে এসব এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে যান ও জনচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রকাশ্য নোটিশ টানিয়ে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নোটিশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

প্রথমেই শহরের গর্জনতলী এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ওই এলাকায় চলাচলের সড়কটি বন্ধ করে দেয় বলাকা ক্লাব নামে স্থানীয় একটি সংগঠন। এর পর থেকেই অন্য চার এলাকায় সড়কে একইভাবে ব্যারিকেড দিয়ে ‘লকডাউন’ ঘোষণা দেয় স্থানীয়রা। রাঙামাটির বনরূপা ‘ছদক’ ক্লাবের সভাপতি রিন্টু চাকমা বলেন, করোনা নিয়ে অতি উৎসাহীরা বাড়াবাড়ি করছেন। এটা ঠিক না। কেউ মানুষ ও যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দিতে পারে না।

গতকাল রবিবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গর্জনতলীর মুখে টানানো ‘লকডাউন’ নামের ব্যানার নেই। অপসারণ করা হয়েছে ব্যারিকেডও। বন বিহারে প্রবেশপথে কেকে রায় সড়কে ব্যারিকেড-ব্যানারও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে পাশেই রাখা সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে মানুষ চলাচল করছে। অন্য তিনটি সড়কেও ব্যারিকেড অপসারণ করা হয়েছে।

গর্জনতলীতে ব্যারিকেড দেওয়া বলাকা ক্লাবের সভাপতি ঝিনুক ত্রিপুরা বলেন, করোনা ভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে সে জন্য এলাকাবাসীর উদ্যোগে লকডাউন করা হয়েছিল। পশ্চিম ট্রাইবেল আদামের বাসিন্দা সুমন চাকমা (৩৫) বলেন, গ্রামের মানুষের নিরাপত্তার জন্য এটা করা হয়েছিল।

বন বিহারে প্রবেশপথে কেকে রায় সড়কের দোকানদার সমিতির সদস্য তপন দে ও প্রদীপ দাশ বলেন, এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশপথ বন্ধ করেছি। গ্রামের লোকজন হাত ধুয়ে প্রবেশ করবে।

এনডিসি উত্তম কুমার দাশ বলেন, মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে; সড়কে ব্যারিকেড দিতে নয়। অতি উৎসাহী হয়ে বাড়াবাড়ি করে কেউ সরকারি কাজে ব্যাঘাত ঘটালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement