advertisement
advertisement

আইন অমান্য করে জনসমাগম

ফুলবাড়ী, ভূঞাপুর ও রাজৈর প্রতিনিধি
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩৫
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকার জনসাধারণকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে বারণ করেছে। জনসচেতনতায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কাজ করছে। তার পরও আইন বা নিয়ম মানছে না অনেক এলাকার জনগণ। এমন কয়েকটি স্থানের খবর নিয়ে প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

ফুলবাড়ী : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসংখ্যবার সচেতন করা হলেও হাটবাজারগুলোয় বাড়ছে জনসমাগম। গতকাল পৌরবাজারসহ আশপাশের গ্রামগঞ্জের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ-মাংস, মুরগি, মুদিখানা ও সবজি দোকানগুলোয় অহেতুক লোকজন ভিড় করছে। কেউ কেউ আড্ডা দিচ্ছে। আবার কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভাইরাসটি সংক্রমিত হতে পারে জেনেও সচেতন নয় তারা। বাজার করতে আসা শহিদুল ইসলাম ও মিলন সাহা জানান, শাক-সবজি ও কিছু মসলা কিনতে বাজারে এসেছেন। তবে অনেক মানুষ বাজারে অহেতুক ঘোরাফেরাসহ আড্ডা মারছেন, যা মোটেও উচিত নয়।

মুদি দোকানদার সুশীল পাল ও শাকিল ইসলাম বলেন, দোকানে কাউকে ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না। যার যা লাগছে কিনেই সঙ্গে সঙ্গে চলে যাচ্ছেন। তবে পথে কিছু লোক ঘোরাফেরা করছে। তারা কিছুই কিনছে না।

তবে কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদ, মমতাজ উদ্দিন বলেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, কাঁচাবাজার করতে বহু লোক আসছে। তাদের কারণে কিছুটা জনসমাগম ঘটছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনানুযায়ী ভিড় জমতে দেওয়া হচ্ছে না। একে একে বাজার করে ফিরে যাচ্ছে সবাই।

রিকশা-ভ্যানচালক কাশেম আলী, শফিক, রবি রায় ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বাড়ি বসে থাকলে খাব কী? পেটের দায়ে বাসা থেকে বের হতে হচ্ছে। লোকজন বাজারে থাকায় ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম চৌধুরী জানান, উপজেলা প্রশাসন, সেনাসদস্য, থানাপুলিশসহ জনপ্রতিনিধিরা জনসমাগম ঠেকাতে কাজ করছেন। তবে অহেতুক কেউ জনসমাগম ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূঞাপুর : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সাপ্তাহিক ও দৈনিক হাটবাজারগুলোয় মানুষের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখছে না তারা। উপজেলার কয়েকটি হাটবাজারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গতকাল সরেজমিন উপজেলার গোবিন্দাসী হাটে মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা না মেনে হাটবাজারে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কোনো আইনের তোয়াক্কা না করে বামনহাটা, গাবসারা হাট, অজুর্নার গোবিন্দপুর, নিকরাইল ও পৌরসভার শিয়ালকোল হাটে প্রচুর মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। এ ছাড়া দৈনন্দিন বাজারগুলোয় মানুষের ভিড় বাড়ছে। প্রশাসন ওইসব হাটবাজারে অভিযান চালানোর পরপরই পুনরায় লোক সমাগম বাড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন জানান, হাটবাজার বন্ধে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তবে বাজার কমিটি এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের অসহযোগিতার কারণে শতভাগ সফলতা আসেনি।

রাজৈর : উপজেলা প্রশাসন, থানা, পৌরসভা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো করোনা প্রতিরোধে সর্বাত্মক সচেতনতামূলক প্রচার চালালেও কোনো রকম নিয়ম বা আইনের তোয়াক্কা না করে সাপ্তাহিক হাটের দিন থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিদিন সকাল-বিকাল মাদারীপুরের টেকেরহাট বন্দরের বাজারে হাজারও মানুষ ভিড় করছে। গোপনে বা প্রকাশ্যে চলছে চায়ের দোকানে আড্ডা। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির আশঙ্কা করছে।

এ ব্যাপারে ওসি শওকত জাহান বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তার পরও বাজারে লোকসমাগম বাড়ছে। তার পরও আমরা আগত মানুষদের বুঝিয়ে শুনিয়ে ঘরে ফেরানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালাব।

advertisement