advertisement
advertisement

শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিককেন্দ্র ঘিরে সংস্কৃতিকর্মীদের স্বপ্ন

ইন্দ্র সরকার মোহনগঞ্জ
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩৫
advertisement

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিককেন্দ্রের নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দৃশ্যমান হয়েছে মুক্তমঞ্চ, মহড়াকক্ষ, গ্রন্থাগার, দোতলা ভবন, মেলা মার্কেট ও প্রতিরক্ষা দেয়াল। চলতি বছরের শেষে সব কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে জেলা গণপূর্ত বিভাগ। এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন দুই বাংলার সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত বিভাগ। এটি বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলের জীবন ও সংস্কৃতি পাল্টে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের স্বরলিপিকার, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতসাধক ও রসায়নবিদ আচার্য্য শৈলজারঞ্জন মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে তার পৈতৃক ভিটা মোহনগঞ্জের বাহাম গ্রামে ওই সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর ময়মনসিংহ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ও বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রকল্পে সরকারিভাবে অর্থায়ন (জিওবি) করা হচ্ছে। যৌথভাবে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি ও বাছেদ প্রকৌশলী কাজটি করছে।

নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসিবুর রহমান জানান, এ প্রকল্পের ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলতি বছরের শেষে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী।

ওপার বাংলার বিশ্বভারতী পাঠ ভবনের সাবেক উপাধ্যক্ষ সুব্রত সেন মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ সরকার শৈলজারঞ্জনের স্মৃতি রক্ষার্থে ‘শৈলাজারঞ্জন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নির্মাণ করছে। এতে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক যোগসূত্র আরও শক্তিশালী হবে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অমল সরকার বলেন, শৈলজারঞ্জন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চালু হলে এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক কর্মকা- পুরোটাই পাল্টে যাবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নেত্রকোনা তথা ময়মনসিংহ জেলার প্রাচীন শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন উৎসব উদযাপন করা হবে এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে।

মোহনগঞ্জের বাহাম গ্রামে ১৯০০ সালের ১৯ জুলাই জন্মগ্রহণকারী শৈলজারঞ্জন মজুমদার ১৯৩৯ সালে শান্তিনিকেতনের সংগীত ভবনের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৫ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘দেশিকোত্তম’ সম্মাননা পান। তিনি ১৯৯২ সালের ২৪ মে ইহলোক ত্যাগ করেন।

advertisement