advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নওগাঁর সেই যুবক মারা গেছেন আক্রান্ত ছিলেন মেনিনজাইটিসে

নওগাঁ প্রতিনিধি
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৩৫
advertisement

নারায়ণগঞ্জ থেকে নওগাঁর রাণীনগরে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে আসা আল আমিন (২২) মারা গেছেন। গত শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে নয়, আল আমিন মারা গেছেন মেনিনজাইটিস রোগে।

গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে নিজ গ্রামে আল-আমিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের অলঙ্কারদীঘি গ্রামের কৃষক মকলেছুর রহমানের ছেলে। পরিবারের অভিযোগÑ করোনা ভাইরাস সন্দেহে তিনটি হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন আল আমিন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আল আমিন বাড়িতে ভারী কোনো কাজ করতে পারতেন না। তার বাবা একজন কৃষক। পেটের তাগিদে প্রায় ৩-৪ বছর আগ থেকে নারায়ণগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। কয়েক দিন আগে থেকেই আল আমিন জ্বর আর কাশি নিয়ে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সাকালে তিনি প্রচ- জ্বর আর কাশি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাণীনগরে আসেন। এ সময় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামের কতিপয় লোক তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেননি। চিকিৎসার জন্য তাকে নওগাঁ সদর ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা না করে ফিরিয়ে দেন। এর পর আবারও তাকে নিয়ে এসে নিজ গ্রামের পাশে ভেটি কমিউনিটি ক্লিনিকের বারান্দায় রাখা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু ম-ল বিষয়টি জানতে পেরে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় আল আমিনকে চিকিৎসার জন্য রাণীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠান। অবশেষে তিন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

মকলেছুর রহমান জানান, তার ছেলে আগে থেকেই এই রকম রোগে ভুগছে। নারায়ণগঞ্জে কাপড়ের দোকানে কাজ করে যা বেতন পেত, তা দিয়ে নিজের চিকিৎসা করত, আর নিজে চলত। বাড়িতে কোনো টাকা দিতে পারত না।

গতকাল স্থানীয় কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু বলেন, আল আমিন যে মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন, চিকিৎসক তার মৃত্যুসনদে বিষয়টি নিশ্চিত করে দিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, ছেলেটা করোনা ভাইরাসে আক্রান্তÑ এমন খবর পাওয়ার পর পরিবারকে মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে গ্রামে আসতে বলা হয়েছিল। গ্রামের সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বাধা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন, তার শরীরে প্রচ- জ্বর ছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

advertisement