advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কবিরাজ বৈদ্যের কাছে ছুটছে মানুষ

রফিকুল ইসলাম খাগড়াছড়ি
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৪১
advertisement

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আতঙ্ক জুড়ে বসেছে সমাজের সর্বস্তরে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বারবার মানুষকে দিচ্ছেন কিছুক্ষণ পরপর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলাসহ নানা পরামর্শ। সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সরকার থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। দেশজুড়ে চলছে কার্যত লকডাউন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে মানা করা হয়েছে ঘর থেকে বের হতে। কিন্তু পার্বত্য এলাকা খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় চিত্র যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাহাড়ি এই জনপদের মানুষরা এসব বিধিনিষেধের ধারই ধারছেন না বরং করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে তারা এখনো বিশ্বাস রাখছেন ঝাড়-ফুঁক, তাবিজে। শুধু তাই নয়, কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাজারে, দোকানপাটে। দিচ্ছেন আড্ডা, দল বেঁধে যাচ্ছেন প্রার্থনায়ও।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন স্থানে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে জেলা প্রশাসন। ঢিলেঢালা হলেও চলছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কার্যক্রমও। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। সেখানকার অনেকেই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সচেতনতার কথা শুনলেও তা মানছেন না। যদিও দেশজুড়ে কার্যত লকডাউনের কারণে খাগড়াছড়িতে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারি ছুটি ঘোষণার পর ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই এ জেলায় এসেছেন। তাদের অনেকে আবার ঢুকে গেছেন প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও। ফলে তাদের মাধ্যমে ওইসব অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পানছড়ি উপজেলার পাইয়ংকারবারী পাড়ার শিবু জয় ত্রিপুরা জানান, তাদের বিশ্বাস করোনা মহামারী ওই এলাকায় আক্রমণ করবে না। কারণ মহামারী থেকে রেহাই পেতে এরই মধ্যে তারা গঙ্গা পূজা দিয়েছেন। গ্রামের অনেকেই কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ এনে ব্যবহার করছে। ভাইবোন ছড়া এলাকার মংসানু মারমা

জানান, করোনার মতো মহামারী থেকে রেহাই পেতে তাদের এলাকার বিহারে বিহারে সূত্র পাঠ করা হয়েছে। এই সূত্রের ফলে মহামারী তাদের এলাকায় প্রবেশ করবে না বলে তাদের বিশ^াস।

পানছড়ি উপজেলার হিরেনজয় কারবারি পাড়ার প্রশান্ত চাকমা জানান, তাদের বিশ্বাস ওই এলাকায় করোনা ভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটবে না। এই রোগ যেন না ছড়ায় সেজন্য এরই মধ্যে তাদের বৈদ্য মন্ত্র পড়ে এলাকার সীমানা ঘিরে রেখেছেন। তা ছাড়া পরিবারের সবাই কবিরাজ থেকে তাবিজ নিয়েছে শরীর বন্ধ রাখতে।

পানছড়ির স্থানীয় কবিরাজ অগ্যজয় মারমা জানান, তিনি ২৬ বছর ধরে কবিরাজি করছেন। এ এলাকার প্রতিটি মানুষ তার কাছ থেকে তাবিজ নিয়ে রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এখন পৃথিবীতে যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ছে তা থেকে গ্রামগুলোকে বাঁচাতে তিনি গঙ্গা পূজা ও মন্ত্রের মাধ্যমে কাজ করছেন।

পানছড়ি থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, দুর্গম এলাকা হওয়ায় পাহাড়ের ভেতরের পাড়াগুলোতে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। পুলিশ বেশ কয়েকটি এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে।

জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই মানুষকে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। তারপরও পাহাড়ের কিছু কিছু এলাকা কুসংস্কারে ভরপুর। সেসব এলাকায়ও সচেতনতা সৃষ্টিতে আমরা চেষ্টা করছি। কিছু কিছু এলাকায় দোকানপাট খোলা ও জমায়েতের খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

advertisement