advertisement
advertisement

মেয়র নাছির করোনা ঠেকাতে সক্রিয়

হামিদ উল্লাহ চট্টগ্রাম
৩০ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ ০০:৪১
advertisement

করোনা ভাইরাসের এ আতঙ্কের দিনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছেন। এছাড়া ঘরবন্দি মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে নগদ অর্থ ও খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করছেন। গত তিনদিন নগরীতে প্রতিদিন নিজেই ছিটাচ্ছেন জীবাণুনাশক পানি।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থেকে রক্ষায় সরকার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন বন্ধ হওয়ার পর বেশিরভাগ প্রার্থী আর জনসম্মুখে দেখা যায় না। তবে করোনা ভাইরাসের এ আতঙ্কের দিনে আ জ ম নাছির উদ্দীন তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এই বর্তমান মেয়র।

চসিক গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদিন নগরীতে ৪২ হাজার লিটার জীবাণুনাশক পানি ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সম্ভাব্য করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য সিটি করপোরেশনের একাধিক হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকারও ঘোষণা দিয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। এখনো ক্ষেত্রবিশেষে রাত ১০টা পর্যন্ত তিনি নগর ভবনে দাপ্তরিক কাজ করে চলেছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি নিজ গাড়িতে মাইক লাগিয়ে শহরে সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছেন। ব্যক্তিগতভাবে ঘরে থাকা মানুষকে নগদ টাকা ও খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করছেন। গত তিনদিনে নগরীতে প্রতিদিন নিজেই ছিটাচ্ছেন জীবাণুনাশক পানি।

গত শনিবার তিনি নগরীর দামপাড়া, খাতুনগঞ্জ, মেহেদীবাগ ও সদরঘাট এলাকায়

নিজেই ছিটান ভাউজারে করে আনা জীবাণুনাশক পানি। চসিকের তিনটি গাড়ি দিয়ে এই পানি নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্লিচিং পাউডারও সরবরাহ করা হচ্ছে। গতকাল রবিবারও নগরীর চারটি স্থানে চসিকের গাড়ি দিয়ে জীবাণুনাশক পানি ছিটানো হয়। দুপুরে পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ মোকাবিলায় নানা দিকনির্দেশনাও দেন।

মনোনয়ন না পেয়েও এভাব কাজ করায় নগরবাসীর সুনাম কুড়িয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। আমাদের সময়কে তিনি বলেন, মাধ্যমিক স্কুলে লেখাপড়া করার সময় ছাত্রলীগের কর্মকা-ে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তো আমাদের রাজনীতি। করোনা ভাইরাস নিয়ে সারাবিশ্ব সংকটের মুখে। বাংলাদেশে এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে আমাদের বিন্দুমাত্র অবহেলার সুযোগ নেই। আমি জনগণের জন্যই মাঠে আছি এবং তাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মেনে চলাসহ সব কাজ তদারক করছি। এটাই আমার দল ও সরকারের সিদ্ধান্ত।

এবারের চসিক নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ছিলেন ৭ জন। আর ৪১ ওয়ার্ডের জন্য কাউন্সিলর প্রার্থী ১৬১ জন এবং সংরক্ষিত ১২টি মহিলা ওয়ার্ডের জন্য ৫৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।

গত ২১ মার্চ নির্বাচন কমিশন (ইসি) চসিক নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিলে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে মহামারী হয়নি যে নির্বাচন স্থগিত করতে হবে। তিনি প্রচারের সময় বলেছিলেন, সাবান দিয়ে হাত ধোবো, নৌকা মার্কায় ভোট দেবো।

তবে এ মুহূর্তে নির্বাচন মাথায় নেই দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমরা দুর্যোগকালীন সময় পার করছি। সবাই যে যার জায়গা থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সামনে খাবারের সংকটে পড়তে পারে গরিব মানুষ। এ জন্য আমার কিছু পরিকল্পনা আছে। তাদের জন্য চাল, ডাল ও আলু সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি।

বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক বিচ্ছিন্নতা চলছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। শুরুতে ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করেছি। আরও ১০ হাজার মাস্ক বিতরণের জন্য প্রস্তুতি আছে। এখন নানাভাবে সামাজিক সচেতনতা ও সুরক্ষার কাজ করছি।

advertisement