advertisement
advertisement

১০ দিনের ছুটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে : ডা. জাহিদ হক

আমাদের সময় ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০০:১৬
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে দেশব্যাপী ১০ দিনের ছুটির পাশাপাশি সেনা মোতায়েন বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সঙ্গে আলাপকালে গতকাল সোমবার জাতিসংঘের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. জাহিদ হক এ কথা বলেন। আগামী কিছুদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি এই ছুটি কমপক্ষে আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর

পরামর্শ দিয়েছেন।

ডা. জাহিদ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো। করোনা ভাইরাস মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে এই চিকিৎসক বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন।

জাতিসংঘের এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গত দুদিন কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়েনি। আজ (গতকাল) একজন শনাক্ত হয়েছে। সরকার ঘোষিত ১০ দিনের ছুটি যে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এমন দৃশ্যপট থেকে তা বোঝা যাচ্ছে। ভাইরাসের বিস্তার হ্রাস করার ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সফল করতে সেনা মোতায়েন করাটা সরকারের আরেকটি বড় পদক্ষেপ।

জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের’ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জাহিদ হক বলেন, বাংলাদেশে এই মহামারীর চরিত্র অনুধাবনের ক্ষেত্রে আগামী কিছুদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দেশব্যাপী এই ছুটির মেয়াদ কমপক্ষে আরও এক সপ্তাহের জন্য বাড়ানো উচিত। তিনি আরও বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রচার চালানো উচিত। এ ক্ষেত্রে বিএনসিসি ক্যাডেটস এবং রোভার স্কাউটদের ডাকা যেতে পারে। আমাদের বার্তাটি হলো, আতঙ্কিত হবেন না। সবাই যদি সরকারের স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুসরণ করেন, তা হলে এটি একটি খুব সাধারণ রোগ।

জাহিদ হক বলেন, কোভিড-১৯ রোগীকেও অন্য সাধারণ ফ্লু রোগীর মতো চিকিৎসা করা যেতে পারে। তবে সবার কাছে অনুরোধ, করোনা ভাইরাস একটি ভাইরাল রোগ, তাই এর চিকিৎসায় কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ব্যবহার করবেন না।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ ভাইরাসটি পাঁচ দিনের মধ্যে শরীরে বিকশিত হয়। এর লক্ষণগুলো দেখা দেয় সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা হলো, রোগীকে শুধু আলাদা করে (আইসোলেটেড) রাখা।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস কোনো বায়ুবাহিত রোগ নয়। এটি সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও কফ এবং তাকে স্পর্শ করার মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। ভাইরাসটি মাটিতে বেশ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। সাধারণ জীবাণুনাশক একে মেরে ফেলতে পারে।

advertisement